Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ঘুরে দাঁড়াতে অভাবী মেয়ে কামরুন্নাহারের সংগ্রাম

ঘুরে দাঁড়াতে অভাবী মেয়ে কামরুন্নাহারের সংগ্রাম
ঘুরে দাঁড়াতে অভাবী মেয়ে কামরুন্নাহারের সংগ্রাম। ছবি: বার্তা২৪.কম
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
 বার্তা২৪.কম 


  • Font increase
  • Font Decrease

ছোট একটা কুঁড়েঘর। সামনে ছোট একটা উঠান। সেখানে বসে ছোট একটি মেয়ে পাঠ্যবই সামনে নিয়ে বেত বুনে ধাড়ি (চাটাই) তৈরি করছে। মেয়েটি কিছুক্ষণ বেত বুনে, তার ফাঁকে কিছুক্ষণ বই পড়ে। এভাবেই বুনন ও বইয়ের পাতায় একটু একটু নজর দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধাড়ি তৈরি করে চলেছে।

গতকাল শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২ নং গৌরীপুর ইউনিয়নে বায়রাউড়া গ্রামের একটি বাড়িতে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

কাছে গিয়ে কথা হয় মেয়েটির সঙ্গে। বার্তা২৪.কমকে তিনি জানান, তার নাম মোছা. কামরুন্নাহার। অভাবের সংসারে সারাক্ষণ কাজ করতে হয় বলে কলেজের পাঠ্যবই পড়ার সময় পান না। তাই বেত বুননের ফাঁকে ফাঁকে পড়েন তিনি।

কামরুন্নাহারের বাড়ি বায়রাউড়া গ্রামে। তিনি পড়াশোনা করছেন জেলার আনন্দমোহন কলেজের অনার্স বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। তার বাবা সাইদুর রহমান। মা আছমা খাতুন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

কথা বলতে বলতেই বুননের কাজ করে চলেছেন কামরুন্নাহার। হাতের নিপুন কৌশলে বেত বুনতে বুনতে একটি ধাড়ি তৈরি করে ফেলেছেন কয়েকঘণ্টার মধ্যেই। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘আমার দরিদ্র বাবা শহরে ফেরি করে কলা বিক্রি করে। কিন্তু তার একার আয়ে ভাইবোনদের পড়াশোনার খরচ তো দূরের কথা, তিনবেলা খেতেই পারতাম না। বড় বোন শামসুন্নাহার অনেক কষ্টে এইচএসসি পাশ করলেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেনি। তাই পড়াশোনার খরচ নিজে জোগাতে বেতের কাজ, টিউশনি ও খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করি। একই সঙ্গে সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি নিজের ও ভাইবোনদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549697192705.jpg

কামরুন্নাহের বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই বোনের মধ্যে কারিমাতুন্নাহার দশম শ্রেণিতে ও তানিয়া আক্তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে তোফায়েল আলম প্রথম শ্রেণিতে ও তৌহিদুল ইসলাম শিশু শ্রেণিতে পড়ে। এরমধ্যে দুই বোন প্রতিবন্ধী হলেও তারা সরকারি কোনো ভাতা পায় না।

২০১৫ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে কামরুন্নাহার বেসরকারি একটি ব্যাংক থেকে দুই বছরের অর্থবৃত্তি পান। কিন্তু ২০১৭ সালে এইচএসসিতে অল্পের জন্য জিপিএ-৫ ছুটে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় তার অর্থবৃত্তি। এরপর কিছুটা অর্থকষ্টের মধ্যে পড়ে যান কামরুন্নাহার। কিন্তু অদম্য মনোবল নিয়ে অভাব জয়ের যুদ্ধে নেমেছেন তিনি।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে ভাইবোনদের নিয়ে পড়তে বসেন কামরুন্নাহার। এরপর তিনি টিউশনি করানোর জন্য চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে উপজেলা শহরে যান। টিউশনি শেষ করে একটি স্কুলে পাঠদান করান তিনি। টাকার অভাবে বাসের বদলে গৌরীপুর থেকে ট্রেনে চড়ে ময়মনসিংহ শহরে নিজ কলেজে যান। কলেজে ক্লাস শেষে সন্ধ্যার ট্রেনে বাড়ি ফেরেন তিনি।

বার্তা২৪.কমকে কামরুন্নাহার বলেন, ‘সংসার ও ৫ ভাইবোনের পড়াশোনা বাবদ প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা বেত বুনে আয় করি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। বাবা কিছুটা সহযোগিতা করলেও টানাটানি থাকে। আমি টিউশনি করে ২ হাজার টাকা সংসারে দেই। সংসারের হাল ধরতে ছোটবোন সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। কিন্তু টাকার অভাবে মেশিন কিনতে পারিনি। তাই মেশিন কিনতে এখন আরেকটি টিউশনি নিয়েছি। কিন্তু আমিও তো ছোট মানুষ, শরীরে এত পরিশ্রম সহ্য হয় না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549697212025.jpg

এরই মাঝে সকালের বেলা দুপুরে গড়িয়েছে। মসজিদে বেজে উঠেছে আজানের ধ্বনি। এমন সময় বাড়িতে প্রবেশ করেন কামরুন্নাহের বাবা সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার ৫টা পোলা-মাইয়্যা কষ্ট কইর‌্যা লেহাপড়া করতাছে। ওরা ভালা খাইতারেনা, ভালা কাপড় পায় না। তাই গেরামের মানুষ আমারে কয় তুমি অভাবী মানুষ মাইয়্যাগোরে লেহাপড়া করাইয়্যা কী করাইবা? হেরচেয়ে ভালা বিয়া দিয়া দেও। এই কথাডা হুনলে খুব দুঃখ লাগে।’

বাবার কথার রেশ টেনে কামরুন্নাহার বলেন, ‘দুঃখ করো না বাবা। দুই বছর পর আমার অনার্স শেষ হলে আমি চাকরি করব, শিক্ষক হব। তখন আমাদের কোনো অভাব থাকবে না। আর ছোটরাও তখন দাঁড়িয়ে যাবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দেশের শত্রুরা দুটি কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করেছে। এর একটি হচ্ছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সেনা কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো আর অন্যটি জাসদ ও গণবাহিনীর সৃষ্টি। এদের সম্পর্কে অনেক ভালো জেনেছি যখন জেলে ছিলাম।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর যে অভ্যুত্থান হল তখন কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করে তারা আবার জেলখানায় চলে এল। জেলে শাফায়াত জামিল আমার সাথে। জেলখানায় তখন প্রথম জানতে পারলাম ৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বিপ্লবী সেল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী জঘণ্য উক্তি তারা করত।’

পাকিস্তান ফেরত সেনা অফিসারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সেনা অফিসাররা এসেই এমন একটা বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলল। পরবর্তীতে দেখেন, বেছে বেছে মুক্তিবাহিনীর অফিসারদের এরা হত্যা করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেনা যারা, তারাই প্রাণ দিয়েছে, এরা কিন্তু কেউ প্রাণ দেয়নি। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কোর্সমেট জেনারেল মোজাম্মেল, জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল ওয়াজিমুল্লাহকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছে। এমনভাবে পুরো জিনিসটা কুক্ষিগত করে ফেলল আমাদের সেনাবাহিনীকে যে জেনারেল শফিউল্লাহ কিছুই না।’

‘জেনারেল জিয়া তো ওদেরই লোক। এরা সকলে কোর্সমেট। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে কর্নেল রশিদ, কর্নেল ফারুক। কর্নেল রশিদের তো ঢাকায় পোস্টিং ছিল না, তার তো আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন নিয়ে কুমিল্লায় থাকার কথা, ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে থাকার কথা বগুড়া অথবা সাভারে। এরা যে ঢাকায় এল তাহলে আমাদের সেনাপতিরা, যারা তখন ছিলেন, তারা জানতেন না, এ সমস্ত মুভমেন্ট কী কখনো আর্মি হেডকোয়ার্টাসের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়া হয়? এগুলো তো হয় না। তাহলে আমাদের মধ্যে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা। আর মূল ষড়যন্ত্রটি যারা করেছে তারা হল পাকিস্তানিরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566671529801.jpg

দেশের সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটের ইতিহাস তুলে ধরে সাবেক এই আমলা বলেন, ‘১৯৬৫ সালের পরে তৎকালীন সিএসপি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ভাব তৈরি হয়েছিল। তার পেছনে কারণ ছিল আইয়ুব খান। মার্শাল ল চালুর পরে উনি দেখলেন সবকিছু চালায় সিএসপিরা। তিনি তখন ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য কমিটি করলেন। সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা কীভাবে খর্ব করা যায় সে ব্যবস্থা কমিটি পাকাপোক্ত করল। সেই থেকে সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হলো।’

‘আইয়ুব খানের আরেকজন প্রতীকী ইয়াহিয়া খান। আর আমাদের দেশে এসে হলেন জিয়াউর রহমান খান। আমি জিয়াউর রহমান খানই বলব। কারণ তিনি কিন্তু ওই লাইনেরই এবং তারপরে এরশাদ খান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খানেরা আমাদের ক্রমান্বয়ে যে কী পরিমাণে ক্ষতি করে গেছেন, অথচ সে জিনিসটি থেকে বঙ্গবন্ধু এসে সেই রাষ্ট্রটিতে তিনি আবার খুঁজে খুঁজে সিভিল সার্ভিসের লোকদের নিয়ে এসেছেন। শুধু সিভিল সার্ভিস নয়, উনি প্রথম সরকারে ল্যাটারাল এন্ট্রি অর্থাৎ সরকারের বাইরে কোথায় কোনো প্রতিভা আছে, যিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন, সেটা চালু করেন।’

বাকশালের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাকশালের গঠনতন্ত্র কেউ দেখেনি। বাকশালের উদ্দেশ্য কী ছিল এটি সম্পর্কে কেউ জানে না। বঙ্গবন্ধু এভাবে জনগণের কাছে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভিত্তিমূলে, তৃণমূলে। যে জন্য ৬৪টি মহকুমাকে তিনি জেলায় পরিণত করলেন। প্রতিটা জেলায় গভর্নর নিয়োগ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্বাগত সংগঠনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ।

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার
আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর কাফরুল এলাকার একটি বাসার ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। এ ঘটনায় মো. ইউনুস নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে র‍্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566664805904.jpg

সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, 'আজ বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ এর একটি দল কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে। ফ্ল্যাটটিতে অভিযানের এক পর্যায়ে একটি ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে আটক করা হয়।'

তিনি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ইউসুফ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করে থাকে।'

আটকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র