Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজশাহীতে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে বাড়ছে প্রাণহানি

রাজশাহীতে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে বাড়ছে প্রাণহানি
ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনস্ত রেললাইন এলাকায় অবৈধ রেলক্রসিংয়ে বাড়ছে প্রাণহানি। মূলত মানুষ নিজের প্রয়োজনে যত্রতত্র ক্রসিং বানিয়ে নিয়েছেন। ফলে এসব ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেইটম্যান। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অরক্ষিত এসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী নিহত হন। গত ১৩ নভেম্বর সিল্কসিটি ট্রেনের ছাদ থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জিআরপি থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসে একজন করে ৪ জন ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। এছাড়া জুনে ৩ জন, জুলাই ও আগস্ট ২ জন করে, সেপ্টম্বরে ৩ জন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে একজন করে মোট ২ জনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, এই এলাকার ৮০ শতাংশ ক্রসিংয়েই নেই ব্যারিকেড ও গেইটম্যান। ফলে অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা বাড়ছেই। ২০১৮ সালে রাজশাহী জিআরপি থানার হরিয়ান থেকে রহনপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় দুর্ঘটনায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন দুই শতাধিক।

সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ক্রসিং ঘুরে দেখা গেছে, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ‘সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড’ ঝুলছে। রেলক্রসিংগুলোতে ডিভাইস পদ্ধতির সিগন্যাল সিস্টেম নেই। ফলে স্থানীয় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ক্রসিং পার হচ্ছেন।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, অনুমোদিত ক্রসিংগুলো অরক্ষিত নেই। অরক্ষিত ক্রসিংগুলো অবৈধ। যা স্থানীয় লোকজন নিজেদের প্রয়োজনে তৈরি করে নিয়েছেন। তবে অনুমোদিত অল্প কিছু ক্রসিংয়ে ‘আর্থিক সংকটের’ কারণে এখনও গেইটম্যান নিয়োগ করা যায়নি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলে এক হাজার ২৪৯টি ক্রসিং আছে। যার মধ্যে মাত্র ২৫৭টি রেলক্রসিং অনুমোদিত। বাকি ৯৯৩টি ক্রসিং অবৈধ। তবে অবৈধ ক্রসিংগুলোতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অলিখিতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ৭৫৭টিতে কোনো জনবল নেই।

অভিযোগ আছে, ক্রসিংগুলোতে ২ জন করে দুই শিফটে কাজ করার নিয়ম থাকলেও একজনকে সারাদিন ডিউটি করানো হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পর গেইটম্যানরা বিরতিতে গেলে ক্রসিংগুলোও ফাঁকা থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী নগরীর একটি ক্রসিংয়ের গেইটম্যান বার্তা২৪.কম’কে জানান, রেলপথে সংস্কার হওয়ার পর ট্রেনের গতি বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ তেমন নজর রাখে না। তারা বিরতিতে গেলে, ক্রসিংগুলো ফাঁকা থাকে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘অনুমোদিত ক্রসিংগুলোতে ব্যারিকেড ও গেইটম্যান রয়েছে। তবে মৌখিকভাবে অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ক্রসিং করা হয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে অনুমোদন দিয়ে জনবল নিয়োগ ও ব্যারিকেড বসানো হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

পাখির জন্য ভালোবাসার আবাস

পাখির জন্য ভালোবাসার আবাস
পাখির জন্য নিরাপদ আবাস গড়তে গাছে মাটির পাত্র বেঁধে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা

‘পাখি-সব করে রব, রাতি পোহাইল’—মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ছড়ার ছড়াটি পড়েনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও পাখির কিচির-মিচির হরহামেশাই শোনা যেত। কিন্তু এখন আর ছড়ার সঙ্গে মিল রেখে পাখির কলরব শোনা যায় না। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

তাই ‘ইজি ডোর’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা খুলনা শহরের সাতরাস্তার মোড়ের একটি বাদাম গাছে ৪০টি মাটির পাত্র বেঁধে দিয়েছেন পাখির জন্য নিরাপদ আবাস গড়ে দিতে। তাদের কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টু-লেট ফর বার্ডস’।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিনভর সাতরাস্তার মোড়ের গাছটিতে পাখির বাসা সংযোজন করেছে উদ্যমী ওই তরুণরা। এ সপ্তাহে জিলা স্কুল, টাউন জামে মসজিদ রোড এবং ওজোপাডিকো সদর দফতরের ভেতরের গাছে পাখির নিরাপদ আবাসের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।

ইজি ডোরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষার্থী আহসান আহম্মেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সাতরাস্তা মোড়ের বাদাম গাছটিতে প্রতিদিন বিকেল থেকে শত শত চড়ুই পাখি আশ্রয় নেয়। পাখিরগুলোর ডাকে বিকেল থেকে পুরো এলাকা মুখরিত থাকে। আমরা কয়েকজন বন্ধু এখানে আড্ডা দিতাম। আড্ডা দিতে দিতেই পাখির নিরাপদ আবাসের কথাটা সবার মাথায় আসে। এরপর শহরের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করি। এরপর টাকা সংগ্রহ করে প্রথম দিনে ৪০টি মাটির পাত্র কিনে বাদাম গাছে লাগিয়েছি। এ কাজে খুলনা ফায়ার সার্ভিস আমাদের সাহায্য করেছে।

পাখির নিরাপদ আবাসের জন্য কাজ করা এসব স্বপ্নবাজ তরুণরা আরও বলেন, এ কাজের উদ্দেশ্য খুলনা শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরি হলে এ শহরের সৌন্দর্য এবং পরিবেশ অনেক ভালো হবে বলে আমরা মনে করি। পাখিরা নিশ্চিন্তে শহরে যেন থাকতে পারে তার একটা পরিবেশ তৈরি করাও আমাদের কাজের লক্ষ্য। শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির ছাদে বা যেকোন স্থানে সবাই যেন পাখির জন্য একটু এগিয়ে আসে সেই চেষ্টাও করছি। আমাদের উদ্যোগ একদিনের নয় বরং সহযোগিতা পেলে আমরা এই কাজ চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে আরও আধুনিক উপায় বের করে পাখি ও অন্যান্য প্রজাতির জন্য সুন্দর আবাসস্থল তৈরি করব।

ইজি ডোরের এ উদ্য‌োগের সঙ্গে ছিলেন—মাহমুদুল ইসলাম সনেট, আহসান আহম্মেদ, জুবায়ের হাসান সৈকত, শুভ্র মজুমদার, আলামিন শেখ, সাব্বির আহম্মেদ, আলামিন, তানভীর আহম্মেদ সজল প্রমুখ। এরা প্রত্যেকেই ইজি ডোর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবী।

খুলনা শহরের কিছু কিছু এলাকায় প্রচুর পাখি দেখা যায়। পাখির জন্য নিরাপদ আবাস বানিয়ে প্রাণীটির প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন খুলনার এই তরুণরা। এ কাজের জন্য তরুণেরা মানুষের ভালোবাসাও পাচ্ছেন।

সাংবাদিক প্লাবনকে হুমকি, থানায় জিডি

সাংবাদিক প্লাবনকে হুমকি, থানায় জিডি
রেজাউল করিম প্লাবন

সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চাঁদা না পাওয়ায় মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় উল্লেখ করে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এসব তথ্য জানান দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার রেজাউল করিম প্লাবন। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারীতে।

জিডিতে তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে মাসুম বিল্লাহ নামে একজন সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন থেকে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট চিলমারী আমার নিজ এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে ১০০টি ত্রাণের স্লিপ দাবি করে। চাঁদার স্লিপ না দেয়ায় সে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায়। এরই জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে মাসুম বিল্লাহ ও তার সহযোগী মামুন আমার পরিবারের লোকজনদের হয়রানি করছে। বাসায় গিয়ে বিনা কারণে শাসিয়ে আসছে। এ নিয়ে মাসুম বিল্লাহ আমাকে ফোন দিয়ে বৃহস্পতিবার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও হত্যার হুমকি দেয়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

রেজাউল করিম প্লাবন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই আমি হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। প্রশাসনের কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র