শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করলো ছাত্রলীগ



সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
ছাত্রী নিপীড়নে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার দাবিতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে উদ্ধার করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হন বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার এ হামলার জন্য উপাচার্যকে ‘দায়ী’ করে এর প্রতিবাদে আজ বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট। উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসানসহ সংগঠনের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে এসে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকার্রীীদের ওপর চড়াও হন। এরপর সংগঠনের আরও নেতাকর্মী এসে কয়েক দফা হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের সেখান সরিয়ে দেয়। সাত কলেজের ঢাবির অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে গতকাল উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার সামনে জড়ো হয়ে তারা মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি টিএসসি, কলাভবন ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ঘুরে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আসে। দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক কার্যালয়ের একাধিক ফটক ভেঙে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে তিনি সেখান থেকে বের হতে পারছিলেন না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন হল থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রড ও লাঠিশোটা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া করে আন্দোলনকারীদের মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রাজীব কুমার দাস, তাজুয়ার, জহর লাল রায়, অপু, আরশাদ, উম্মে হাবিবা বেনজীর, রায়হান, জাফরুল নাদিম, রাসেল ও লিটন নন্দী। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘অভিযোগ মোটেও সত্য নয়। ছাত্রলীগের কেউ সেখানে মারামারি করতে যায়নি।’ রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্রদের হুমকি-ধমকি ও ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন করে আন্দোলন নস্যাৎ করে দেন। এর প্রতিবাদে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা ১৭ জানুয়ারি প্রক্টর কার্যালয়ের ফটক ভেঙে প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করেন। পরদিন অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকে টানা আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রক্টরের পদত্যাগ, ছাত্র প্রতিনিধিসহ ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনার তদন্ত করা, অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাদের বহিষ্কার করা ও প্রশাসনের করা মামলা তুলে নেওয়া।