রাজশাহীতে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে বাড়ছে প্রাণহানি

ছবি: বার্তা২৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনস্ত রেললাইন এলাকায় অবৈধ রেলক্রসিংয়ে বাড়ছে প্রাণহানি। মূলত মানুষ নিজের প্রয়োজনে যত্রতত্র ক্রসিং বানিয়ে নিয়েছেন। ফলে এসব ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেইটম্যান। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অরক্ষিত এসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী নিহত হন। গত ১৩ নভেম্বর সিল্কসিটি ট্রেনের ছাদ থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জিআরপি থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসে একজন করে ৪ জন ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। এছাড়া জুনে ৩ জন, জুলাই ও আগস্ট ২ জন করে, সেপ্টম্বরে ৩ জন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে একজন করে মোট ২ জনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, এই এলাকার ৮০ শতাংশ ক্রসিংয়েই নেই ব্যারিকেড ও গেইটম্যান। ফলে অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা বাড়ছেই। ২০১৮ সালে রাজশাহী জিআরপি থানার হরিয়ান থেকে রহনপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় দুর্ঘটনায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন দুই শতাধিক।

সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ক্রসিং ঘুরে দেখা গেছে, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ‘সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড’ ঝুলছে। রেলক্রসিংগুলোতে ডিভাইস পদ্ধতির সিগন্যাল সিস্টেম নেই। ফলে স্থানীয় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ক্রসিং পার হচ্ছেন।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, অনুমোদিত ক্রসিংগুলো অরক্ষিত নেই। অরক্ষিত ক্রসিংগুলো অবৈধ। যা স্থানীয় লোকজন নিজেদের প্রয়োজনে তৈরি করে নিয়েছেন। তবে অনুমোদিত অল্প কিছু ক্রসিংয়ে ‘আর্থিক সংকটের’ কারণে এখনও গেইটম্যান নিয়োগ করা যায়নি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলে এক হাজার ২৪৯টি ক্রসিং আছে। যার মধ্যে মাত্র ২৫৭টি রেলক্রসিং অনুমোদিত। বাকি ৯৯৩টি ক্রসিং অবৈধ। তবে অবৈধ ক্রসিংগুলোতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অলিখিতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ৭৫৭টিতে কোনো জনবল নেই।

অভিযোগ আছে, ক্রসিংগুলোতে ২ জন করে দুই শিফটে কাজ করার নিয়ম থাকলেও একজনকে সারাদিন ডিউটি করানো হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পর গেইটম্যানরা বিরতিতে গেলে ক্রসিংগুলোও ফাঁকা থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী নগরীর একটি ক্রসিংয়ের গেইটম্যান বার্তা২৪.কম’কে জানান, রেলপথে সংস্কার হওয়ার পর ট্রেনের গতি বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ তেমন নজর রাখে না। তারা বিরতিতে গেলে, ক্রসিংগুলো ফাঁকা থাকে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘অনুমোদিত ক্রসিংগুলোতে ব্যারিকেড ও গেইটম্যান রয়েছে। তবে মৌখিকভাবে অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ক্রসিং করা হয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে অনুমোদন দিয়ে জনবল নিয়োগ ও ব্যারিকেড বসানো হবে।’

জাতীয় এর আরও খবর

ঢামেক মর্গে ড.কামাল

রাজধানীর চাকবাজার চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পোড়া মরদেহ দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়েছেন ঐক্যফ্...