সড়ক দুর্ঘটনাকে ঘিরে হামলা-ভাঙচুর, দুই পুলিশ সদস্য আহত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, গাইবান্ধা, বার্তা২৪
আহত পুলিশ, ছবি: বার্তা২৪

আহত পুলিশ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত আটক করা হয়েছে অন্তত ১২ জনকে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল সাদুল্লাপুর থেকে মীরপুরের বাড়িতে যাওয়ার পথে নলডাঙ্গার মোড় (রেজার চাতাল) পৌঁছালে স্থানীয় তরফবাজিত গ্রামের মৃত মকর উদ্দিনের স্ত্রী রেনু বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে গাড়িটি ধাক্কা দেয়। এসময় রেনু বেগম গুরুত্বর আহত হন। এ ঘটনার সাথে সাথেই আশপাশের লোকজন নুরুজ্জামান মন্ডলকে আটক করে এবং লাঞ্চিত করে। এ সময় পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। এতে পুলিশের ওপর হামলা করে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনগণ। ঘটনাস্থলে দুই পলিশ সদস্য গুরুত্বর আহত হন। আহতরা হলেন সাদুল্লাপুর থানার এএসআই হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল আঃ কাফী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে, তাদেরকে আটক করার পর বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা। পরে তারা সাদুল্লাপুর থানার সামনে ও চারমাথা মোড়ে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ফের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। আতঙ্কে সে সময় শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল বলেন, ঘটনার পর আহত বৃদ্ধা রেনু বেগমকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টাকালে আমার ওপর স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং বাধা দেয়। পরে পুলিশ এলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা ও তার পক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। হয়রানির উদ্দেশেই পুলিশ প্রভাবিত হয়ে আমার বসতবাড়ি ও ৪টি মোটরসাইকেল ভাঙ্চুর করাসহ আশপাশের বেশ কিছু ঘরবাড়ি তছনছ ও ভাঙচুর করেছে পুলিশ।

সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরশেদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় পুলিশের এএসআই হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল কাফী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কাফীর দু’টি দাঁত ভেঙে গেছে। তাদের উদ্ধার করে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান ওসি।

আপনার মতামত লিখুন :