কবরের ওপর কবর, বিপাকে স্থানীয়রা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪
পটুয়াখালীর কবরস্থান, ছবি: বার্তা২৪

পটুয়াখালীর কবরস্থান, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

পটুয়াখালী পৌর এলাকার কবরস্থানটিতে নেই কোন ফাঁকা জায়গা। ফলে স্থানীয়দের দাফন করা নিয়ে তৈরি হচ্ছে সমস্যা। এ অবস্থায় অনেকটা বাধ্য হয়ে আগের কবরের ওপর ফের কবর দেয়া হচ্ছে।

পৌরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পৌরসভা একটি নতুন কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও নিজস্ব তহবিলে যথেষ্ট অর্থ না থাকায় সেটিও সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় নতুন একটি কবরস্থান নির্মাণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান পৌর মেয়র।

প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিটুক ধরে রাখতে সকলেই তার স্বজনের কবরটি সংরক্ষণ করতে চান। তবে শত বছরের বেশি সময় ধরে পটুয়াখালী পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট একটি কবরস্থানে মানুষ দাফন করায় সেখানে আর দাফনের জন্য কোন জায়গা খালি নেই।

গত কয়েক দশক যাবৎ একটি কবরের ওপর আরেকটি কবর দেয়ায় অনেকের কবরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এছাড়া একটি কবরের উপর একাধিক কবর দেয়ায় এসব কবর খোঁড়ার সময়ে মানুষের হাড়-গোড় বেরিয়ে আসছে এতে করে বিব্রত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

জায়গার সংকুলানের কারণে বাধ্য হয়ে একটি কবরের ওপর আরেকটি কবর দেয়া হচ্ছে বলে জানান কবরস্থানে কাজ করা শ্রমিকরা।

২৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নিয়ে ১৮৯২ সালে পটুয়াখালী পৌরসভা গঠিত হয়। পৌরসভার স্থানীয়দের দাফনের জন্য সে সময়ে প্রায় সাত একর জমিতে পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কবরস্থান নির্মাণ করা হয়।

তবে বর্তমানে এই শহরে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এতে প্রতিনিয়তই কবরস্থানের বিষয়ে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে এখানকার মানুষদের।

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ কবরস্থানে স্থায়ীভাবে কবর সংরক্ষণ না করার জন্য নির্দেশনা দিলেও তা কেউ মানছেন না। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের স্বজনদের কবরগুলো যেমন বাঁধাই করে রেখেছেন তেমনি অনেকে আবার দুই থেকে তিন জনের বেশি যায়গা নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে রেখেছে। আর এসব বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অনেকটাই অসহায়।

সমস্যার কথা স্বীকার করে পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪-কে জানান, তাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নতুন করে একটি কবরস্থানের জায়গা নির্বাচন করলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

ধর্মীয় অনুভূতি ও মৃতব্যক্তির সন্মান রক্ষায় পটুয়াখালী পৌর শহরের জন্য একটি নতুন কবরস্থান নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নিবে এমনটাই প্রত্যাশা শহরবাসীর।