Alexa

গৌরবময় ৭১-এ ছাত্রলীগ

গৌরবময় ৭১-এ ছাত্রলীগ

ছবি: সংগৃহীত

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ছাত্রসংগঠনটির জন্ম। জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি নানা রকম চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দলটি এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। সেই অগ্রসরের ধারায় শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) গৌরবময় একাত্তর বছর পূর্ণ করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ছাত্র সংগঠনটির নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। পাকিস্তান আমলেই মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বাধীনতার পর নাম পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামকরণ করা হয়।

সাত দশক ধরে পথচলা এই সংগঠনটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ আর নব্বইয়ের দশকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখভাগে প্রায় এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে।

ছাত্রস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের অনেক সংকটকালীন সময়ে ছাত্রলীগ ছিল আন্দোলনের নেতৃত্বের ভূমিকায়। ন্যায্য দাবি আদায়ের সংগ্রামে ঝরে গেছে বহু নেতাকর্মীর প্রাণ। দেশের অনেক বড় বড় ঘটনায় সম্মুখে অবস্থান করা দেশের সবচেয়ে পুরাতন এই ছাত্রসংগঠনটি আবার অনেক সময় জন্ম দিয়েছে নানাবিধ সমালোচনা ও বিতর্ক।

প্রতিষ্ঠালগ্নে নাইমউদ্দিন আহম্মেদকে আহ্বায়ক করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর আরমানিটোলায় ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলনে দবিরুল ইসলাম সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বর্তমানের সংগঠনটি দায়িত্বে আছেন সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে, ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে উৎসবমুখর ও স্মরণীয় করে রাখতে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুরু হবে ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা। আর সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হবে ছাত্রলীগের জন্মদিন উৎযাপন।

দ্বিতীয় দিন শনিবার(৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা বের হবে।

সোমবার(৭ জানুয়ারি) বেলা ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে হবে রক্তদান কর্মসূচি।

জন্মদিনের চতুর্থ ও শেষ দিন মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কলাভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। এছাড়া এদিন বিকালে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ করবে সংগঠনটি।

আপনার মতামত লিখুন :