Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বছরের শুরুতে অস্থির চাল ডালের বাজার

বছরের শুরুতে অস্থির চাল ডালের বাজার
ছবি: বার্তা২৪
আবদুস সাত্তার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
চট্টগ্রাম
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

বছরের শুরুতেই অস্থির হয়ে উঠেছে চাল, ডাল ও মসলার বাজার। চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বাড়তে শুরু করেছে এসব পণ্যের দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পণ্যের চাহিদা বাড়লেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে এ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি দোকান ও আড়তগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে পাইকারি পর্যায়ে বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547277162998.jpg

গত এক সপ্তাহে এই পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়েছে ১শ থেকে দুই শত টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছে, রাইস মিলে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামে প্রভাব পড়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা চাহিদা মতো চাল পাচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবে সরবারহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়।

যে কোন একটি পণ্যের দাম বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় চিনির দামও বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের শুরুতে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে মণে প্রায় ৮০ টাকা বেড়েছে পণ্যটির দাম।

খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুল আলম বার্তা২৪কে বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ায় দেশব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বাজারে পণ্য বিক্রি গত এক-দুই মাসের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কিন্তু এ সময়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছুটা বেড়ে গেছে প্রায় সব পণ্যের দাম। সরবরাহ বাড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।

বাজারে ডালজাতীয় কয়েকটি পণ্যের দামও অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুগ ডালের দাম। গত কয়েক দিনে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে ৬৭০ টাকা। নির্বাচনের আগে প্রতি মণ মুগ ডালের দাম ৩ হাজার ২৫০ টাকার নিচে থাকলেও বর্তমানে একই মানের মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯২০ টাকায়। একই সময়ে মসুরের দামও বেড়েছে। বাজারে প্রতি মণ দেশী মসুর বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৯০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রতি মণ নেপালি মসুর ২ হাজার ৭৯০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে একই মানের মসুরের দাম বেড়ে ৩ হাজার ৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত পাইকারিতে প্রতি মণ খেসারি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৭৫ টাকায়। একই মানের খেসারি দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া মটর ডালের দামও মণে প্রায় ১১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নির্বাচনের আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত ছোলা বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। এখন তা মণে প্রায় ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডালজাতীয় পণ্য আমদানিকারক আবু নোমান বলেন, কয়েক মাস ধরে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য সংকটের কারণে পণ্য আমদানি আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেছে।

মসলাজাতীয় কয়েকটি পণ্যের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এলাচের দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়, যা নির্বাচনের আগে ১ হাজার ৬৭০ টাকায় বিক্রি হতো।

মসলাপণ্যের মধ্যে জিরার দামও অতিরিক্ত বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে ৩৭০ টাকা। তবে মিষ্টি জিরার দাম বেড়েছে মণে প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি জিরা ৩২০ ও মিষ্টি জিরা ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে প্রতি কেজি জিরা ৩১০ ও মিষ্টি জিরা ১০৭ টাকায় বিক্রি হতো।

বেড়েছে জয়ত্রির দামও। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি জয়ত্রি ১ হাজার ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার ৪৭০ টাকা।

মসলাজাতীয় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে বাড়তির দিকে বাদাম, হলুদ ও ধনিয়ার দামও। এ সময়ে প্রতি মণ বাদামে ৯৩০ টাকা, হলুদে ১৫০ ও ধনিয়ায় ৩৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

‘দাবি মোদের একটাই-বেড়িবাঁধ চাই’

‘দাবি মোদের একটাই-বেড়িবাঁধ চাই’
বন্যায় ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়ক অচল/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে: ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়ক কার্যত অচল। বন্যার পানির তোড়ে টেপিবাড়ি এলাকায় ভেসে গেছে সড়কের একাংশ। বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।

গত তিন সপ্তাহ ধরেই ক্রমাগত বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী, ফলদা, নিকরাইল ইউনিয়নসহ পৌরসভার বেশ কিছু এলাকা।

ধসে যাওয়া স্থানটিতে যাবার পথেই দেখা গেল সেনাবাহিনীর গাড়িবহর। কাছাকাছি পৌঁছুতেই চোখে সড়ক ভাঙনের আগে জড়ো করা শত শত জিও ব্যাগ। সেখান থেকেই ভেসে আসছিলো স্লোগান। "দাবি মোদের একটাই-বেড়িবাঁধ চাই, বেড়িবাঁধ চাই"।

এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বেড়ি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যার পানিতে ভেসে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বন্যায় বাঁধ ধসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। দিনভর স্থল পরিদর্শন করছেন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীসহ বেসামরিক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর - ভুয়াপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, সংশ্লিষ্টরা যদি আগে থেকে সতর্ক হতেন তাহলে হয়তো বা এ বিপর্যয় এড়ানো যেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563628719426.jpg

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাহাদীপুর-গাড়াবাড়ী রাস্তা (স্থানীয়ভাবে বেড়িবাঁধ নামে পরিচিত) ভেঙে যায়। প্রাথমিকভাবে ৫ মিটার অংশ  ভাঙলেও বর্তমানে প্রায় ৩৫ মিটার অংশ ভাসিয়ে নিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ১০ মিটার গভীরতা।

ডুবে গেছে তাড়াই, চর তাড়াই, মাঝিপাড়া, পলশিয়া ও বলরামপুর। পরদিন ১৮ জুলাই ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে টেপিবাড়ী নামক স্থানে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সংযোগ সড়ক বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এতে পাশ্ববর্তী টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন পানির প্রবল স্রোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত  হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ভূঞাপুর-তারাকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একাংশ ভেসে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলসহ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ফলদা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী  গোপালপুর ও  ঘাটাইল উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় সড়কে জিও ব্যাগ ফেলে সড়ক  সংস্কার কাজ চলছে পূর্ণ গতিতে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছোটন চন্দ্র জানান, আমরা বিগত তিন বছর ধরেই সংশ্লিষ্ট দফতরকে বাঁধের বিষয়ে সর্তক করেছিলাম। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে হয়তো এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ভুঞাপুর যেখানেই গেছেন, স্বাগত জানিয়ে তার উদ্দেশে স্লোগান উঠেছে,"দাবি মোদের একটাই বেড়িবাঁধ চাই"।

এই স্লোগানের সঙ্গে অবশ্য একাত্মতা জানিয়ে উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, আমরা আগামীতে বাঁধগুলো এমনভাবে টেকসই করবো যাতে ত্রাণের আর প্রয়োজন না হয়।

পরে তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বাঁধের উপর রাস্তার যে অংশ ভেসে গেছে তা আমি পরিদর্শন করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামী দুই দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের। আমরা সচেষ্ট রয়েছি যে কোনো মূল্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে।

'যে বান আইচ্ছে, অ্যালা নৌকাই হামার ভরসা'

'যে বান আইচ্ছে, অ্যালা নৌকাই হামার ভরসা'
কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকা। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কুড়িগ্রাম থেকে ফিরে: 'যে বান আইচ্ছে বাহে। অ্যালা নৌকাই হামার ভরসা। নৌকায় বসি কোনো মতে আলগা চুলায় একবেলা রান্না করি। নৌকাতেই ঘুমাই। বানোতে কষ্টের শ্যাষ নাই।'

এভাবেই বন্যার পানিতে নিদারুণ কষ্টে থাকার কথা বর্ণনা করছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনাঘাট এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম। ব্রহ্মপুত্র নদীর কোল ঘেষে শহিদুলের মতো কুড়িগ্রাম জেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন গৃহহীন হয়ে যাযাবর দিন কাটাচ্ছে।

উলিপুর উপজেলার শেষ ও চিলমারী উপজেলার শুরুর পথে চোখে পড়ে উঁচু ব্রিজ। এই ব্রিজের উপর ছাউনি করে অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ভাসমান এসব মানুষের থাকা-খাওয়াসহ রান্না করতে বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563628229831.jpg

বান্ধারঘাটের এই উঁচু ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে দুর্ভোগের কথা বলছিলেন মেরাজ উদ্দিন ব্যাপারী। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'বাড়ির ভিতরা কোমর পানি। চকি ডুবি গেইছে। মালামাল সউগ ভিজি গেইছে। বউ বাচ্চা নিয়া ব্রিজে তিনদিন ধরি রাইত কাটোচে। এভাবে থাকা খুবই কষ্টের। রাইত হইলে কাইয়ো নৌকার উপর বসি থাকি।'

অষ্টমীরচর থেকে নৌকায় করে ভাসতে ভাসতে গবাদি পশুপাখি নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর ঘনশ্যামপুরে এসেছেন রহিম বকস। সঙ্গে স্ত্রী, সন্তান ও প্রতিবেশী একজনের পরিবারও রয়েছে।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে দেখে ভেবেছিলেন ত্রাণের নৌকা। কিন্তু কাছে এসে হতাশ হলেন রহিম বকস। অনেকটা আক্ষেপ থেকে বললেন, 'তোমাক দুঃখের কতা কয়া কী হইবে। হামার পেটোত ভোগ। তোমরা দুই কেজি চাইলতো দিবার নন। খালি ফটোক তুলি পেপারোত দিলে হইবে?'

ওই নৌকায় থাকা কুদরত আলী নামে এক বৃদ্ধ তার দুরবস্থার কথা বর্ণনা করছিলেন। তিনি বলেন, 'এরশাদ সাইবের সময় (১৯৮৮ সালে) বানের পানি দেকচুং। আর অ্যালা দেকোচোং। এবার ডবলের ডবল পানি হইচে বাহে। কোনটে যামো? শুকান জাগা দেখানতো দেখি। চাইরোপাকে খালি পানি আর পানি। বাধ্য হয়া নৌকাত ভাসোছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563628251419.jpg

কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কে যাবার সময় নৌকায় কথা হয় স্কুলছাত্র রাসেল মিয়ার সঙ্গে। অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা রাসেল বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশের সবকটি বাড়ি ডুবে আছে। বেশির ভাগ বাড়িতে লোকজন নেই। টিনের চালটুকু জেগে আছে। আর সব পানির নিচে। ঘরের ধান-চালসহ প্রয়োজনীয় আসবাব সব ভিজে গেছে। অনেকেই যাত্রাপুরের দিকে চলে গেছে। আমরাও যাত্রাপুরের শুকনো স্থানের খোঁজে যাচ্ছি। এখনতো চলাচলের জন্য নৌকার বিকল্প নেই।’

এদিকে যাত্রাপুর সিডির মোড় থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে মাদরাসা পর্যন্ত জায়গাটুকু শুকনো আছে। বাকি সব ডুবে আছে। শুকনো ওই জায়গাতে গরু-বাছুর নিয়ে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কটির কোমর পানি এখন হাঁটুতে নেমেছে।

যাত্রাপুরের ইউপি সদস্য রহিমুদ্দিন রিপন জানান, এখন তো সবারই নৌকার প্রয়োজন। নৌকা ছাড়া চলাচল করা সম্ভব না। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নৌকা সংকটের কারণে অনেককে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। শুকনা জায়গার অভাবে রান্নাও করা যাচ্ছে না। তবে তারা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, এই ইউনিয়নে ছয় হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী থাকলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিদের কেউ কেউ শুকনো খাবার পেয়েছে। নৌযান সংকটের কারণে যাত্রাপুরের অন্যান্য এলাকার বন্যার্তরাও চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতা পাচ্ছে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র