রাজশাহীতে ৪৮ হাজার কম্বল বিতরণের উদ্যোগ

রাজশাহীর ম্যাপ, ছবি: সংগৃহীত

এখনও পৌষ মাস শুরু হয়নি। অগ্রহায়ণ শেষের দিকে জেঁকে বসেছে শীত। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে উত্তরাঞ্চলে। ভোর থেকে সূর্যের দেখা না মেলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীত বাড়ার পাশাপাশি কষ্ট বাড়ছে নিম্নআয়ের মানুষদের। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শীতের তীব্রতা আরো বাড়বে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এবারের শীতকাল মোকাবেলায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শীতার্ত মানুষদের শীতে সহায়তার জন্য ৪৮ হাজার কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের প্রধান সহকারী আবদুল খালেক জানান, তাদের হাতে এখন ১০ হাজারের মত কম্বল রয়েছে। আরও ৩৭ হাজার ৮০০ কম্বল তারা বরাদ্দ পেয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যে সেগুলো রাজশাহী চলে আসবে। এ সময়ের মধ্যে শীতও জেঁকে বসবে। বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সেগুলো শীতার্তদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এখন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকছে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আর সর্বনিম্ন থাকছে ১৩ ডিগ্রির কাছাকাছি। দিন দিন তাপমাত্রা কমছে, বাড়ছে শীত। বিশেষ করে শহরের চেয়ে গ্রামে শীত পড়ছে বেশি। আর এই হালকা শীতেই গরম কাপড়ের অপেক্ষা করছে নগরীর ছিন্নমূল মানুষগুলো।

নগরীর ভদ্রা এলাকার বস্তির বাসিন্দা বৃদ্ধ মোক্তার আলী (৬০) বলেন, ‘অনেক কষ্টে আমাদের শীত পার করতে হয়। অনেকে কম্বল নিয়ে আসে, কিন্তু কেউ পায় আবার কেউ পায় না। গতবার আমি কোনো কম্বল পাইনি। তবে এবার শীতের শুরুতেই একটা কম্বল পেলে উপকার হবে।’

বস্তির বাসিন্দা ফাতেমা বেগম (৫৫) বলেন, ‘গতবার কম্বল পেয়েছিলাম। তাই শীত নিবারণ করা সম্ভব হয়েছিল। এবার একটা কম্বল পেলে শীতটা ভালভাবে কাটাতে পারব।’

রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, এবার জেলার ৯ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ৩৩৩টি করে কম্বল বিতরণ করা হবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩০টি ওয়ার্ডের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ ৩৩৩টি করে কম্বল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বলগুলো বিতরণ করা হবে।

জাতীয় এর আরও খবর

//election count down