Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইরাকের মানব পাচার চক্রের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট!

ইরাকের মানব পাচার চক্রের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট!
ইরাকের এরবিল থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৪ জনকে, ছবি: সংগৃহীত
মাজেদুল নয়ন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে ইরাকে জনবল পাঠাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নকল বাংলাদেশি পাসপোর্ট। একটি বড় ধরনের পাচার চক্র এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যেখানে রয়েছে বিভিন্ন দেশের অপরাধীরা। এই নেটওয়ার্কের মধ্যে ভারতের হায়দ্রাবাদের নিজামাবাদের দু’জন, ইরাকের ১ জন ও ১ বাংলাদেশির কথা জানতে পেরেছে ভারতীয় পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ভারতীয় ইরাকের এরবিলে বসবাস করেন।

সম্প্রতি ইরাকের এরবিল থেকে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে দিল্লি হয়ে হায়দ্রাবাদে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইরাকের এরবিলে পৌঁছালে ইরাকের আমির, বাংলাদেশের রানা এবং হায়দ্রাবাদের নিজামাবাদের বিজয় আচার্য তাদের হাতে ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট তুলে দেন। বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং মুসলিম নামের কারণে তারা সহজে বাগদাদ পৌঁছাতে পারবেন বলে জানায় মানব পাচারকারীরা।

হায়দ্রাবাদের নাগেরপুরের বাসিন্দা গান্নোজি কৃষ্ণকার স্থাণীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ১৭ আগস্ট তাদেরকে দুবাই হয়ে এরবিলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা এক মাসের জন্যে ইরাকের ভিজিট ভিসা নিয়ে যান। সেখানে তাদেরকে বলা হয়, বাগদাদে চাকরির জন্যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং মুসলিম নাম প্রয়োজন। তাহলে কাজ পেতে সুবিধা হবে এবং চেকপোস্ট পার হওয়া যাবে। এই প্রস্তাবে তারা রাজি হয়।

গান্নোজি বলেন, এরবিলে আমাদের বিজয় আচার্য্য নামে একজন গ্রহণ করেন। সেখানে ১৫ দিন অবস্থানের পর বিজয় এবং বাংলাদেশের রানা আমাদের হাতে নকল পাসপোর্ট তুলে দেন। তারা পাসপোর্টগুলোতে থাকা ছবি তুলে ফেলেন এবং সেখানে আমাদের ছবি বসান। আমরা ট্যাক্সি চেপে এরবিল থেকে বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওনা করি। পথে আমরা প্রায় ২০টি চেকপোস্ট পার হই। সেখানে চালক কর্তৃপক্ষকে বলছিলেন, আমরা সবা্ই বাংলাদেশি। বাগদাদে আমাদের একটি হোটেলে রাখা হয়। সেখানে আমাদের আরও এক মাস রাখা হয়। তবে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। আমরা একসময় ক্ষুধায় দূর্বল হয়ে পড়ি। এক রাতে ট্যাক্সি ভাড়া করে এরবিলে ফিরে আসি।

কোর্তাপাল্লি ডিসপাল্লির বাসিন্দা পুল্লা সায়ান্না বলেন, আমাদের একটি কোম্পানিতে মাসে ত্রিশ হাজার টাকা বেতনে চাকরি পাওয়ার কথা ছিল। আমাদের ইরাকি ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। তখন আমির আমাদের কাছ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা নেন ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্যে। আমরা দেশ থেকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে টাকা এনে তাকে দেই। তবে আমাদের ভিসার আর মেয়াদ বাড়েনি।

এর মধ্যে একটি পরিবারের তিনজন চাতুর সিং, বানোথ বিনোদ এবং কররা রাভিন্দার এই পাচারের শিকার হন। তারা বলেন, 'আমরা একদিনে একটি স্যান্ডউইচ তিনজনে শেয়ার করে খেতাম। তবে হঠাৎ করেই একদিন আমাসের বাসায় পুলিশ হানা দেন। আমরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়ি। এরপর পুলিশ আমাদের ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

আপনার মতামত লিখুন :

মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি মহিলা পরিষদের

মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি মহিলা পরিষদের
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় তারই স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপির বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, মিন্নি জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।

মিন্নি একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর দেননি। তাই এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিযুক্ত মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, বহু গুরুতর অপরাধ, শত খুনের আসামিদের পাশে আইনজীবীরা দাঁড়ান। নারী নির্যাতন না শুধু হত্যাকারীদের পাশেও দাঁড়ান।

তারা বলেন, মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী আসামিরাও লিগ্যাল প্রটেকশন পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়, চাপ বা অন্য কারণে যা কিছু হোক বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, আইনানুগ, স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং আসামিরও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি দাবি করে।

সিলেটে ডাবল খুন মামলায় ১ আসামির ফাঁসি

সিলেটে ডাবল খুন মামলায় ১ আসামির ফাঁসি
আদালত চত্বরে ডাবল খুন মামলার আসামিরা/ ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে দ্বৈত (ডাবল) খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম গোলাপগঞ্জ উপজেলার মেহেরপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

একই মামলার আসামি রানু মিয়াকে তিন বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। তিনি মেহেরপুর গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে। মামলার অন্য দুই আসামি মনোয়ারা বেগম ও আয়েশা আক্তারকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সিলেটের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকালে সিলেট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গোলাপগঞ্জের মেহেরপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা হামলা চালিয়ে রুবেল আহমেদ ও ফারুক মিয়াকে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবেল ও ফারুক মারা যান।

ঘটনার দুই দিন পর নিহতদের বোন নাজিরা বেগম চারজনকে আসামি করে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র