Alexa

ফুটফুটে শিশু আনারকলিও রক্ষা পায়নি সেদিন

ফুটফুটে শিশু আনারকলিও রক্ষা পায়নি সেদিন

৫ ডিসেম্বর বরিশালের উজিরপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ছবি: বার্তা২৪.কম

আজ ৫ ডিসেম্বর বরিশালের উজিরপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে উজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াইয়ে পতন হয় পাকবাহিনীর।

জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন উজিরপুরের বড়াকোঠার দরগাহ বাড়িকে ৯নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করত মুক্তিযোদ্ধারা। তাই পাক হানাদার বাহিনীর মূল টার্গেট ছিল উজিরপুরের দিকে।

সে কারণেই উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনী দীর্ঘ নয় মাস অগ্নিসংযোগ, হত্যাযজ্ঞসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এছাড়াও ১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর উজিরপুরের ২১টি গ্রামে নারকীয় তাণ্ডব চালায় ঘাতকরা। এ সময় ৭১ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে ধামুড়া বন্দরসহ বেশ কয়েকটি বাজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। ঘাতকদের হাত থেকে সেদিন রক্ষা পায়নি ২ মাসের ফুটফুটে শিশু আনারকলিও।

ঘাতকরা নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে বড়াকোঠা মুক্তিযুদ্ধের হেডকোয়ার্টার আক্রমণের চেষ্টা করে। কিন্তু সেই সময়ের উজিরপুরের মুক্তিকামী দামাল ছেলেরা পাক বাহিনী ও তার দোসরদের মোকাবেলা করে ৫ ডিসেম্বর উজিরপুরকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করে।

ওইদিন কাক ডাকা ভোরে ৩৫ জন রাজাকার আলবদর ও ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী উজিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ সরদারের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশে চূড়ান্ত বিজয়ের ১১ দিন আগেই উজিরপুরকে শত্রু মুক্ত করা হয়। এদিকে উজিরপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উজিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

আপনার মতামত লিখুন :