চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২০০ 'ফালতু' ঘুষের কারবারী

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস/ ছবি: বার্তা২৪.কম

আবদুস সাত্তার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে প্রায় ২০০ বহিরাগত সেকশন টু সেকশনে ঘুর ঘুর করেন। দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এসব কর্মী। কাস্টমস কর্মকর্তারা অবৈধ কার্যকলাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন এদের। কাস্টমসে এদের পরিচিতি ‘ফালতু’ হিসেবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ঘিরে এসব ফালতুরা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তারা দাপটের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে কাজ করে থাকে। কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের ওপর নির্ভরশীল। ছোট-বড় সব অবৈধ লেনদেন এই বহিরাগতদের মাধ্যমেই হয়। তারা কাউকেই পাত্তা দেয় না।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, অবৈধ পণ্য পাচারে গোপন কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে রাখে এই ফালতুরা। এক শ্রেণীর কাস্টমস কর্মকর্তা তাদের ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে এই কর্মীরাও পায় মোটা অঙ্কের টাকা। তবে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে এই বহিরাগতদের দাপুটে বিচরণ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে এদের সংখ্যা প্রায় ২০০। তারা প্রত্যেকেই বাড়ি-গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/10/1549812681260.gif

এদের অপসারণে একাধিক বার চেষ্টা চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। কিন্তু এরা থেকে যায় বহাল তবিয়তে। এবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান নিজেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এসব ‘ফালতু’দের তাড়ানোর জন্য।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে প্রায় ২০০ ফালতু রয়েছে। এদের মাধ্যমে কাস্টমসে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ হয়। তাই আমি কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।‘

তিনি বলেন, ‘মিটিং বলে দিয়েছি। ফালতুদের সাথে কোনো কাস্টমস কর্মকর্তার সম্পর্ক থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কাস্টমসের সহকারী প্রোগ্রামার ছাইফুদ্দিন বাবুল বলেন, ‘কাস্টমস হাউসে ঝাড়ু দেওয়াসহ দৈনিক কাজগুলো করতে কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্ক হয়ে যায়। সে সুযোগে সিএনএফ এজেন্টরাও তাদের ব্যবহার করে কাজ করিয়ে নে। এভাবে ফালতুরা কাস্টমসের ভেতরে ঢুকে যায়।’

বহিরাগত এসব ফালতুরা কাস্টমস হাউসের আটঘাট জানে। কোথায় কী করতে হয়, সবই এদের নখদর্পণে। তাই কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের উপর নির্ভরশীল। বড় বড় চোরাচালানির সঙ্গে এসব ফালতুদের রয়েছে সুসম্পর্ক। এদের কাছে থাকে কর্মকর্তাদের রাবার স্ট্যাম্প ও গোপনীয় কাগজপত্র।

জাতীয় এর আরও খবর

ঢামেক মর্গে ড.কামাল

রাজধানীর চাকবাজার চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পোড়া মরদেহ দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়েছেন ঐক্যফ্...