Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

মৃত্যুর আগে বন্ধুকে জমি-বাড়ি করে দেন সৌদি নাগরিক

মৃত্যুর আগে বন্ধুকে জমি-বাড়ি করে দেন সৌদি নাগরিক
সৌদি নাগরিক ও তার বন্ধু সানী, ছবি: সংগৃহীত
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
গৌরীপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মৃত্যুর ৩/৪ বছর আগে সৌদি নাগরিক আবু নাছের আল দুসারী (৪৫) বন্ধু লালন সাধক আবু সাইদ সানীকে (৩৮) তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা গ্রামে জমি কিনে পাকা বাড়ি করে দেন। সানীর জীবিকা নির্বাহের জন্য ওই গ্রামে জমি কিনে মাছের ফিসারীও করে দেন সৌদি নাগরিক।

অপরদিকে বাড়ি নির্মাণের পর সৌদি নাগরিক আবু নাসের প্রায়ই ডৌহাখলা ওই গ্রামের বাড়িতে দীর্ঘদিনের জন্য বেড়াতে আসত। প্রতি রাতে বন্ধু সানীকে নিয়ে মদ-গাঁজার আসর বসাতেন। গত ৭ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে সানীর ওই বাড়ি থেকে সৌদি নাগরিক আবু নাছেরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মাদক মামলায় সানীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে সানীর ওই বাড়িটি তালাবন্ধ রয়েছে।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডৌহাখলা গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসী ও সানীর পরিবারের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা গ্রামের দরিদ্র কৃষক করম আলীর ছেলে আবু সাইদ সানী। অভাব-অনটনের সংসারে ২২ বছর পূর্বে সে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বাড়ি ছেড়ে ঢাকা গিয়ে হোটেলে কাজ নেয়। কয়েক বছর পর ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে ভিসা ব্যবসায়ী সৌদি নাগরিক আবু নাছেরের সাথে সানীর পরিচয় হয়। তারপর দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। এরপর সৌদি নাগরিকের টাকায় অভাবী সানীর ভাগ্য পরিবর্তন হতে থাকে। মদ-গাঁজার আসর বসিয়ে দুহাতে সৌদি নাগরিকের টাকা উড়াতে থাকে সানী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549893041253.jpg

সানীর বড় ভাই আব্দুর রাশিদ বলেন, 'সানী ও সৌদি নাগরিক দুজনেই প্রচুর পরিমাণে মদ পান করত। প্রথমদিকে তারা দুজন ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে মাসের পর মাস এক সাথে থেকে মদ-পান করত। প্রতিদিন তারা হাজার হাজার টাকা দামের মদ ও বিয়ার পান করত। কিন্তু হোটেলে থাকা-খাওয়া বেশি টাকা বেশি খরচ হয় বলে চার বছর পূর্বে সৌদি নাগরিক সানী ভাইকে জমি কিনে গ্রামে পাকা বাড়ি করে দেন। এরপর থেকে সৌদি নাগরিক এই বাড়িতে বেড়াতে এসে নিয়মিত সানী ভাইয়ের সাথে মদের আসর বসাতেন। প্রতিদিন কমপক্ষে তাদের ১০ হাজার টাকার মদ লাগত।'

সানীর বাবা করম আলী বলেন, 'সানী নেশার জগতে ঢুকে পড়ার পর থেকে আমাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। গৌরীপুর থাকলে সানী প্রায়ই আমার বাড়িতে এসে টাকার জন্য উৎপাত করত। কয়েকদিন আগেও সে বাড়িতে এসে আমার ঘরে ভাঙচুর করেছে।'

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'সৌদি নাগরিক আবু নাছেরের মরদেহ রোববার সৌদি দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় লালন সাধক সানীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সানী পুলিশকে জানিয়েছেন সৌদি নাগরিকের টাকায় সে জমি কিনে বাড়ি করেছে। বাড়ি নির্মাণের পর থেকে সৌদি নাগরিক প্রায়ই তার বাড়িতে বেড়াতে এসে মদ্যপান করত।'

গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দীকী বলেন, 'সৌদি নাগরিক আবু নাছেরর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তার বন্ধু সানীর বিরুদ্ধেও একটি মাদক মামলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসক আমাদের জানিয়েছেন আবু নাছেরের মরদেহে অ্যালকোহলে সেবনের সিম্পটম ছিল। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত হয়ে কোনো কিছুই বলতে পারছি না।'

আপনার মতামত লিখুন :

পাখির জন্য ভালোবাসার আবাস

পাখির জন্য ভালোবাসার আবাস
পাখির জন্য নিরাপদ আবাস গড়তে গাছে মাটির পাত্র বেঁধে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা

‘পাখি-সব করে রব, রাতি পোহাইল’—মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ছড়ার ছড়াটি পড়েনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও পাখির কিচির-মিচির হরহামেশাই শোনা যেত। কিন্তু এখন আর ছড়ার সঙ্গে মিল রেখে পাখির কলরব শোনা যায় না। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

তাই ‘ইজি ডোর’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা খুলনা শহরের সাতরাস্তার মোড়ের একটি বাদাম গাছে ৪০টি মাটির পাত্র বেঁধে দিয়েছেন পাখির জন্য নিরাপদ আবাস গড়ে দিতে। তাদের কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টু-লেট ফর বার্ডস’।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিনভর সাতরাস্তার মোড়ের গাছটিতে পাখির বাসা সংযোজন করেছে উদ্যমী ওই তরুণরা। এ সপ্তাহে জিলা স্কুল, টাউন জামে মসজিদ রোড এবং ওজোপাডিকো সদর দফতরের ভেতরের গাছে পাখির নিরাপদ আবাসের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।

ইজি ডোরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষার্থী আহসান আহম্মেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সাতরাস্তা মোড়ের বাদাম গাছটিতে প্রতিদিন বিকেল থেকে শত শত চড়ুই পাখি আশ্রয় নেয়। পাখিরগুলোর ডাকে বিকেল থেকে পুরো এলাকা মুখরিত থাকে। আমরা কয়েকজন বন্ধু এখানে আড্ডা দিতাম। আড্ডা দিতে দিতেই পাখির নিরাপদ আবাসের কথাটা সবার মাথায় আসে। এরপর শহরের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করি। এরপর টাকা সংগ্রহ করে প্রথম দিনে ৪০টি মাটির পাত্র কিনে বাদাম গাছে লাগিয়েছি। এ কাজে খুলনা ফায়ার সার্ভিস আমাদের সাহায্য করেছে।

পাখির নিরাপদ আবাসের জন্য কাজ করা এসব স্বপ্নবাজ তরুণরা আরও বলেন, এ কাজের উদ্দেশ্য খুলনা শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরি হলে এ শহরের সৌন্দর্য এবং পরিবেশ অনেক ভালো হবে বলে আমরা মনে করি। পাখিরা নিশ্চিন্তে শহরে যেন থাকতে পারে তার একটা পরিবেশ তৈরি করাও আমাদের কাজের লক্ষ্য। শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির ছাদে বা যেকোন স্থানে সবাই যেন পাখির জন্য একটু এগিয়ে আসে সেই চেষ্টাও করছি। আমাদের উদ্যোগ একদিনের নয় বরং সহযোগিতা পেলে আমরা এই কাজ চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে আরও আধুনিক উপায় বের করে পাখি ও অন্যান্য প্রজাতির জন্য সুন্দর আবাসস্থল তৈরি করব।

ইজি ডোরের এ উদ্য‌োগের সঙ্গে ছিলেন—মাহমুদুল ইসলাম সনেট, আহসান আহম্মেদ, জুবায়ের হাসান সৈকত, শুভ্র মজুমদার, আলামিন শেখ, সাব্বির আহম্মেদ, আলামিন, তানভীর আহম্মেদ সজল প্রমুখ। এরা প্রত্যেকেই ইজি ডোর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবী।

খুলনা শহরের কিছু কিছু এলাকায় প্রচুর পাখি দেখা যায়। পাখির জন্য নিরাপদ আবাস বানিয়ে প্রাণীটির প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন খুলনার এই তরুণরা। এ কাজের জন্য তরুণেরা মানুষের ভালোবাসাও পাচ্ছেন।

সাংবাদিক প্লাবনকে হুমকি, থানায় জিডি

সাংবাদিক প্লাবনকে হুমকি, থানায় জিডি
রেজাউল করিম প্লাবন

সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চাঁদা না পাওয়ায় মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় উল্লেখ করে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এসব তথ্য জানান দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার রেজাউল করিম প্লাবন। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারীতে।

জিডিতে তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে মাসুম বিল্লাহ নামে একজন সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন থেকে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট চিলমারী আমার নিজ এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে ১০০টি ত্রাণের স্লিপ দাবি করে। চাঁদার স্লিপ না দেয়ায় সে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায়। এরই জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে মাসুম বিল্লাহ ও তার সহযোগী মামুন আমার পরিবারের লোকজনদের হয়রানি করছে। বাসায় গিয়ে বিনা কারণে শাসিয়ে আসছে। এ নিয়ে মাসুম বিল্লাহ আমাকে ফোন দিয়ে বৃহস্পতিবার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও হত্যার হুমকি দেয়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

রেজাউল করিম প্লাবন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই আমি হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। প্রশাসনের কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র