রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সুপ্রিয়া দেবীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান

সেন্ট্রাল ডেস্ক ৪

  • Font increase
  • Font Decrease
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গের নন্দিত অভিনেত্রী সুপ্রিয়া চৌধুরীর (দেবী) শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। গার্ড অব অনার জানানোর মাধ্যমে সম্পন্ন এই শেষকৃত্যে অংশ নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রিসভার সদস্য ও টলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ সুপ্রিয়ার ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীরা। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর রবীন্দ্রসদন থেকে চার কিলোমিটার দূরে কেওড়াতলা (কালীঘাট) মহাশ্মশানে সুপ্রিয়ার শেষকৃত্যানুষ্ঠান হয়। শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সুপ্রিয়া (৮৩)। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। তার প্রয়াণের খবর পেয়ে এই অভিনেত্রীর বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িতে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং টলিউডের নবীন-প্রবীণ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সুপ্রিয়ার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পরিকল্পনাও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেলা ৩টা পর্যন্ত সুপ্রিয়ার মরদেহ তার বাসভবনে রাখা হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় রবীন্দ্রসদনে। সেখানে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রয়াত এ অভিনেত্রীর মরদেহে সর্বস্তরের জনতাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর কেওড়াতলা মহাশশ্মানের জন্য মহাপ্রস্থান শুরু হয় সুপ্রিয়ার মরদেহের। শোকযাত্রা শেষ হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে গিয়ে। শোকযাত্রায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চিত্রতারকা প্রসেনজিৎসহ টালিউডের তারকা শিল্পী, রাজ্যের মন্ত্রী, কলকাতার মেয়রসহ বিশিষ্টজনেরা। শোকযাত্রা শেষে সুপ্রিয়া দেবীর মরদেহ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তৈরি একটি সাদা বেদিতে। এরপর এখানে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সুপ্রিয়া দেবীকে গান স্যালুটের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানানো হয়। বিউগলে বেজে উঠে করুণ সুর। রাষ্ট্রীয় সম্মানের পর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মহাশ্মশানের ভেতরে শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী সকাল থেকে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সময়ই প্রয়াত অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন। যেটাকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন সুপ্রিয়ার স্বজন-শুভানুধ্যায়ীরা। ১৯৩৫ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁর জন্ম মিয়ানমারে। আদিবাস ছিল বাংলাদেশের ফরিদপুরে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ২০১১ সালে ‘বঙ্গবিভূষণ’ এবং ২০১৪ সালে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাঁকে। সুপ্রিয়া দেবী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের এক নায়িকা। মহানায়ক উত্তম কুমারের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন। ১৯৫২ সালে নির্মল দের পরিচালিত উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘বসুপরিবার’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ‘সোনার হরিণ’, ‘শুন বরনারী’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘উত্তরায়ণ’, ‘সূর্যশিখা’, ‘সবরমতী’, ‘মন নিয়ে’ ‘বিলম্বিত লয়’, ‘জীবন জিজ্ঞাসা’র মতো আরও অনেক ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিক থেকে সত্তর দশকে বেশির ভাগ ছবিতে তিনি উত্তম কুমারের নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ৪৫টির বেশি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। অভিনয় করেছেন হিন্দি ছবিতেও।

আপনার মতামত লিখুন :