Alexa

দক্ষতা-সফলতার পরিচয় দিয়ে আসছে আনসাররা

দক্ষতা-সফলতার পরিচয় দিয়ে আসছে আনসাররা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতীয় সংকটকালে ও জরুরি মুহূর্তে আপনারা দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। প্রতি বছর দেশের জাতীয় ও সামাজিক ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসবে ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষা, জঙ্গিবাদ ও মাদক প্রতিরোধে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে আমাদেরকে সব সময় সজাগ থাকতে হবে।’

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৯তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনসার ভিডিপির মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি আনসার ও ভিডিপির নির্বাচিত সদস্যদের ‘আনসার সাহসিকতা’ ও ‘আনসার সেবা’ পদক প্রদান করেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলাবাহিনী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার পুরুষ ও নারী সদস্য সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জনসম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অন্যদিকে ২টি পূর্ণাঙ্গ নারী ব্যাটালিয়নসহ ৪১টি ব্যাটালিয়নে প্রায় ৫৭ হাজার সদস্য পার্বত্য অঞ্চলে সমতলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০১৮৩টি ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৫ লাখ আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলার জনগণকে উপহার দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৫ জন আনসার সদস্য জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’

আনসার বাহিনীর উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সাথে যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন থেকেই এ বাহিনীর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেই। ১৯৯৮ সালে আমরা প্রথম এ বাহিনীকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেছি। বিসিএস কর্মকর্তাদের পদের মানোন্নয়ন করা হয়েছে। আমরা ২০০০ সালে ব্যাটালিয়ন, আনসার সদস্যদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা শুরু করি। সেবা ও সাহসিকতা পদক দিচ্ছি। আনসার সদস্যদের জন্য ঝুঁকি ভাতার প্রবর্তন ও তা বৃদ্ধি করেছি। আপনাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার আন্তরিক এবং সহানুভূতিশীল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমরা উন্নত দেশ গড়তে চাই। এই অর্জনটা যাতে আমরা ধরে রাখতে পারি সেজন্য সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য যে ব্যাপক কর্মসূচিগুলো আমরা হাতে নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যা এদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গ্রাম বাংলায় দারিদ্রতা দূরীকরণের জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেমন নিয়েছি, আবার আর্থিকভাবে যাতে সচ্ছলতা আসে তার জন্য আমরা প্রতিটি মানুষের বাড়ি, জমি যেন পতিত না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি প্রজেক্ট নিয়েছি। আর সেটি হল ‘একটি বাড়ি একটি খামার’। এই একটি বাড়ি একটি খামারের নাম আমি পরিবর্তন করে এখন দিয়েছি ‘আমার বাড়ি আমার খামার’।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সামরিক-বেসামরিক, সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।