Alexa

মনিটরিং দুর্বলতায় চালের বাজার গরম

মনিটরিং দুর্বলতায় চালের বাজার গরম

চালের বাজার, ছবি: বার্তা২৪

শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

চারদিনের ব্যবধানে হু হু করে বেড়েছে চালের দাম। কেজি প্রতি বেড়েছে চার থেকে সাত টাকা করে। চালের দাম বৃদ্ধির কারণ না জানায় ক্রেতারা যেমন ক্ষুব্ধ বিক্রেতারাও বিব্রত।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারের চালের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নানা অভিযোগ। কোনো কারণ ছাড়াই চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।

অনেকেই বলছেন, সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে, নতুনভাবে সরকার আসায়, দল গোছাতে ব্যস্ত সময়ের সুযোগ নিচ্ছে চালের মিল মালিকরা।

এই যুক্তির সঙ্গে চালের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারাও সহমত পোষণ করছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগের দুই দিনও চালের দাম স্বাভাবিক ছিল। একদিন গাড়ি বন্ধ থাকার পর হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে যায়।

জানতে চাইলে কুমিল্লা রাইচ এজেন্সির মালিক রফিকুল ইসলাম বার্তা২৪-কে বলেন, 'কুষ্টিয়ার রশিদ মিনিকেট চাউল হাউজ, প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ১৫০ টাকা করে বৃদ্ধি করে। তারপর থেকে অন্য চালের হাউজগুলো দাম বৃদ্ধি করতে শুরু করে।'

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, 'হঠাৎ করে এভাবে চালের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় সরকার থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সুযোগ নিয়েছেন মিল মালিকরা। এই সময়ে সরকারের সঠিক মনিটরিং না থাকায় আমন মৌসুমে চালের দাম তারা যে যেভাবে পারছেন, বাড়িয়ে দিচ্ছেন।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/04/1546593333365.gif

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গত ৫ দিনে কেজিতে মোটা চাল ৪ টাকা, সরু চাল ৩ টাকা ও সুগন্ধি চাল ৬ টাকা করে দাম বেড়েছে।

এই বাজার শুক্রবারে প্রতি কেজি মোটা চাল স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, লতা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের সুগন্ধি চাল ১০০ টাকা ও সাধারণ মানের সুগন্ধি চাল ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন আমন (বালাম) ৩৭ থেকে বেড়ে ৪২ টাকা হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের বিসমিল্লাহ্‌ রাইস এজেন্সির মালিক মহিউদ্দিন বার্তা২৪. কমকে বলেন, 'মালিকেরা গত ৫ দিনে সব ধরনের চালের দাম বস্তায় (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি চালের দাম। প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।'

মহিউদ্দিন আরও বলেন, 'হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের বিক্রি কমে গেছে এবং ক্রেতাদের কাছে আমরাও বিব্রত বোধ করছি।'

এদিকে মিল মালিকরা দাবি করছে, সরকারি খাদ্য গুদামে আমন মৌসুমের ধান ও চাল ক্রয় করা শুরু হয়েছে। এর কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুমাইয়া রাইস মিলের মালিক কর্তৃপক্ষের একজন বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'রাজধানী কেন্দ্রিক চাল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এক সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকার বাইরে যেখানে চালের দাম স্বাভাবিক সেখানে হঠাৎ করে ৪ দিনে রাজধানীতে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।'

নতুন সরকারের শুরুর দিকে মনিটরিং দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে মালিক বলে জানিয়েছে এ চাল ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, 'যতদিন পর্যন্ত চালের বাজারের এই মনিটরিং নতুন করে কার্যক্রম শুরু না করবে। ততদিন পর্যন্ত চালের বাজারে অস্থিরতা থাকবে।'

জাতীয় এর আরও খবর