Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

লাউয়াছড়ায় বেদখল ঠেকানো যাচ্ছে না

লাউয়াছড়ায় বেদখল ঠেকানো যাচ্ছে না
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যান/ ছবি: বার্তা২৪.কম
তোফায়েল পাপ্পু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মৌলভীবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বেদখল হয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়ার বনভূমি। দিন দিন বনের জমি দখল হয়ে পড়ায় আবার সংকটে পড়েছে বন্যপ্রাণী। প্রায়ই বন্যপ্রাণী বনের বাইরে বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটছে।

অনেক সময় মারাও যাচ্ছে এসব বণ্যপ্রাণী। সবর্শেষ বুধবার (২ জানুয়ারি) লাউয়াছড়ায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যায় একটি মায়া হরিণ। এর আগেও লাউয়াছড়ায় বেশ কয়েকটি হরিণ ট্রেনে কাটা পড়ে। দিন দিন এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মৌলভীবাজার রেঞ্জের প্রায় দুই হাজার ৭৪০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ছিল পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের। বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্যে এই বনের প্রায় এক হাজার ২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ, সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা দেওয়া হয়।

বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় জীববৈচিত্র্যময় বন গবেষণা কেন্দ্রসহ এই উদ্যানে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর বিচরণ। লাউয়াছড়ায় ৪৬০ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে। নানা সমস্যা ও সংকটে ওখানকার প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যগুলো এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/06/1546792350513.gif

জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর বনের জমি বেদখল হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। বনের জমি দখল করে ব্যক্তিমালিকানায় লেবু, আনারসসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফলে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল সংকট ও উদ্যানের পরিসর ক্রমাম্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ডরমিটরি টিলা সংলগ্ন পূর্ব এলাকায় প্রায় ১৫ একর ভূমি দখল করে গত চার বছর ধরে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ডরমিটরি এলাকার পশ্চিম পার্শ্বে হীড বাংলাদেশ অফিস সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানের আরও একটি টিলার প্রায় ১৫ একর ভূমি দখলে নিয়ে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।

লেবু বাগান ঘেষা টিলা সমুহে গাছগাছালি ও লতাগুল্ম কেটে টিলা খসে নতুন করে বাণিজ্যিকভাবে আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব টিলায় দীর্ঘদিন ধরে টিনসেড ঘর করে লোকজন বসানো হয়েছে দখলকৃত টিলা দেখভালের জন্য।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এসব টিলাভূমি দখলে নিলেও বনভিবাগ বিভাগ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ফলে উদ্যানে বসবাসরত বন্যাপ্রাণীর আবাসস্থল সংকোচিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, যারা এসব ভূমি দখল করছে তারা এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তারা বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে লেবু বাগান গড়ে তোলেছে। এদের কেউ কেউ ইতোপূর্বে জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো.আনিসুর রহমান বলেন, ‘গত ৫ ডিসেম্বর ডরমিটরি এলাকা সংলগ্ন দখলকৃত এলাকা উচ্ছেদ করে আমাদের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে হীড বাংলাদেশ সংলগ্ন অফিসের পার্শ্ববর্তী টিলা দখলে নিয়ে টিনসেড ঘরে লোকজনের বসবাস বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

‘প্রকল্প নেওয়ার সময় চ্যালেঞ্জও বিবেচনায় রাখতে হবে’

‘প্রকল্প নেওয়ার সময় চ্যালেঞ্জও বিবেচনায় রাখতে হবে’
সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, ছবি:: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় কাঙ্ক্ষিত সুবিধার পাশাপাশি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‘তাহলে যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

রোববার (২১ জুলাই ) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও চারটি ওয়াসার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী কিছু প্রকল্প কেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি, তা সংশ্লিষ্টদের নিকট জানতে চান এবং প্রকল্পগুলোর কাজে গতি আনতে প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সভায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের চারটি, ঢাকা ওয়াসার পাঁচটি, চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি, খুলনা ওয়াসার একটি এবং রাজশাহী ওয়াসার একটি প্রকল্পকে মন্থর অগ্রগতিসম্পন্ন প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যার সবগুলোই সুপেয় পানি সরবরাহ সংক্রান্ত প্রকল্প।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই দেশের কথা চিন্তা করে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে, যেকোন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। পানি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। কাজেই পানি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো নিয়ে অবহেলার কোন সুযোগ নেই।’

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সাবেক ৭ এমডির বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সাবেক ৭ এমডির বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিঃ এর সাবেক সাতজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার্জশিট  দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২১ জুলাই) দিনাজপুরের দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এ চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

চাজশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচলকরা হলেন মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিজ খান, প্রকৌশল খুরশীদুল হাসান, প্রকৌঃ কামরুজ্জামান, মোঃ আমিনুজ্জামান, প্রকৌঃ এস.এম.নুরুল আওরঙ্গজেব, মাইন অপারেশন বিভাগ প্রকৌঃ হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচলক (প্রশাসন)  মো: শরিফুল আলম,   সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচলক (প্রশাসন) মো: আবুল কাসেম প্রধানীয়া।

এছাড়া অন্যান্যরা হলেন, মাইন অপারেশন বিভাগের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাহের মোঃ নুর-উজ-জামান চৌধুরী,  নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (মেন্টেনেন্স এন্ড অপারেশন) মো: আরিফুর রহমান,      ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা শাখা) সৈয়দ ইমান হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট)  মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেন্টেনেন্স এন্ড অপারেশন)  মো: মোর্শেদুজ্জামান,উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো: হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) মো: জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন, সহকারী ব্যবস্থাপক (পি.এম) মোঃ মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপক (কোন হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্ট, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড) মোঃ শোয়েবুর রহমান,  (২১) উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর ডিপার্টমেন্ট)  এ.কে.এম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট) মোঃ জোবায়ের আলী।

দুদক জানায়, এদের মধ্যে এজাহার ভূক্ত আসামি  ১৪ জন এবং তদন্তে আরো যুক্ত হয়েছে ৯ জন।

এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে জানুয়ারি, ২০০৬ ইং মাস হতে ১৯/৭/২০১৮ খ্রি: মেয়াদে ঘাটতিকৃত এক লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মে.টন কয়লা; যার বাজার মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ দশমিক ৮৪ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

দুদক জানায়,  দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তদন্তে ৫ অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে দুদক। এরা  হলেন এজাহারভূক্ত আসামি ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মো: মোশারফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন এন্ড মেন্টেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেইফটি ম্যানেজমেন্ট) মো: একরামুল হক, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো: আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব, চ.দা.) গোপাল চন্দ্র সাহা।

জানা যায়, বিসিএমসি এর ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।  এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ সামছুল আলম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র