Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা

বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এখনো কিছু গোলা চোখে পড়ে, যেগুলো পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন কৃষকরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
এস এম জামাল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রামে-গঞ্জে এক সময় অবস্থা সম্পন্ন কৃষকের বাড়িতে শোভা পেতো ধানের গোলা। যাদের জমির পরিমাণ একটু বেশি তারা ধান সংরক্ষণের জন্য এই গোলা ব্যবহার করতেন।

গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা খুবই উপযোগী। ধানের মৌসুমে ধান কেটে শুকিয়ে গোলায় রাখা হয়। প্রয়োজনের সময় গোলা থেকে ধান বের করে পুনরায় রোদে শুকিয়ে ধান ভাঙানো হয়।

অথচ বর্তমানে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে এই ধানের গোলা। তবুও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বাড়ির উঠানে এখনো কেউ কেউ এই ধানের গোলা রেখে দিয়েছেন।

এসব ধানের গোলায় ১০০ থেকে ২০০ মণ ধান সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিনাপাড়া এলাকায় এখনও চোখে পড়ে এসব ধানের গোলা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547288281439.gif

ঐ গ্রামের মো: আমিনুজ্জামান (৬২) বার্তা২৪কে বলেন, ‘এক সময়ে নামকরা গেরস্থ বলতে- মাঠ ভরা সোনালি ফসলের ক্ষেত, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর কৃষকের গোলা ভরা ধানকেই বুঝাতো।

‘কিন্তু এসব এখন যেন প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে। হারিয়ে গেছে গেরস্থের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। তবুও আমরা পুর্বপুরষদের ব্যবহৃত সেই ধানের গোলা স্মৃতি স্বরুপ সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, তিনি ও তার চাচাতো ভাইয়ের তিনটা ধানের গোলা রয়েছে। সেই গোলাগুলো এখনো ভালো আছে। গোলাতে ধান সংরক্ষণ করছেন। অবশ্য এখন আর আগের মতো কেউ ধান রাখে না। বস্তায় করে গোডাউন অথবা ঘরের মধ্যে রেখে দেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের আব্দুল মান্নান শাহ জানান, প্রথমে বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। এঁটেল মাটির কাদা তৈরি করে ভেতরে ও বাইরে আস্তরণ লাগিয়ে উপরে টিনের চালা দিয়ে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হতো এই ধানের গোলা।

ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। প্রবেশপথ রাখা হতো বেশ ওপরে, যেন চোর বা ডাকাতে ধান নিতে না পারে। ধানের গোলায় ঢুকে ক্ষতি করতে পারতো না ইঁদুরও। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত। কৃষকের কাছে এটিই ছিলো ধান রাখার আদর্শ পন্থা।

মিরপুরের মালিহাদ ইউনিয়নের ঝুঁটিয়াডাঙ্গা এলাকার কৃষক মারুফ পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বাড়ির উঠানে পাঁচটি বড় ধানের গোলা রেখে সেগুলোতে ধান রাখছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547288306464.gif

মারুফ বলেন, ‘গোলাগুলো আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে। দাদার আমল থেকে দেখে এসেছি এগুলো। ধান রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষায় তাই এখনো রেখে দিয়েছি।’

আরেক প্রবীণ কৃষক এলাহী মণ্ডল বলেন, ‘এখন আর গোলার প্রচলন বা কদর নেই। ড্রাম-বস্তায়ই ধান রাখি। যে ধান পাই, তা তো বিক্রি করে আর খেতেই ফুরিয়ে যায়। গোলায় রাখবো কী? তবুও অযত্নে অবহেলায় রেখে দিয়েছি। একদিন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে।’

একই উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের শাজাহান আলী বার্তা২৪কে বলেন, ‘বাবার প্রায় একশো বিঘা জমি ছিলো। প্রতিদিনই কৃষকরা কাজ করতেন। ধান ছাড়াও বিভিন্ন চৈতালী ফসল ফলানো হতো সেসব জমিতে। ধানসহ অন্যান্য ফসল সংরক্ষণের জন্য ছিলো বেশ কয়েকটি গোলা। কিন্তু এখন আর সেসব নেই। একটিমাত্র গোলা রয়েছে সেটিও স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি।’

কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে কৃষকের ঘরে ঘরে এক সময় গোলায় ধান রাখা হতো। এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না সেই গোলা। বিলুপ্তির পথে গোলার সেই ঐতিহ্য।

আপনার মতামত লিখুন :

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে চাঁদে অবতরণের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে চাঁদে অবতরণের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন
চাঁদে অবতরণের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর্ল আর. মিলার, ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ এর চাঁদে অবতরণের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ঢাকার আমেরিকান সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানায়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মিলার নভোচারী নিল আর্মস্ট্রংয়ের সেই বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করেন। উক্তিটি হলো-(একজন) মানুষের জন্য এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল লাফ।’

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এবং অতিথি ১০টি আয়োজনে অংশ নেন। এগুলোর মধ্যে ছিল নাসায় কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নারী পাইলট, যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিজ্ঞান বিষয়ক একজন দূত এবং রোবোটিক্স বিষয়ের প্রশিক্ষকদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠান।

‘এডুকেশনইউএসএ’র কর্মীরা উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে লেখাপড়া করতে উৎসাহিত করেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭,৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন।

a
 চাঁদে অবতরণের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত, ছবি: সংগৃহীত

 

অনুষ্ঠানগুলোর ফাঁকে দর্শনার্থীরা নাসার বিভিন্ন ছবি এবং অ্যাপোলো-১১ মিশন ও তিন নভোচারীর ‘জায়ান্ট লিপ’ বিশ্ব ভ্রমণের ঐতিহাসিক স্মারকগুলোর প্রতিলিপির প্রদর্শনী দেখেন। নিদর্শনগুলোর মধ্যে ছিল বাংলা এবং ইংরেজি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ক্লিপিং। চাঁদে অবতরণের মাত্র নয় সপ্তাহ পরে নিল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডউইন ‘বাজ’ অলড্রিন ‘জায়ান্ট লিপ’ বিশ্ব সফরে বের হন। মাত্র ৩৯ দিনে ২৪টি দেশের ২৭টি শহর সফর করেছিলেন তারা- যার মধ্যে ছিল ১৯৬৯ সালের অক্টোবরে ঢাকায় যাত্রাবিরতিও।

২২ জুলাই আমেরিকান সেন্টারের নিয়মিত আয়োজন মিউজিক বাজ-এ ব্যান্ডদল ‘আনসার্টেনটি প্রিন্সিপাল’ হলভর্তি দর্শকের সামনে চাঁদের থিম নিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করে। এছাড়া ৪৪,০০০ এর বেশি মানুষ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে (@bangladesh.usembassy) দূর থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

s
 চাঁদে অবতরণের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত, ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস চাঁদে অবতরণ করার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ২০ থেকে ২৫ জুলাই ছয়টি স্থানে ৫০টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। স্থানগুলো হচ্ছে ঢাকার আমেরিকান সেন্টার, ধানমন্ডির এডওয়ার্ড এম. কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দ্য আর্টস (ইএমকে সেন্টার) এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের আমেরিকান কর্নার। সারা দেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আওতাধীন এ স্থানগুলোতে প্রতিবছর আয়োজিত হয় ১,৬০০টির বেশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে যোগ দেন ২২০,০০০ মানুষ।

রোবট দিয়ে বোমা পরীক্ষা, বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়

রোবট দিয়ে বোমা পরীক্ষা, বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়
ঘটনাস্থলে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর খামারবাড়িস্থ বঙ্গবন্ধু চত্বরের পাশেই যে বোমা সাদৃশ্য বস্তু শনাক্ত করা হয়, সেটার অবস্থান ও শক্তি বোঝার জন্য রোবট দিয়ে পরীক্ষা করেছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (বোম ডিসপোজাল ইউনিট)।

পরবর্তীতে বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ওই বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে বোম ডিসপোজাল ইউনিট। এ সময় বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাত ৩টার দিকে তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার মাহামুদ হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোবট দিয়ে বোমা পরীক্ষা, বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়

তিনি বলেন, 'সেখানে বোমা সদৃশ্য বস্তু রয়েছে, জানার পর জায়গাটি নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়। ওই বোমাগুলো কতটুকু কার্যকর আর কেমন অবস্থায় আছে তা জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য রোবট পাঠানো হয়। সেটা মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।'

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, 'বোম ডিসপোজাল ইউনিট একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ওই বোমগুলো নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়। এ সময় বিকট শব্দ হয়। সেখানে মোট পাঁচটি অক্ষত বোম ছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'বোমা নিষ্ক্রিয়ের পর তার কিছু অংশবিশেষ বোম ডিসপোজাল ইউনিট সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানানো হবে এগুলো কি ধরনের বোমা ছিল।'

উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকার কাছাকাছি দুই জায়গা থেকে বোমা সদৃশ বস্তুর সন্ধান পায় পুলিশ।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র