Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সিঙ্গাপুরের পর ধাপে ধাপে ভোটার হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

সিঙ্গাপুরের পর ধাপে ধাপে ভোটার হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের পর ধাপে ধাপে ভোটার হতে পারবেন অন্যান্য দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এক্ষেত্রে বিদেশে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী এপ্রিলে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) সিঙ্গাপুরে যেসব বাংলাদেশি থাকেন তাদেরকে ভোটার করা হবে। এরপর দুবাইয়ে ভোটার করার কার্যক্রম শুরু হবে। কমিশন বলছে, ধাপে ধাপে অন্য দেশগুলোর প্রবাসীদেরও ভোটার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ভোটার করার উদ্যোগটি বেশ আগে থেকেই নিয়েছিল ইসি। গত বছর এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনও করা হয়।

সম্মেলন থেকে কমিশন বেশকিছু সুপারিশ পেয়েছে। তার প্রেক্ষিতে প্রবাসীদের ভোটার করার ব্যাপারে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে যেহেতু এরমধ্যে সংসদ নির্বাচন ছিল, তাই কমিশন সেই কার্যক্রমটি স্থগিত করে।

এখন পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করতে চায় কমিশন। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে যেসব বাংলাদেশি থাকেন পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) তাদেরকে ভোটার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সেখানে সফলতা পাওয়া গেলে পরবর্তীতে অন্যান্য দেশে গিয়ে বাংলাদেশিদের ভোটার করা হবে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোটার করার একটি উদ্যোগ আমাদের আছে। যেহেতু সংসদ নির্বাচন ছিল তাই আমরা সেই কার্যক্রমটি স্থগিত করেছিলাম। নির্বাচন শেষ হয়েছে, তাই একটি পরিকল্পনা আছে।

‘সিঙ্গাপুর যেহেতু আমাদের কাছের দেশ, সেখানে আমাদের প্রায় লক্ষাধিক প্রবাসী রয়েছেন। যারা শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। সেটাকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে ভোটার করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইসির একটি টিম সিঙ্গাপুরে যাবে। ওখানে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি যে অ্যাম্বাসি আছে, ফরেন মিনিষ্ট্রি, লেবার উইং, ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা নেতৃবৃন্দ আছেন, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সেমিনার হবে।’

‘তাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে কারিগরি টিম পাঠানো হবে। যারা ভোটার হননি, জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার মাধ্যমে তাদেরকে ভোটার করব। আশা করছি এপ্রিলে সিঙ্গাপুরের কার্যক্রম শুরু করতে পারব। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে দুবাইয়ের কার্যক্রম শুরু হবে।’

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে দেশের উচ্চ আদালত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত বলে ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ ২০ বছরেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে কোটির উপরে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাবিশ্বের বাঙালি অধ্যুষিত ১৫৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে জনবহুল তিনটি দেশ অর্থাৎ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় ধাপের ভোটার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমধাপে সিঙ্গাপুর, দুবাই, কাতার, বাহরাইনের প্রবাসীদের ভোটার করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’
প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের আলোচনা সভা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে। এসব মাদকাসক্তের ৮৪ ভাগ পুরুষ ও ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী থেকে শুরু করে নারী ও শিশু কিশোররাও মাদকের সাথে জড়িত।’

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ কিশোর তরুণ মাদকের সাথে যুক্ত। এদের ৪৫ ভাগ বেকার ও ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্রাজুয়েট। উচ্চশিক্ষিতদের সংখ্যা ১৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সভাপতি ডা. অরুপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561462186623.jpg

সভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘ধর্মের পথে থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকা যায়। মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশই যুবক। শেখ হাসিনার হাত ধরে যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি, তার মূল চালিকাশক্তিই হলো তরুণ সমাজ। সেই তরুণরাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পরে, তাহলে উন্নয়নের প্রধান বাধা হবে মাদক।’

তিনি বলেন, ‘যুব সমাজের সাথে মহিলারাও এই মাদকে আসক্ত হচ্ছে। জনগণকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে যুবকদের মধ্যে যে হতাশা, তা নির্মূল করতে হবে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আজকের যুব সমাজই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তারাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে।’

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও
রাজশাহীতে পানে রোগ, ছবি: বার্তা২৪.কম

রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি পানের চাষ হয় মোহনপুরে। অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষ উপযোগী মাটির কারণে কৃষকেরা ধানের চেয়ে বেশি পান চাষ করে। ফলে জেলার সবচেয়ে ছোট এই উপজেলায় আবাদকৃত পান বরেন্দ্র অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও পাঠানো হয়।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, চলতি বছর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পানে রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। সদ্য গজানো পান পাতায় কালো দাগ পড়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পচে যাচ্ছে। এ ধরনের বালাই উপজেলার পান চাষিরা আগে কখনও দেখেনি। ফলে তারা উপজেলা কৃষি অধিদফতরের দ্বারস্থ হয়।

কৃষকদের কাছে তথ্য পেয়ে কৃষি কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পানের বরজে ঘুরে ঘুরে রোগ বালাইয়ের কারণ ও ধরন চিহ্নিত করে। পরে কৃষি অফিস থেকে নির্ধারিত কিছু প্রতিষেধক পানের বরজে ব্যবহার করতে বলেন। গত সপ্তাহ থেকে তারা ওই সব প্রতিষেধক ব্যবহার করলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি। ফলে লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পানের বরজ ঘুরে দেখা গেছে, কচি সবুজ হয়ে গজানো পান পাতায় হঠাৎ কালো কালো দাগ পড়ছে। দিন গড়িয়ে রাত, পরদিন সকালে বরজে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ওই পান পাতার কোনোটি পচে যাচ্ছে আবার কোনোটি শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এই মড়ক দেখা দিয়েছে।

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও

কৃষকেরা কৃষি অফিস অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্কোর, এমিস্টার টপ, টিল্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধক নিয়ম মেনে ব্যবহার করছে। তবে ফল পাচ্ছেন না। বিভিন্ন পানের বরজে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন করতেও দেখা যায়। তবে তারা বালাইয়ের ধরন দেখে রোগ সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু বলতে পারছেন না।

উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার কৃষক কাশেম উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'পান পাতায় হঠাৎ কালচে দাগ দেখা যাচ্ছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা পচে যাচ্ছে। শুধু পাতায় নয়, গাছের গোড়ায় একই ধরনের রোগ দেখা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দুই সপ্তাহ পর এলাকার বরজে কোনো পান গাছ বেঁচে থাকবে না।'

উপজেলার ধুরইল গ্রামের পান চাষি শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বরজে রোগ দেখে আমিসহ কয়েকজন চাষি উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছিলাম। তারা বরজ পরিদর্শন করে অনুমোদিত কিছু কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। সেগুলো ৫/৬ দিন ব্যবহার করছি। কোনো কাজেই আসছে না। বিষয়টি কৃষি অফিসে জানালে, তারা সুফল পেতে আরও কিছুদিন ব্যবহার করতে বলছেন। কিন্তু ততদিনে তো বরজ উজাড় হয়ে যাবে।'

আরেক চাষি রায়হান বলেন, 'আমরা কীটনাশক ব্যবহারে সুফল পাচ্ছি না, এটি জানানো হলে বিভিন্ন কৃষি অফিস অনুমোদিত কোম্পানির লোকজন প্রতিদিনই বরজে আসছে। তারা দেখেশুনে আবার সেই একই ওষুধ দিচ্ছে।'

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোছা. রহিমা খাতুন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'হঠাৎ করে বরজে রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর থেকে মাঠে নেমে পরামর্শ দিচ্ছেন সকল উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ। নির্ধারিত প্রতিষেধক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাতে দ্রুত সুফল আসবে বলে আশা করছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র