বরিশাল মুক্ত দিবস আজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ, ছবি: বার্তা২৪

মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ৮ ডিসেম্বর। বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাক হানাদারদের কবল থেকে বরিশাল মুক্ত হয়েছিল। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা আকাশ-বাতাস মুখরিত করেছিল।

বরিশালের মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল পাক বাহিনী আকাশ পথে বরিশালে হামলা চালায়। দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় ২৫ এপ্রিল জল, স্থল ও আকাশপথে।

তবে পাক বাহিনীর স্থলপথে বরিশাল আসার পথে গৌরনদীতে বাঁধাগ্রস্ত হয়। গৌরনদীর কটকস্থল ব্রিজে আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীকে আবুল হাশেমের নেতৃত্বে মাত্র ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল গুটিকয়েক রাইফেল নিয়ে তাদের বাঁধা দেয়। কিন্তু পাকিস্তানি ভারী অস্ত্রের সামনে মুক্তিবাহিনী টিকতে পারেনি। এতে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হাসেম, মোক্তার আলী, আলাউদ্দিন আহম্মদ এবং পরিমল।

অপর দিকে একই দিনে পাকিস্তানি নৌ-বাহিনী গান বোট যোগে সকাল ৯টা নাগাদ তালতলীর জুনাহার থেকে শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেখানেও বাধা দেয় ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক একং ক্যাপ্টেন মেহেদীর নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা। তারা দু’টি যাত্রীবাহী স্টিমার ও লঞ্চ নিয়ে দেশী বন্ধুক ও ৩০৩ রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে হানাদার বাহিনীর কামানের গোলায় ষ্টিমার ও লঞ্চটি ডুবে যায় এবং গুলিতে আহত হন কামাল উদ্দিন ফিরু (কর্ণেল কামাল উদ্দিন)।

এর আগে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার তারবার্তা বরিশাল পুলিশ লাইনের ওয়ারলেস যোগে পৌঁছে জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের কাছে । সঙ্গে সঙ্গে নুরুল ইসলাম মঞ্জুরকে বেসামরিক প্রধান এবং মেজর এম.এ জলিলকে সামরিক প্রধান করে বরিশাল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা সরকারের সচিবালয়।

আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে এ সচিবালয় গঠিত হয়। এ ঘাটি থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানোর কাজও হতো এ সচিবালয় থেকে।

পরে ৮ ডিসেম্বর দুপুরে পাকসেনা অফিসাররা গানবোট, লঞ্চ, স্টিমারে বরিশাল থেকে গোপনে পালিয়ে যায়। ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় মুলাদীর কদমতলা নদীতে লঞ্চ, চাঁদপুরের মেঘনা মোহনায় কিউ জাহাজ সহ গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়েছিল। সেই সঙ্গে জাহাজে আরোহীদের সলিল সমাধি হয়। তবে পাক কর্মকর্তাদের গোপনে পালানোর খবরটি জানাজানি হয়ে যায়। সবাই রাজপথে বেড়িয়ে এসে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। মাথার উপরে বোমারু বিমান নিচে উৎফুল মানুষ। জয় বাংলা শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো শহর। তবে কয়েক মিনিট শহরের উপর চক্কর দিয়ে বিমান দুটি চলে গেল।

পাকিস্তানি দখলদারদের পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বরিশাল অদূরে অবস্থানরত সুলতান মাস্টার নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রবেশ করে শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এরপর লাকুটিয়া রোডে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সুইসাইডাল স্কোয়াডের সদস্যগণ রেজাই ছত্তার ফারুকের নেতৃত্বে শহরে প্রবেশ করে ।

এদিকে বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে সকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এছাড়াও উদীচী ও বরিশাল নাটকের আয়োজনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে নগরীর বিজয়বিহঙ্গ চত্বরে মোমবাতি প্রজ্বলন, আলোচনা, সংগীত, নৃত্য ও নাটক অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠক চক্রের আয়োজনে আজ বিকেল তিনটায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধে বরিশাল বিষয়ক উন্মুক্ত পাঠ আড্ডা অনুষ্ঠিত হবে।