Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

২০ টাকার খেসারত দিতে মা বেছে নিলেন সন্তানদের

২০ টাকার খেসারত দিতে মা বেছে নিলেন সন্তানদের
এই দুই সন্তানকে নিয়েই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিতে চাইলেন মা নাজমা আক্তার, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
চট্টগ্রাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

স্বামী মনির হোসেন। পেশায় একজন ভ্যানগাড়ি চালক। স্ত্রী নাজমা আক্তার। বাসায় এলাকার ছেলে-মেয়েদের আরবি পড়ানো আর সেলাই মেশিনের কাজ করে সংসার চালাতেন। মনিসা আক্তার মীম (৯) ও ছেলে নাজমুল হাসান (৪) নিয়ে চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন।

মঙ্গলবার (১২ফেব্রুয়ারি) সকালে স্বামী ও স্ত্রী মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার খেসারত দিতে গিয়ে নাজমা বেছে নিলেন তার ফুটফুটে সন্তানদের।

দুপুর ৩টা ২০মিনিটে নগরীর ষোলশহর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনে সন্তানদের নিয়ে ঝাঁপ দেয় নাজমা আক্তার। পরে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধারের পরেও সন্তানদের ওপর রাগ এতটা কমেনি। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য রেললাইনের পাশে পুকুরে ডুবিয়ে মারার চেষ্টা করেন। এরপরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে। মা নাজমাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। আর তার সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজে (চমেক) হাসপাতালের ২৮নম্বর ওয়ার্ডে বাচ্চাগুলো এক পলক দেখতে নার্স, পুলিশ আর উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। আবেগঘন পরিবেশ আর আক্ষেপ ছিল সবার চোখে-মুখে।

ভিড় টেলে খুঁজে ফিরছিলাম প্রত্যক্ষদর্শীর কাউকে। ওয়ার্ডের এক কোণে শার্ট আর জিন্সের প্যান্টে রক্তের চাপ কাদা আর পায়ে জুতো ছাড়া নিজামের চোখে তখনও ভাসছে ঘটনা।

কথার বলার এক পর্যায়ে সে বার্তা২৪.কম-কে জানান, বিকেল চারটার সময় বড়দিঘি পাড় এলাকায় তার বন্ধু টিটু দেখতে পায় ট্রেনের ক্রমশ হর্ন দিচ্ছে। কিন্তু লাইনে এক মহিলা তার বাচ্চা নিয়ে রেললাইন হেঁটে যাচ্ছে। ক্রমশ হর্নের পরেও নাজমা না সরায় টিটু দৌড়ে এসে রেললাইন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাদের পাশে সরিয়ে নেন। ট্রেনের ধাক্কায় টিটু ডান হাতে আর আঘাত পান। মীম কাঁধে আর নাজমুল দুপায়ে জখম হয়। বাচ্চাদের ট্রেনে নিচে মারতে না পেরে পাশে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে মারার চেষ্টার সময় সিএনজি চালক মো. বেলাল দ্বিতীয়বারের মতো বাচ্চাদের প্রাণ রক্ষা করেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সিএনজি করে বাচ্চাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে চালক। ওয়ার্ডের বেডে পাশাপাশি সুয়ে থাকা মীম তখনও ঘোরের মাঝে। নাজমুলকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর এসে উৎসুক মানুষ এসে বাচ্চার খোঁজ-খবর নিচ্ছিল। কেউ বা এসে এমন পাশবিক ঘটনার ধিক্কার জানান।

কানের পাশে এসে মীমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে ভয়ে এদিক-সেদিক চেয়ে থাকে। জিজ্ঞেস করতেই মীম জানায়, সে দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সকালে বাবা-মায়ের মধ্যে ২০টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। দুপুরে কাউকে না জানিয়ে মা তাদের নিয়ে বাসা থেকে বের হন। বিকেলে তাদের নিয়ে ট্রেনে ঝাঁপ দেয়। তারা কান্না করলেও মা ট্রেন থেকে সরেননি।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মীমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের আমানবাজার এলাকার হারুন জমিদারের ভাড়া বাসায়। তারা হাটহাজারী উপজেলায় বসবাস করেন। সকালে নিজেদের মধ্যের ঝগড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও এর কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির এসএসআইন মো. আলাউদ্দীন তালুকদার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ঘটনার পরে নাজমাকে হাটহাজারী থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ বাচ্চাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র