Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আত্মহত্যায় কি প্ররোচিত করছে গণমাধ্যম!

আত্মহত্যায় কি প্ররোচিত করছে গণমাধ্যম!
আত্মহত্যা কাম্য নয়, ছবি: প্রতীকী
মাজেদুল নয়ন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা সবাই একসময় শিশু ছিলাম। ধীরে ধীরে ভালো-খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বয়সে এসে পৌঁছেছি। আপনি নিজেও যদি নিজের অতীত সময়গুলোতে চোখ ঘুরান, সেখানে আশাহীন, সাহায্যহীন, মানসিক চাপ অতিক্রম করার কিছু সময় খুঁজে পাবো। যারা সময়গুলো এখন পর্যন্ত অতিক্রম করেছেন, তারা জানেন কিভাবে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছেন। আর যারা এই বাধায় আটকে গিয়েছেন, নিজেদের জীবনকে বিসর্জন দিয়েছেন তাদের জন্য শোক ও সমবেদনা।

কেমন জানি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন প্রতিদিনকার অনলাইন নিউজপোর্টাল ব্রাউজ করে বা দৈনিক পত্রিকার পাতা ওল্টালে অথবা টেলিভিশনে স্ক্রলে আত্মহত্যার খবর দেখা বা পড়া। যিনি আত্মহত্যা করেছেন! তার পরিচয়, তার পরিবারের অবস্থা, কিভাবে আত্মহত্যা করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার কথা লিখে গিয়েছেন! সবকিছুই গণমাধ্যম নিঁখুতভাবে তুলে ধরছে, বিশ্লেষণ করছে।

এরপর ফলোআপ সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, পরে আরও অন্তরালের খবর। বাদ যাচ্ছে না পারিবারিক, সামাজিক অবস্থানের মতো বিষয়গুলোও। তবে দুনিয়াজুড়ে কিন্তু আত্মহত্যার খবর প্রকাশে একটি মানদণ্ড মেনে চলা হয়। বিশেষত আত্মহত্যার খবর প্রকাশই করা হয় না।

একবার সিঙ্গাপুরে স্ট্রেইট টাইমসের সাবেক সম্পাদক এলান জনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, 'আত্মহত্যার খবরের বিষয়ে কি করে সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যমগুলো?'

উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'আত্মহত্যার খবর প্রকাশ করা হয় না। কারণ যিনি আত্মহত্যা করেছেন, তিনি প্রচারের জন্যেই এই দূর্ভাগ্যজনক পরিণতি বেছে নিয়েছেন। এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ, অন্যদেরও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে।'

তবে কি আমাদের গণমাধ্যমগুলো এই আত্মহত্যাকে আলোচিত করে তুলছে?

গবেষণায় এটা বারবারই উঠে এসেছে, আত্মহত্যার সংবাদ যে মানুষকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। গত বছর প্রকাশিত কানাডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের জার্নালে বলা হয়েছে, আত্মহত্যায় মানুষকে যে বিষয়গুলো প্ররোচিত করে, তার মধ্যে একটি বড় কারণ হচ্ছে তাকে আত্মহত্যার খবর জানানো। যে কাজটি এখন বাংলাদেশের গণমাধ্যম করে যাচ্ছে।

তাই প্রতিদিন আত্মহত্যার খবর পাওয়ার দায়তো গণমাধ্যমেরও কিছু রয়েছে।

ওই জার্নালে বলা হয়েছে, আত্মহত্যা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম। মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে তুলতে পারে গণমাধ্যম। সেটি কি করছে গণমাধ্যম?

আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গণমাধ্যমে যখন আত্মহত্যার খবর বেশি প্রকাশ হতে থাকে, তখন আত্মহত্যার হারও বাড়তে থাকে। কারণ যারা এই ধরনের কঠিন মুহূর্ত অতিক্রম করছেন, তারা ভাবেন আত্মহত্যা করলে তাদের খবরটিও এভাবে প্রকাশ পাবে। আর যাদের ওপর তাদের ক্ষোভ রয়েছে, তারাও মানসিকভাবে শাস্তির সম্মুখিন হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি বিষয় লক্ষণীয়। সেটি হচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা। ভিকারুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যা দেশের মানুষকে মর্মাহত করে। স্কুলের শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়। গণমাধ্যম তীর ছুঁড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের আত্মহত্যা বছরের শুরুতেই দেশবাসীকে মর্মাহত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আঙুল তোলে গণমাধ্যম। চলে চুলচেরা নানা বিশ্লেষণ।

চিকিৎসক আকাশের আত্মহত্যার পরে তার স্ত্রী মিতুর দিকে যেভাবে গণমাধ্যম তেড়ে আসলো, তাতেও দেখা যায় দায়ী ব্যক্তিদের অপরাধী প্রমাণ করতে সচেষ্ট থাকে সমাজ এবং গণমাধ্যম।

গবেষণা বলছে, যারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয় এবং কারও ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়, তাদেরকে উৎসাহ দেয় এই ধরনের সংবাদগুলো। তারাও ভাবেন, তাদের আত্মহত্যার পর সমাজ এবং গণমাধ্যম এই ধরনের প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠবে।

তাই গবেষণা এবং আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন সংবাদমাধ্যমগুলো পর্যালোচনা করলে, আমাদের গণমাধ্যমেরও নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, আত্মহত্যার সংবাদ বিস্তারিতভাবে প্রকাশের অর্থ কি! গণমাধ্যম কি প্ররোচনা দিচ্ছে নাকি! বা আত্মহত্যা ঠেকাতে কি করছে গণমাধ্যম!

আপনার মতামত লিখুন :

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন
পুরনো ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়দানকারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই মামলা করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেছেন, ‘আগামী রোববার (২১ জুলাই) আদালত খোলার সাথে সাথে আমি এই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব। যেখানে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণের দেশ। সেখানে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে তাই আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563565323305.jpg

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি, সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে উদ্ভট অভিযোগ, শাহরিয়ার আলমের নিন্দা

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র