Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

সিলেটে মনোনয়ন বঞ্চিতদের হুংকার

সিলেটে মনোনয়ন বঞ্চিতদের হুংকার
ছবি: সংগৃহীত
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন মোড় নিয়েছে সিলেটের তৃণমূল আওয়ামী লীগে। মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার হুংকার দিচ্ছেন। কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। বিশেষ করে খনিজ সম্পদে ভরপুর পাথর কোয়ারি অধ্যুসিত উপজেলাগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সিলেটের ১২টি উপজেলার মধ্যে ১১টিতে ২য় ধাপে আগামী ১৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ১১ উপজেলায় মনোনয়নপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্বাচন করতে গিয়ে চরম বাধার মুখে পড়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ। একমাত্র গোলাপগঞ্জ এবং জকিগঞ্জ উপজেলা ছাড়া কোথাও সফল হননি জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এমনকি একাধিক উপজেলায় মারামারিরও ঘটনা ঘটেছে।

পাথর কোয়ারি অধ্যুসিত সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই সময় কেন্দ্র থেকে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার অনুসারীরা আনন্দ উল্লাস করে একে অপরের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে। তবে ইতোমধ্যে সেখানে বিদ্রোহী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামিম আহমদ। কোয়ারি এলাকায় একক আধিপত্য রয়েছে তার।

শামিম আহমদ এর মতে কেন্দ্র কাকে মনোনয়ন দিয়েছে তা দেখার বিষয় নয়। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন। এতে কেন্দ্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জিতলে ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরবে, এর নজির ভূরি ভূরি রয়েছে।’

গোয়াইনঘাট উপজেলায়ও বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন বার বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ। তিনি এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন গোলাম কিবরিয়া হেলাল। ফারুক আহমদ জানান, ঢাকা থেকে ফিরেই তিনি তার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

কানাইঘাট উপজেলায় কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও সিলেট মহানগরের সভাপতি আব্দুল মোমিনকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই উপজেলায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খায়ের চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ তাকে সমর্থনও দিয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। লিয়াকতকে এক পক্ষ সমর্থন দিলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে নিয়ে নানা মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ওই উপজেলায় আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী কামাল আহমদ অভিযোগ করেছেন একটি চক্র টাকা খেয়ে তার নাম নির্বাচনী বোর্ডেই পাঠায়নি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠেই রয়েছেন। বিগত নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বচান করেছিলেন কামাল আহমদ।

অন্যদিকে লিয়াকত আলী নানা কারণে বিতর্কিত। বিশেষ করে কোয়ারি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে নানা রাহাজানি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সিলেট সদর উপজেলায় মনোনয়ন পেয়েছেন গত ২ বারের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ। তার সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক। তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে সিলেটের ১১ উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- বিশ্বনাথে মো. নুনু মিয়া, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় মো. আবু জাহিদ, বালাগঞ্জ উপজেলায় মো. মোস্তাকুর রহমান, জকিগঞ্জ উপজেলায় মো. লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মো. ইকবাল আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলায় আতাউর রহমান খান।

আপনার মতামত লিখুন :

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দেশের শত্রুরা দুটি কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করেছে। এর একটি হচ্ছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সেনা কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো আর অন্যটি জাসদ ও গণবাহিনীর সৃষ্টি। এদের সম্পর্কে অনেক ভালো জেনেছি যখন জেলে ছিলাম।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর যে অভ্যুত্থান হল তখন কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করে তারা আবার জেলখানায় চলে এল। জেলে শাফায়াত জামিল আমার সাথে। জেলখানায় তখন প্রথম জানতে পারলাম ৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বিপ্লবী সেল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী জঘণ্য উক্তি তারা করত।’

পাকিস্তান ফেরত সেনা অফিসারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সেনা অফিসাররা এসেই এমন একটা বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলল। পরবর্তীতে দেখেন, বেছে বেছে মুক্তিবাহিনীর অফিসারদের এরা হত্যা করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেনা যারা, তারাই প্রাণ দিয়েছে, এরা কিন্তু কেউ প্রাণ দেয়নি। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কোর্সমেট জেনারেল মোজাম্মেল, জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল ওয়াজিমুল্লাহকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছে। এমনভাবে পুরো জিনিসটা কুক্ষিগত করে ফেলল আমাদের সেনাবাহিনীকে যে জেনারেল শফিউল্লাহ কিছুই না।’

‘জেনারেল জিয়া তো ওদেরই লোক। এরা সকলে কোর্সমেট। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে কর্নেল রশিদ, কর্নেল ফারুক। কর্নেল রশিদের তো ঢাকায় পোস্টিং ছিল না, তার তো আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন নিয়ে কুমিল্লায় থাকার কথা, ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে থাকার কথা বগুড়া অথবা সাভারে। এরা যে ঢাকায় এল তাহলে আমাদের সেনাপতিরা, যারা তখন ছিলেন, তারা জানতেন না, এ সমস্ত মুভমেন্ট কী কখনো আর্মি হেডকোয়ার্টাসের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়া হয়? এগুলো তো হয় না। তাহলে আমাদের মধ্যে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা। আর মূল ষড়যন্ত্রটি যারা করেছে তারা হল পাকিস্তানিরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566671529801.jpg

দেশের সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটের ইতিহাস তুলে ধরে সাবেক এই আমলা বলেন, ‘১৯৬৫ সালের পরে তৎকালীন সিএসপি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ভাব তৈরি হয়েছিল। তার পেছনে কারণ ছিল আইয়ুব খান। মার্শাল ল চালুর পরে উনি দেখলেন সবকিছু চালায় সিএসপিরা। তিনি তখন ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য কমিটি করলেন। সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা কীভাবে খর্ব করা যায় সে ব্যবস্থা কমিটি পাকাপোক্ত করল। সেই থেকে সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হলো।’

‘আইয়ুব খানের আরেকজন প্রতীকী ইয়াহিয়া খান। আর আমাদের দেশে এসে হলেন জিয়াউর রহমান খান। আমি জিয়াউর রহমান খানই বলব। কারণ তিনি কিন্তু ওই লাইনেরই এবং তারপরে এরশাদ খান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খানেরা আমাদের ক্রমান্বয়ে যে কী পরিমাণে ক্ষতি করে গেছেন, অথচ সে জিনিসটি থেকে বঙ্গবন্ধু এসে সেই রাষ্ট্রটিতে তিনি আবার খুঁজে খুঁজে সিভিল সার্ভিসের লোকদের নিয়ে এসেছেন। শুধু সিভিল সার্ভিস নয়, উনি প্রথম সরকারে ল্যাটারাল এন্ট্রি অর্থাৎ সরকারের বাইরে কোথায় কোনো প্রতিভা আছে, যিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন, সেটা চালু করেন।’

বাকশালের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাকশালের গঠনতন্ত্র কেউ দেখেনি। বাকশালের উদ্দেশ্য কী ছিল এটি সম্পর্কে কেউ জানে না। বঙ্গবন্ধু এভাবে জনগণের কাছে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভিত্তিমূলে, তৃণমূলে। যে জন্য ৬৪টি মহকুমাকে তিনি জেলায় পরিণত করলেন। প্রতিটা জেলায় গভর্নর নিয়োগ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্বাগত সংগঠনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ।

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার
আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর কাফরুল এলাকার একটি বাসার ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। এ ঘটনায় মো. ইউনুস নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে র‍্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566664805904.jpg

সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, 'আজ বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ এর একটি দল কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে। ফ্ল্যাটটিতে অভিযানের এক পর্যায়ে একটি ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে আটক করা হয়।'

তিনি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ইউসুফ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করে থাকে।'

আটকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র