বাঁচবে এবার কর্ণফুলী!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

হাইকোর্টের আদেশের দীর্ঘ চার বছর পরে জেলা প্রশাসক আর ভূমি মন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপের মুখে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উদ্ধারের কাজ। ফলে নদীর দূষণ রোধসহ স্বাভাবিক গতি, সৌন্দর্য ফিরে আসবে। এতে করে নতুন করে বাঁচবে এবার কর্ণফুলী নদী।

জানা গেছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সীমানা নির্ধারণে সমস্যা থাকায় এর আগে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযানে নামতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। গত তিনদিন ধরে অভিযানের পূর্বে সীমানা নির্ধারণ আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় গতি ফিরে আসে এই উচ্ছেদ অভিযানের। এর পাশাপাশি কাজের তদারকিতে পর্যবেক্ষণে আসেন ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জমান চৌধুরী জাবেদ।

তিনি জানান, উচ্ছেদের কাজে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না।

এদিকে সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, বি ডাব্লিউ সি, পিডিবি, ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাসসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামা হয়।

অভিযানকে ঘিরে র‌্যাব, পুলিশ, নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের ব্যাপক সদস্য সতর্ক অবস্থানে থাকে। ফলে অভিযানের পূর্বে পালিয়ে যায় অবৈধ উচ্ছেদকারীরা।

সোমবার অভিযানের দুইঘণ্টার মাথায় দুপুর সোয়া ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, অনেকের কাছ থেকে হুমকি আসছে। হুমকিদাতা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন আমরা কাউকে ছাড় দেব না। কার্যক্রম চলবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/04/1549267861747.jpg

এদিকে কর্ণফুলীকে বলা হয় চট্টগ্রামের প্রাণ। এ নদীটির দুপাশের অবৈধ স্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে পরিবেশবাদী সংগঠন গুলো।

২০১৫ সালে হাইকোর্টের আদেশের পর কেবল সীমানা নির্ধারণের জন্য পিলারের কাজ করা হয়েছিল। এ কয়েক বছরের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দুপাশের অবৈধ স্থাপনা আড়াই হাজারে দাঁড়ায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পতেঙ্গা রেঞ্জের সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের সমন্বয়ক তাহমিমুর রহমান বলেন, ‘গত তিনদিন ধরে আমরা ২০০ অবৈধ স্থাপনা নির্ধারণ করেছি। গতকাল অনেকে স্থাপনা ছেড়ে চলে গেছে। আমরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আজ লাইটারেজ জেটিতে অভিযানের অংশে ১৫টি স্থাপনা ছিল, তার আগেই সবাই সরে গেছেন। আজকে ডেলাইট কার্যক্রম শেষে পরবর্তীতে পতেঙ্গা ও চাক্তাইয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এ অভিযানে ১০ একর জায়গা উদ্ধার করা হবে।’

উদ্ধারের পরে তদারকির অভাবে কয়েকদিন পরে আবারো বেদখল হয়ে যায় এমন প্রশ্নে তাহমিমুর রহমান জানান, উচ্ছেদ অভিযানের অংশে সংরক্ষণের জন্য পিলার, সতর্কতা সম্বলিত সাইনবোর্ড ছাড়াও সবুজ বনায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমকে স্বাগত জানালেও এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং নদীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার ওপর জোর দেন কর্ণফুলী নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান। তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আমরা চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী রক্ষায় কাজ করছি। এ অভিযানের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ। একই সঙ্গে নদীর সৌন্দর্য বর্ধনের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।’

আপনার মতামত লিখুন :