আজ পটুয়াখালী মুক্ত দিবস



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা পটুয়াখালী জেলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। সেই দিন পটুয়াখালী শহরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রথম এবং পরবর্তীতে শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলে যুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর দায়িত্বে থাকা মেজর নাদের পারভেজ ও তার সৈন্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ৭ ডিসেম্বর রাতে পটুয়াখালী শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

৮ ডিসেম্বর সকাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলা শহরে মিছিল নিয়ে আসতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও পরে শিশুপার্ক মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

যুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী শহরের জেলা কারাগারকে তাদের নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো। সে সময়ে কয়েকশ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে কারা অভ্যন্তরে মাটি চাপা দেয়া হয়। বর্তমানে কারাগারটি ব্যবহৃত হচ্ছে আনসার ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প হিসেবে। আর জেলার বৃহৎ এই গণকবরটি এখনও অবহেলার মধ্যেও টিকে রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের এলাকা ভিত্তিক ইতিহাস সংরক্ষণ না করায় অনেক ভুয়া ব্যক্তিরাও আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত হচ্ছে। এদের দাপটে কোণঠাসা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস একত্রিত করে নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে হবে। শুধু তাই নয় দেশ মাতৃকার টানে যে সব মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, সে সব অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সু-চিকিৎসার পাশপাশি জেলার বিরঙ্গণা নারীদের স্বীকৃতি চায় জেলা বাসী।

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছরেও জেলার মুক্তিযুদ্ধের এলাকা ভিত্তিক ইতিহাস যেমন সংরক্ষণ করা হয়নি তেমনি জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও গণকবর গুলো সংস্কার করা হয়নি। 

অপরদিকে ৭১ এ বীরাঙ্গনা নারীরা আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সমূহ সংরক্ষণের দাবী মুক্তিযোদ্ধাদের।