দুধের গ্রাম গাইবান্ধার শ্রীকলা

তোফায়েল হোসেন জাকির, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
গাইবান্ধা জেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের একটি গরুর খামার/ ছবি: বার্তা২৪.কম

গাইবান্ধা জেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের একটি গরুর খামার/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুধের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে গাইবান্ধা জেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা। ছোট এই গ্রামে এ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে ৩৫টি খামার। প্রতিটি  খামারে রয়েছে ১০-১২টি করে গাভী। প্রথমদিকে খামার করে অনেকে স্বাবলম্বী হলেও এখন দুধের ন্যায্য মূল্য পান না।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে শ্রীকলা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গ্রামটি অনেক ছোট ও মফস্বল এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে শিক্ষার হারও তুলনামূলক কম। সবাই নিজ উদ্যোগ ও মেধা খাটিয়েই গড়ে তুলেছেনএসব দুগ্ধ খামার।

আহসান হাবিব (৪০) নামের এক খামারি বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমার খামারে ১০টি উন্নত জাতের ফ্রিজিয়ান ও সাহিওয়াল গাভী রয়েছে। ১০বছর আগে একটি মাত্র বাছুর দিয়ে খামার শুরু করি। এখন খামারে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের গাভী আছে।’

আহসান হাবিবের মতো একইভাবে আবুল হোসেন (লাল মিয়া), মেনহাজ উদ্দিন, সলিম উদ্দিন, আবুল মিয়া, আব্দুস ছামাদ, সাজু মিয়া, আবুতালেব, খয়রুজ্জামান, মোছা. হেলেনা আফরোজ ও মোছা. মেহেন্নেকা বেগমসহ আরও অনেকের খামারে ফ্রিজিয়ান, সাহিওয়াল, লালসিন্ধি ওজার্সি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী দেখা গেছে। অল্প জায়গায় অনেক খামার থাকায় এলাকাটি দুধের গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।

খামারি আবুল হোসেন বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বয়স ভেদে প্রতিটি গাভীকে দিনে ১০০-১৫০ টাকার খাবার দিতে হয়। এর মধ্যে ক্যাটলফিড,ভুষি ও সবুজ ঘাস দিতে হয়। এছাড়াও গাভীগুলোকে নিয়মিত গোসল করাতে হয়। প্রতিটি গাভী গড়ে দৈনিক ২০ কেজি দুধ দেয়।’

আবুল মিয়া নামে এক খামারি জানান, মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বাছুর কিনে তার খামারের যাত্রা শুরু। এখন তিনি প্রায় ১৫ লখ টাকা মূল্যের গাভির মালিক। তবে অনেকে খামার করায় এখন দুধের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে দুধ কেনার কোনো ক্রেতা পাওয়া যায় না। ফলে সাদুল্লাপুর ব্র্যাক চিলিং সেন্টারে ৩৭ দরে প্রতিকেজি দুধ বিক্রি করতে হয়।

খামারি মেনহাজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে খামার করার পরিবেশ নেই। দুধের বাজার একেবারেই কম। দুধ নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে গেলে৩০-৩৫ টাকার বেশি পাওয়া যায় না।

খামারিদের অভিযোগ, তারা ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ পান না। যদি প্রশিক্ষণসহ সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যেত তাহলে খামারগুলো বিস্তৃত হতে পারতো। তাই জিও-এনজিওগুলোকে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান খামারিরা।

আপনার মতামত লিখুন :