Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

প্রিজন ভ্যান থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল: র‌্যাব

প্রিজন ভ্যান থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল: র‌্যাব
রাজধানীতে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলা মামলার আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময়, প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাই করার পরিকল্পনা ছিল মামুনুর রশিদ সহ পুনর্গঠিত জেএমবি সদস্যদের।

রোববার (২০ জানুয়ারি) গ্রেফতারকৃত জেএমবি নেতা মামুনুর রশীদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, ‘মামুনুর রশিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভেঙে যাওয়া জেএমবি সদস্যদের 

পুনঃগঠনের কাজ করছিলেন তিনি। তাছাড়া হলি আর্টিজান হামলার মামলার আসামিদের আদালতে নিয়ে যাওয়া ও আসার সময় প্রিজন ভ্যানে হামলা করে তাদের ছিনতাই করার পরিকল্পনা ছিল। ২০১৪ সালের ত্রিশালের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এই কাজ করতে যাচ্ছিলেন।’

মুফতি মাহমুদ খান আরো বলেন, ‘হলি আর্টিজান ঘটনার পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের ফলে বাংলাদেশের জঙ্গিরা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। তখন ২০১৬ সালে আত্মগোপনে যাওয়া মামুনুর রশিদ ২০১৮ সালে ফিরে পুনরায় জঙ্গিদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালায়।’

সম্প্রতি মামুনুর রশীদ এর নেতৃত্বে পুনর্গঠিত জেএমবি সদস্যরা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্পর্শকাতর স্থান ও আদালত প্রাঙ্গণে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীর বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব একটি বাস থেকে গ্রেফতার করে মামুনুর রশিদকে।

আপনার মতামত লিখুন :

সাংবা‌দিক দিপুকে দেওয়া চি‌ঠির মেয়াদ শেষ: দুদক

সাংবা‌দিক দিপুকে দেওয়া চি‌ঠির মেয়াদ শেষ: দুদক
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন দুদকের জনসং‌যোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য, ছবি: বার্তা২৪

সাংবা‌দিক দিপু সা‌রোয়ারকে দেওয়া চি‌ঠিতে তাকে হা‌জির হ‌তে বলা হ‌য়ে‌ছিল বুধবার (২৬ জুন)। কিন্তু দিন পার হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দু‌র্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নের (দুদক) জনসং‌যোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ওই চি‌ঠির কার্যকা‌রিতা নষ্ট হ‌য়ে গে‌ছে।

সকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদ‌ক কার্যালয়ের সাম‌নে বিক্ষোভ করে ক্রাইম রি‌পোর্টার্স অ্যাসো‌সি‌য়েশন অব বাংলা‌দেশের (ক্র্যাব)। পরে দুদ‌কের পক্ষ থে‌কে জনসং‌যোগ কর্মকর্তা সাংবা‌দিক‌দের এ কথা ব‌লেন।

‌তি‌নি ব‌লেন, যে চি‌ঠির মেয়াদ শেষ, তা নি‌য়ে আর কথা বলার কোনো মা‌নে হয় না। আমরা প্রশাস‌নিক ভাষায় এটা‌কে ব‌লি 'ফেড অ্যা‌কম‌প্লিট'। যে‌হেতু তা‌রিখ পে‌রি‌য়ে গে‌ছে, সুতরাং এ চি‌ঠি নি‌য়ে আর কিছু করার দরকার আছে ব‌লে আমি ম‌নে ক‌রি না। আমরা দুদক ও সাংবা‌দিকরা এক সা‌থে কাজ ক‌রি। আমরা সাংবা‌দিক‌দের রি‌পোর্ট অনুসন্ধান ক‌রি, আমরাও সাংবা‌দিক‌দের তথ্য দি‌য়ে সহ‌যোগিতা ক‌রি। অনেক অনুসন্ধা‌নের উৎস থা‌কে শুধু সাংবা‌দিক‌দের প্রতি‌বেদন। আমরা মি‌লে মিশে দুর্নীতির বিরু‌দ্ধে কাজ ক‌রি।

সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবা‌বে তি‌নি ব‌লেন, চি‌ঠি‌টি লেখা হ‌য়ে‌ছে ২০১২ সা‌লের এক অনু‌মো‌দিত ফর‌মে‌টে। এখা‌নে দুইটা বিষয় থা‌কে, এক অভিযোগ সং‌শ্লিষ্ট ব্যক্তি আর অপর‌টি সা‌ক্ষী। দিপু সা‌রোয়ার সা‌ক্ষী।

তাহ‌লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে কার বিরু‌দ্ধে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তি‌নি ব‌লেন, যাদের (ডিআইজি মিজান ও দুদক কর্মকর্তা এনামুল বা‌ছির) বিরু‌দ্ধে তদন্ত চল‌ছে, তাদের বিরু‌দ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাক‌বে।

দুদক প‌রিচালক ফানা‌ফিল্যার বিরু‌দ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে কি-না, এমন প্রশ্নে তি‌নি ব‌লেন, তা‌কে শোকজ করা হ‌য়ে‌ছে। সাত দিনের ম‌ধ্যে তা‌কে দুই রকম চি‌ঠি দেওয়ার কারণ জানা‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।

এসময় দুদক কর্মকর্তা প্রণব কুমা‌রের বক্তব্য প্রত্যাহা‌র ক‌রে পাল্টা বক্তব্য দেন ক্র্যাব সভাপ‌তি আবুল খা‌য়ের। তি‌নি ব‌লেন, তিনি (প্রণব কুমার) চি‌ঠির কার্যকা‌রিতা শেষ হ‌য়ে‌ছে ব‌লে‌ছেন। কিন্তু আস‌লে এসব নো‌টি‌শের কার্যকা‌রিতা শেষ হয় না। কাউ‌কে পাঠা‌নো এক‌টি আদেশ সময়মত না পৌঁছা‌লে সে আদেশের মেয়াদ শেষ হ‌য়ে যায় না। তারা আস‌লে এ চি‌ঠি ন‌থি‌তে রাখ‌বেন এবং যেকোনো সময় এ আদেশ ব‌লে তারা আমা‌দের সহক‌র্মী সাংবা‌দিক‌দের লাঞ্ছিত কর‌তে পার‌বেন। আমরা অন‌তি‌বিল‌ম্বে এ চি‌ঠি প্রত্যাহার করার দা‌বি জানা‌ই।

বর্ষায়ও খাল-বিলে নেই দেশি মাছ

বর্ষায়ও খাল-বিলে নেই দেশি মাছ
রংপুর সদরে ক্ষেতের পাশে নালায় মাছ ধরতে নেমেছেন কয়েকজন কৃষক/ ছবি: বার্তা২৪.কম

আষাঢ় মানেই বর্ষার মুষলধারে বৃষ্টি আর খাল-বিলে থইথই পানি। কিন্তু আষাঢ়ের গেল ১২ দিনেও রংপুরে হয়নি প্রত্যাশার বৃষ্টি। বরং জৈষ্ঠের দাবদাহের মতোই প্রবল উত্তাপ ঝড়ছে আষাঢ়েও।

ঋতু বৈশিষ্ট্যের ছন্দপতনে এ মাসে তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় শুকিয়ে যেতে বসেছে খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর-ডোবা। এতে গ্রামীণ জনপদে বর্ষাকাল ঘিরে দেশি মাছ শিকারের যে উৎসব দেখা যেত, এখন আর তা নেই।

তারপরও গ্রামের ছোট ছোট ডোবা, নালা আর ক্ষেতে কাদামাখা হাঁটু পানিতে ফাঁস জাল, বানা, ডারকি, খলাই বসিয়ে মাছ ধরার তোরজোড় চলছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561620822126.jpg

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী গ্রামে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। কয়েকজন মিলে রাস্তার কোল ঘেষে মাছ ধরতে নালার পানি অপসারণ করছেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ছেউতি দিয়ে পানি সরালেও মেলেনি তেমন দেশি মাছ। ঝুড়িতে সামান্য কিছু মাছে হাঁসফাঁস উঠেছে মৎস শিকারিদের। দৃশ্য দেখে মনে হবে, গ্রামীণ জনপদে দিন দিন দেশি মাছের আকাল পড়েছে।

ছেউতির দড়ি ধরে পানি সরাতে ব্যস্ত আবেদ আলী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আগের মত এ্যালা মাছ নাই বাহে। দুই ঘণ্টা ধরি পানি ছেকিয়া এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) মাছো পানু না। জমি জমাত কীটনাশকের ব্যবহার করতে করতে মাছ কমি গেইচে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561620842135.jpg

মাছের ঝুড়ি নিয়ে বসে থাকা রুবেল ইসলামও জানালেন একই কথা। হাসতে হাসতে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'হামার এত্তি নদী নালা খাইল বিল কোনোটে এ্যালা দেশি মাছ নাই। আগে পানি ছেকলে ডাইরক্যা, পুটি, চোপড়া, টোরা, গচি, গড়াই, চ্যাং, শোল মাছ পাওয়া গেচিল। আর এ্যালা ব্যাঙের বাচ্চাও নাই।’

এই যুবক বলেন, 'যামরা হাতে করি পেটে খায়, ওমারগুল্যার বেশি সমস্যা। এ্যালা জালুয়ার (জেলে) ঘরে কষ্ট বাড়ছে। মাছ নাই তো, কামাইও নাই। বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাইতে কষ্ট হওচে।'

এদিকে দেশি মাছ অপ্রতুল হওয়াতে গ্রাম-গঞ্জের মতো শহরেও এর চাহিদা বেড়েছে। যেখানে ছোট মাছের দেখা যায়, সেখানেই ক্রেতাদের ভিড়। এ সুযোগে দাম বেশি পাওয়ার লোভে দেশি মাছ নিয়ে আসা জেলেরাও দাম হাঁকাতে থাকেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561620858868.jpg

দেশি মাছের এমন অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর খাঁন বহুমুখী বাজারের মৎস ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়া বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একদিকে দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে পতিত জমির পরিমাণ কমছে। এখন গ্রামে শহরে সবখানে নদী, নালা, পুকুর ডোবা, খাল বিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমিতে সার কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে। সবমিলে মাছের প্রজনন ও বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কমে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশি মাছ এখন বিলুপ্তির পথে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র