Alexa

ই-পাসপোর্ট কিনতে ৮৬৯ কোটি টাকা ছাড়

ই-পাসপোর্ট কিনতে ৮৬৯ কোটি টাকা ছাড়

ই-পাসপোর্ট কিনতে ৮৬৯ কোটি টাকা ছাড়। ছবি: সংগৃহীত

ই-পাসপোর্ট আমদানি করতে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ’র অনুকূলে ৮৬৯ কোটি ৫ লাখ টাকা ছাড় করেছে পরিকল্পনা কমিশন। যদিও ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের কথা ছিল।

‘বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডারনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এ প্রকল্পের অনুকূলে গত সপ্তাহে ২টি ডেফার্ড পেমেন্ট এলসি খুলতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে অর্থ বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়ার সহকারী সচিব রওনক জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় সরবরাহকারী জার্মান প্রতিষ্ঠানির কাছ থেকে পাসপোর্ট বুকলেট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে। এজন্য চুক্তির ৮৫ শতাংশ হিসাবে ৮৬৯ কোটি ৫ লাখ টাকার ২টি ডেফার্ড পেমেন্ট এলসি খুলতে অর্থ বিভাগের সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো। পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম এ প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার ৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থ বছরে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিওরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিওরমেন্ট রুলস-২০০৮ সহ সব বিবিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)-এর ধারণাও শেষ প্রায়। কারণ, যুগ এখন ইলেকট্রনিক বা ই-পাসপোর্টের। এর মধ্যে বিশ্বের ১১৯টি দেশে চালু হয়ে গেছে এই পাসপোর্ট। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। তবে আগামী জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্ট চালু করা সম্ভব হবে কি-না সেটা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আরো জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালক দ্বিতীয় থেকে চর্তুথ কিস্তির টাকা ছাড় করানো আবেদন করেন। যদিও এর আগে জার্মান কোম্পানিকে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে আগামী মাসে ই-পাসপোর্ট চালু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, আগামী ৫ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করার কথা। এর আগে গত ১৫ মে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে জার্মান।

প্রকল্প অনুমোদনের পর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য এই প্রকল্পটি জরুরি। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৬৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর পুরোটাই জিওবি থেকে ব্যয় হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায়, দেশে-বিদেশের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেন্টার আধুনিকায়ন করার কথা। যার মধ্যে- রাজধানী ঢাকা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট অফিস, ডাটা সেন্টার, পাসপোর্ট অ্যাসেম্বলি লাইন, পার্সোনালাইজেশন সেন্টার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৬৪টি জেলায় অবস্থিত ৭২টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বিদেশে অবস্থিত ৮০টি বাংলাদেশ মিশন, যশোরে অবস্থিত ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার, দেশের অভ্যন্তরে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ২৪টি স্থলবন্দর (২টি স্থলবন্দরে স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেম, ২২টিতে ই-পাসপোর্ট রিডারের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন) এবং ৭২টি এসবি/ডিএসবি অফিস স্থাপন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :