৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও

৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। ছবি: বার্তা২৪.কম

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। এই দিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে পতন হয় পাকবাহিনীর।

পাকসেনাদের পতনের পর এ এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দ উদ্বেলিত কণ্ঠে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের পতাকা নিয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে তরুণ-যুবক সবাই।

যে মানুষগুলোর আত্মত্যাগে দেশ শত্রুমুক্ত হয়েছিল তাদের স্মরণে হানাদার মুক্ত দিবস পালনে এবার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সেই সব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

দিবসটি পালনে সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি মুক্তিযোদ্ধাসহ সবার। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকসেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালির ওপর। তাদের প্রতিরোধ করতে সারাদেশসহ ঠাকুরগাঁওবাসীও গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন।

ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল ৬ নাম্বার সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন পাক বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার খাদেমুল বাশার। সমগ্র সেক্টরে ১ হাজার ১২০টির মতো গেরিলা বেইস গড়ে তোলা হয়। ৮ মের আগ পর্যন্ত সুবেদার কাজিম উদ্দিনের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ মে ক্যাপ্টেন নজরুল, কাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে স্কোয়াড্রন সদরু উদ্দিন ও ১৭ জুলাই ক্যাপ্টেন শাহারিয়ার সাব সেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর থানা অঞ্চলে।

২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রু মুক্ত হয়। এরপর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। তারা প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁওয়ে।

৩০ নভেম্বর পাকসেনারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভুল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সর্বত্র বিশেষ করে আখের খামারে মাইন পুতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভুল্লী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে। পহেলা নভেম্বর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে ঢোকে। ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। ওই রাতেই শত্রু বাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর বিজয়ী হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা।

স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ উল্লাস করে এলাকার মুক্তিকামী মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পর কেউ দিবসটি পালনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বেশ কয়েক বছর ধরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মুক্তি শোভাযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, আলোচচিত্র প্রদর্শন, নাটক, সম্মাননাসহ দিনব্যাপী বেশ কিছু অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করছে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আকবর হোসেন বলেন, ‘জেলায় জেলায় যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।’

জেলা ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদর উদ্দীন বদর বলেন, ‘এই ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। ৪৭ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধ করে এ মাসেই দেশ স্বাধীন করেছিলাম।’

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঠাকুরগাঁও সংসদের সভাপতি সেতারা বেগম জানান, দিনটি উদযাপনে সকাল ১০টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংবলিত স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আকবর হোসেন। পরে সাধারণ পাঠাগার চত্বর থেকে বের হয় মুক্তি শোভাযাত্রা, ২টায় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিকেলে শহীদ মিনারে মুক্ত নাটক ও কবিতা আবৃত্তি, সন্ধ্যায় উদীচী জেলা সংসদ, গণসংগীত পরিবেশন করা হবে শহীদ মিনার চত্বরে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড.কে.এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘তিন ডিসেম্বর পাকহানাদার মুক্ত দিবস। এই দিনে মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনী সরাসরি যুদ্ধ হয়। এতে লক্ষাধিক পাকসেনা নিহত হয়। এ কারণেই আমরা আজকের দিনটিকে পাকহানাদার মুক্ত দিবস বলে থাকি। প্রতিবারের মতো এবারো নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।’

জাতীয় এর আরও খবর

৭ ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার!

ঢাকার টিটি পাড়ায় স্টার লাইনের বাস কাউন্টারে পৌঁছেই বোঝা গেলো মহাসড়কের অবস্থা ভালো খুব একটা নয়। বাসের কাউন্টারগু...

//election count down