Alexa

কোচিংয়ের বাইরে তালা, ভেতরে চলছে পুরোদমে ক্লাস

কোচিংয়ের বাইরে তালা, ভেতরে চলছে পুরোদমে ক্লাস

কোচিংয়ের বাইরে তালা, ভেতরে চলছে পুরোদমে ক্লাস/ছবি: বার্তা২৪

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা। নগরীর মালোপাড়া ‘বায়োচি’ কোচিং সেন্টার ভবনের সামনে জটলা করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। তবে তারা কেনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তা কেউ-ই বলতে চাইছিলেন না।

সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা সংবাদমাধ্যম কর্মীদের খবর দেন। গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে কোচিং সেন্টারে গেলে দেখা যায়, বাইরে থেকে তালা ঝুলানো। বাইরে থেকে নক করে কোনো সাড়া-শব্দ মেলেনি।

পরে সাংবাদিকরা কিছু দূরে গেলেই দেখা যায়, তালাবদ্ধ থাকা ভবন থেকে একে একে বের হচ্ছেন কোচিংয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ছাত্র-ছাত্রীরা।

তবে অভিভাবকরা জানান, বেলা ৩টা থেকে কোচিং শুরু হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন কোচিং সেন্টারের মালিক পলাশ হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। সন্ধ্যা ৭টায় কোচিং শেষ হওয়ার সময় অভিভাবকদের আসতে বলা হয়।

জানতে চাইলে কোচিং মালিক পলাশের স্ত্রী আয়েশা বলেন, আমরা ক্লাসের জন্য নয়, কিছু টিপস দেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ডেকেছিলাম। টিপস দেয়া শেষে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি দাবি করেন, কোনোভাবেই তারা সরকারের নীতিমালা ভঙ্গ করেন নি। নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনিও ক্লাস নিচ্ছেন না, মাঝেমধ্যে শুধু টিপস দিচ্ছেন। কোচিংয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের টিপস দেয়া চালিয়ে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুধু বায়োচি কোচিং সেন্টার নয়, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন একমাস দেশজুড়ে কোচিং সেন্টারগুলোতে ক্লাস বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজশাহীর আরও অনেক কোচিং সেন্টার অভিনব কায়দায় ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মহানগরী ঘুরে দেখা যায়, মাসুদ ম্যাথ, দিকদর্শন, পিকাসো, জিনিয়াস স্টুডেন্ট কেয়ার, এডুকেয়ার, ল্যাটেন্ট ট্যালেন্টসহ অন্তত ২০/২৫টি কোচিং সেন্টার এ পদ্ধতি অবলম্বন করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহানগরীর সমবায় মার্কটের দ্বিতীয় তলায় ‘মাসুদ ম্যাথ’ এর পরিচালক মাসুদকেও ক্লাস নিতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তবে সেখানে থাকা শিক্ষার্থী তৃষ্ণা, সৌমিক ও লুনা জানান, আমাদের কোচিং তো বন্ধ হয়নি। আমরা প্রতিদিন পড়তে আসি। তবে পুলিশ যাতে টের না পায় সেজন্য স্যার, লুকিয়ে লুকিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন আমাদের।

পরে কোচিংয়ে পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, আমার ভুল হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ক্লাস চালু রাখা উচিত হয়নি। এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর ক্লাস নেওয়া হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোচিং সেন্টারের কয়েকজন মালিক জানান, গ্যাপ গেলে ছাত্র-ছাত্রী কমে যেতে পারে ভেবে তারা কমবেশি ক্লাস নিচ্ছেন। তবে প্রতিদিন ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ফেসবুক গ্রুপে বা মোবাইলে ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের নির্দিষ্ট সময় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেসময় তারা এলে ক্লাসে ঢুকিয়ে বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ক্লাস শেষ হলে অভিভাবকরা এসে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যান বলে স্বীকার করেন তারা।

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘কেউ যদি সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোচিং চালায় অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে ক্লাস নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তারা কৌশল করে করতে পারে। তবে এখন থেকে সব কোচিং সেন্টারে সিভিল পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হবে। যাতে কোনো কোচিং সেন্টারে পরীক্ষার মধ্যে অপকর্মে জড়িয়ে না পড়ে।’