Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ছেলে খুন হওয়ার খবরে চিকিৎসাধীন মায়ের মৃত্যু

ছেলে খুন হওয়ার খবরে চিকিৎসাধীন মায়ের মৃত্যু
ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখে ফেরার পথে খুন হন ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ। আর ছেলের এই খুনের সংবাদ শুনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মা আয়েশা বেগম (৫২)।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত আপেল মাহমুদের মরদেহ নিতে আসা তার চাচা সৈয়দ আশরাফুল আলম মানিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আপেলের মা আয়েশা বেগম ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে আপেল তার মাকে দেখতে ওই হাসপাতালে যান। এরপর সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি ফেরার উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। সারা রাত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তার সন্ধানে নেমে পড়েন। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা জানতে পারেন কাহালুতে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা থানায় গিয়ে মরদেহটি আপেলের বলে শনাক্ত করেন।

এদিকে আপেল খুন হয়েছে এই খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা আয়েশা বেগম মারা যান।

নিহত আপেল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা মোঘলটুলি এলাকার সৈয়দ আব্দুল ওহাব দীপ্তির ছেলে। তিনি ‘ইনডেক্স বিজনেস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’ নামে একটি অর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। পাশাপাশি ফাঁসিতলা এলাকায় একটি ময়দা মিলের মালিক ছাড়াও আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করতেন তিনি।

নিহত আপেলের ভগ্নিপতি একরামুল হক জানান, আপেল এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল বলে কেউ বলতে পারবে না। তাকে কেন খুন করা হল তারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির বার্তা২৪.কমকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাহালু থানার বারমাইল-নামুজা সড়কে ছাতারপুকুর এলাকার মাঠ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থেকে কিছু মানুষ থানায় গিয়ে লাশটি ফাঁসিতলার ব্যবসায়ী আপেলের বলে শনাক্ত করে।

তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’
প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের আলোচনা সভা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে। এসব মাদকাসক্তের ৮৪ ভাগ পুরুষ ও ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী থেকে শুরু করে নারী ও শিশু কিশোররাও মাদকের সাথে জড়িত।’

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ কিশোর তরুণ মাদকের সাথে যুক্ত। এদের ৪৫ ভাগ বেকার ও ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্রাজুয়েট। উচ্চশিক্ষিতদের সংখ্যা ১৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সভাপতি ডা. অরুপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561462186623.jpg

সভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘ধর্মের পথে থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকা যায়। মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশই যুবক। শেখ হাসিনার হাত ধরে যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি, তার মূল চালিকাশক্তিই হলো তরুণ সমাজ। সেই তরুণরাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পরে, তাহলে উন্নয়নের প্রধান বাধা হবে মাদক।’

তিনি বলেন, ‘যুব সমাজের সাথে মহিলারাও এই মাদকে আসক্ত হচ্ছে। জনগণকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে যুবকদের মধ্যে যে হতাশা, তা নির্মূল করতে হবে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আজকের যুব সমাজই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তারাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে।’

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও
রাজশাহীতে পানে রোগ, ছবি: বার্তা২৪.কম

রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি পানের চাষ হয় মোহনপুরে। অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষ উপযোগী মাটির কারণে কৃষকেরা ধানের চেয়ে বেশি পান চাষ করে। ফলে জেলার সবচেয়ে ছোট এই উপজেলায় আবাদকৃত পান বরেন্দ্র অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও পাঠানো হয়।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, চলতি বছর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পানে রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। সদ্য গজানো পান পাতায় কালো দাগ পড়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পচে যাচ্ছে। এ ধরনের বালাই উপজেলার পান চাষিরা আগে কখনও দেখেনি। ফলে তারা উপজেলা কৃষি অধিদফতরের দ্বারস্থ হয়।

কৃষকদের কাছে তথ্য পেয়ে কৃষি কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পানের বরজে ঘুরে ঘুরে রোগ বালাইয়ের কারণ ও ধরন চিহ্নিত করে। পরে কৃষি অফিস থেকে নির্ধারিত কিছু প্রতিষেধক পানের বরজে ব্যবহার করতে বলেন। গত সপ্তাহ থেকে তারা ওই সব প্রতিষেধক ব্যবহার করলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি। ফলে লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পানের বরজ ঘুরে দেখা গেছে, কচি সবুজ হয়ে গজানো পান পাতায় হঠাৎ কালো কালো দাগ পড়ছে। দিন গড়িয়ে রাত, পরদিন সকালে বরজে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ওই পান পাতার কোনোটি পচে যাচ্ছে আবার কোনোটি শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এই মড়ক দেখা দিয়েছে।

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও

কৃষকেরা কৃষি অফিস অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্কোর, এমিস্টার টপ, টিল্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধক নিয়ম মেনে ব্যবহার করছে। তবে ফল পাচ্ছেন না। বিভিন্ন পানের বরজে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন করতেও দেখা যায়। তবে তারা বালাইয়ের ধরন দেখে রোগ সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু বলতে পারছেন না।

উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার কৃষক কাশেম উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'পান পাতায় হঠাৎ কালচে দাগ দেখা যাচ্ছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা পচে যাচ্ছে। শুধু পাতায় নয়, গাছের গোড়ায় একই ধরনের রোগ দেখা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দুই সপ্তাহ পর এলাকার বরজে কোনো পান গাছ বেঁচে থাকবে না।'

উপজেলার ধুরইল গ্রামের পান চাষি শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বরজে রোগ দেখে আমিসহ কয়েকজন চাষি উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছিলাম। তারা বরজ পরিদর্শন করে অনুমোদিত কিছু কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। সেগুলো ৫/৬ দিন ব্যবহার করছি। কোনো কাজেই আসছে না। বিষয়টি কৃষি অফিসে জানালে, তারা সুফল পেতে আরও কিছুদিন ব্যবহার করতে বলছেন। কিন্তু ততদিনে তো বরজ উজাড় হয়ে যাবে।'

আরেক চাষি রায়হান বলেন, 'আমরা কীটনাশক ব্যবহারে সুফল পাচ্ছি না, এটি জানানো হলে বিভিন্ন কৃষি অফিস অনুমোদিত কোম্পানির লোকজন প্রতিদিনই বরজে আসছে। তারা দেখেশুনে আবার সেই একই ওষুধ দিচ্ছে।'

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোছা. রহিমা খাতুন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'হঠাৎ করে বরজে রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর থেকে মাঠে নেমে পরামর্শ দিচ্ছেন সকল উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ। নির্ধারিত প্রতিষেধক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাতে দ্রুত সুফল আসবে বলে আশা করছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র