Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর
আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদনে তাক লাগিয়েছেন আবিতন বেগম। এক সময়ের অভাবের কষাঘাতে পৃষ্ট আবিতন এখন সব সময়ই থাকেন হাসি খুশিতে। তার হাসিতে হাসছে সবজি ক্ষেত। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভার্মি কম্পোস্ট সার ও জৈব পেস্টিসাইড ব্যবহারে এবার আবিতনের ক্ষেত জুড়ে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে।

কম খরচে বেশি ফলন হওয়াতে এখন গ্রামের অন্য চাষিদের নজর পড়েছে আবিতনের দিকে। কেউ কেউ তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন জৈব সার ব্যবহার পদ্ধতি ও ভালো ফলনের ব্যাপারে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের তিস্তা নদী অববাহিকায় প্রাণনাথ চর। এই গ্রামেই আবিতন বেগমের বসবাস। যাকে এখন গ্রামের লোকজনরা সফল সবজি চাষি হিসেবে চেনেন।

কৃষি কাজের ওপর নির্ভর প্রাণনাথ চরের অধিকাংশ মানুষ। এই গ্রামে কৃষি শ্রম ব্যতীত বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় বেশির ভাগ পরিবারে চাষাবাদেই ঘুরপাক খাচ্ছে ভাগ্য। অভাব অনটনের এ গ্রামে নিজেকে স্বাবলম্বী নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে লড়াই করে যাচ্ছেন আবিতন বেগম। এ কারণে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও ঝুঁকেছেন কৃষি কাজে। গড়ে তুলেছেন সবজি ক্ষেত। সামান্য প্রচেষ্টা থেকেই আবিতন যেমন নিজেকে বদলে নিয়েছেন। তেমনি তার হাসিতে বদলে যাচ্ছে প্রাণনাথ চর।

অথচ একটা সময় আবিতনের সংসারে অভাব লেগে থাকত। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর সামান্য আয়ে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিলেন তিনি। সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে আবিতন ছুটে যান আরডিআরএস বাংলাদেশের বাস্তবায়িত রি-কল ২০২১ প্রকল্প আয়োজিত সিবিও মিটিংয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547458613686.jpg

সেখান থেকে আবিতনের আগ্রহ বাড়ে কৃষি কাজের প্রতি। সংসারের অশান্তি ঘোচাতে সিদ্ধান্ত নেন চাষাবাদে নিজেকে মেলে ধরার। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আরডিআরএস আয়োজিত পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু হয় তার বদলে যাবার গল্প।

প্রথমে বাড়ির কাছে মাত্র ৮ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন আবিতন। তাতে বেশ লাভবান হন তিনি। পরবর্তীতে আরডিআরএস রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে বাঁধাকপি, ফুলকপির বীজ প্রদান করা হয়। এরপর চাষ বাড়িয়ে ২০ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে জৈব সার হিসেবে ভার্মি কম্পোস্ট সার ও জৈব পেস্টিসাইড ব্যবহার করেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। পাশাপাশি এবার ফলনও ভালো হয়েছে।

আবিতন বেগম জানান, বিশ শতক জমিতে সেচ ও সারসহ প্রায় সাত হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার কপি বিক্রয় করেছেন। এই বাড়তি আয় দিয়ে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাচ্ছেন। এখন সংসারে অশান্তি নেই। বেশ সুখেই আছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, এ বছর কাউনিয়া উপজেলাতে বাঁধাকপির চাষ হয়েছে ৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ নারীদের সবজি চাষ সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে সবজির উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগ আবিতনের মতো চাষিদের সঙ্গে সব সময় ছিল এবং থাকবে বলেও জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতি ঘণ্টায় ৩ জন

রাজধানীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতি ঘণ্টায় ৩ জন
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলতি বছরে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৬১৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজধানীতে প্রতি বছরের মতো এবারও এ সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় তিনজন করে।

ডেঙ্গুকে মহামারি বলতে না চাইলেও, কিছুটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিন দেখা যায়, শিশু ফারহান কেবল মুখে একটু কথা ফুটেছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে গত সাত দিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। হাতে সব সময়ের জন্য স্যালাইন চলছে। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় রক্ত দিতে হচ্ছে।

1
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

ফারহানের বাবা থাকেন বিদেশে। শিশুটির এমন অবস্থা আর মানতে পারছে না মা শারমিন। শুধু ফারহান না, এমন সময় পার করতে হচ্ছে অনেক শিশু থেকে বৃদ্ধকে।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে এখন চার হাজার ৪৩৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। শুধু জুন মাসেই ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৫৩২ জন। এর মানে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী জুড়ে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, একবার আক্রান্ত হলে ওই একই ব্যক্তি যদি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হন, তখন তার ক্ষেত্রে রোগটি বেশি জটিল হতে পারে। গতবার যেহেতু একটু কম ছিল, সেহেতু এবার বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি। তবে মহামারি আকার ধারণ করেনি। প্রতিদিনই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীরা আসছেন। এবারের সংখ্যাটা অনেক বেশি। এমন রোগী পাওয়া যাচ্ছে, যারা দ্বিতীয়বারের মতো, তৃতীয়বারের মতো আক্রান্ত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের চাইতে উদ্বেগজনক।’

 

1
ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলছেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সেটি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি, নিয়ন্ত্রণে আছে।’

যেহেতু মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলেই এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, তাই সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, যে কোনো মূল্যে এডিস মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে। এজন্য কোনোভাবেই বাসার আশেপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

ময়মনসিংহে হত্যা মামলার পলাতক আসামি আটক

ময়মনসিংহে হত্যা মামলার পলাতক আসামি আটক
নাহিদ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহে চাঞ্চল্যকর আবুল কাশেম (৩০) হত্যার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি নাহিদকে (২৩) আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৪ এর একটি দল।

শনিবার (২০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাব-১৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. তফিকুল আলম জানান, নাহিদ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে, গত বছরের ২ এপ্রিল পূর্ব শত্রুতার জেরে ময়মনসিংহ সদরের চরসিরতা ইউনিয়নে জয়বাংলা বাজারে কাসেম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম ২৩ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলার প্রধান আসামি আলমগীর ওই বছরের ১১ মে রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র