‘ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত নন‘ তাই আদালতে আসেননি সাংসদ আমানুর

সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য দিন ছিল আজ সোমবার। কিন্তু মামলার অন্যতম আসামি সাংসদ আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির না করায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংসদ ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত নন, তাই তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।’ অসুস্থতার কারণে সাংসদকে আদালতে হাজির না করায় এ নিয়ে চারবার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল। টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে বিচারাধীন এই মামলায় সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাক্ষীর জন্য মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কারাগারে আটক আসামি আনিসুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মো. সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আসামি মাসুদুর রহমান, ফরিদ আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিন হাজির হন। কারাগারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সাংসদ আমানুর ফিসটুলা, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিক, প্রোস্টেট, কোমর ব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ভ্রমণের উপযুক্ত না হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে বিচারক মো. আবুল মনসুর মিয়া সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ দেন। সাংসদ আমানুরের এই হাজির না করাকে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কৌশল বলে মনে করছেন মামলার বাদী পক্ষ। তাদের মতে, এর আগে অসুস্থতার নানা অজুহাতে আমানুরকে আটবার আদালতে হাজির করা হয়নি। তাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করতেই প্রায় ১০ মাস সময় নষ্ট হয়েছে। মামলার তারিখ এলেই আমানুর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। এখন সাক্ষ্যগ্রহণের সময়ও চারবার একই অজুহাতে হাজির করা হলো না। এতে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে। সাংসদ আমানুর যাতে তার প্রভাব বিস্তার করে নানা অজুহাতে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে না পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য বাদী নাহার আহমেদ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যামামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় সাংসদ আমানুর ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খানসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

আপনার মতামত লিখুন :