নানা প্রতিকূলতায়ও সমৃদ্ধ হচ্ছে উপকূলের কৃষি

আব্দুস সালাম আরিফ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সমৃদ্ধ হচ্ছে উপকূলের কৃষি। ছবি: বার্তা২৪.কম

নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সমৃদ্ধ হচ্ছে উপকূলের কৃষি। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পরছে উপকূলের কৃষি ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি দিন দিন কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। গত ১০ বছরে পটুয়াখালী জেলায় ১০৩৯৯ হেক্টর কৃষি জমি অনাবাদী হয়েছে। এর ফলে হুমকির মুখে রয়েছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা। তবে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও উপকূলের কৃষি ব্যবস্থায় উন্নতি হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে ২০০৮ সালে ফসলের নিবিড়তা হার ১৯৯ শতাংশ হলেও ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ শতাংশ। এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় এখন থেকেই সচেতন থাকার পরামর্শ কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এবং আগামী দিনের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলছে কৃষি বিজ্ঞানীরা।

বিশ্ব ঝুঁকি প্রতিবেদন ২০১২ অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ ১৭৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। এই অবস্থায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছে, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন আঘাত হানছে, তেমিন পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ঘটনা উপকূলের কৃষকদের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা আরও বাড়বে।

তবে পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির মধ্যেও উপকূলের কৃষি ব্যবস্থা দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক হৃদয়েস্বর দত্ত জানান, কৃষকদের মাঝে নতুন নতুন ফসলের জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে এই জেলায় ধান, ডাল, ভুট্টা ও সূর্যমুখীর পাশাপাশি বিভন্ন শাক-সবজি ও ফল উৎপাদনে ভালো সফলতা মিলছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পটুয়াখালী রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ ভূঁইয়া জানান, কৃষি ব্যবস্থাপনার হুমকি বিবেচনা করে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সহায়তায় কাজ করছে বিএডিসি। গত দশ বছরে জেলায় ৮০টি খালের ১৪১.৭৭ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের সেচ দেয়ার সুবিধার্থে ৭১.৫০ কিলোমিটার ২-কিউসেক ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা এবং ১৯.২০ কিলোমিটার ১-কিউসেক ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা তৈরি করা হয়েছে। আর সেচ কাজে মিঠা পানি ব্যবহারের জন্য ৫৪টি পুকুর পুনঃখনন কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর ফলে অনাবাদি জমিকেও দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে উৎপাদন বাড়লেও দিন দিন কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। ২০০৮ সালে ২ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর কৃষি জমি থাকলেও ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৬০১ হেক্টরে। এ কারণে কৃষি জমির শ্রেণির পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াকে বন্ধ করার তাগিদ দিচ্ছে কৃষি বিশেষজ্ঞরা।