বৃষ্টিতে ভিজে গেছে লাখ টাকার বই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা ২৪.কম
ভিজে যাওয়া বই রোদে শুঁকানোর চেষ্টা, ছবি: মেহেদি হাসান

ভিজে যাওয়া বই রোদে শুঁকানোর চেষ্টা, ছবি: মেহেদি হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভিজে গেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নের প্রায় অর্ধশত প্রকাশনী সংস্থার বই। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঝড়ে যাওয়া বৃষ্টির কারণে হাজার থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকার বই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/17/1550405454582.jpg

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যান ও বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলায় রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মেলার দুই অংশেই কিছু কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে। কিছু জায়গায় পানি না থাকলেও কাদা হয়ে গেছে।

মেলা শুরু হওয়ার পরপরই বই রোদে শুকাতে দেওয়া হয়, স্টল মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মেরামত কর্মীরা। কেউবা স্টল বা প্যাভিলিয়নের সামনে বই বের করে শুকাতে দেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/17/1550405467705.jpg

প্রকাশকরা অভিযোগ করেছেন তাদের লাখ টাকার বই ভিজে গেছে। বই পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরও ভিজে গেছে। তাদের অভিযোগ স্টলের উপর দিয়ে পানি পড়ার কারণেই বেশি ক্ষতি হয়েছে। মেলার শুরু পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিকেল সোয়া ৫ টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

'অন্যপ্রকাশ' এর পরিচালক ও প্রকাশক সিরাজুল কবির চৌধুরী কমল বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আসলে কারোরই কিছু করার থাকে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/17/1550405481718.jpg

ছাদের উপর ও সাইড থেকে পানি এসেছে। আমাদের হ্যাভি প্রটেকশন ছিল কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টি হওয়ায় এগুলো কাজে দেয়নি। বাইরে শুকাতে দিয়েছি। এগুলো তো বিক্রি করা যাবে না, নষ্ট করে ফেলতে হবে। ২ হাজারের মতো বই ভিজে গেছে। এখনও তো হিসাব করা হয়নি তবে, ৭-৮ লাখ টাকার বই ভিজে গেছে। এদের মধ্যে অনেক দামি বই রয়েছে।

বাবুই প্রকাশনীর প্রকাশক মোর্শেদ আলম বার্তা২৪.কমকে অভিযোগ করে বলেন, বাংলা একাডেমীর অবহেলা ছিল, উপরে টিন দিয়েছে, কিন্তু সেগুলো ভালোভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে উপর দিয়ে পানি সরাসরি বইয়ের উপরে পড়েছে। আর স্টলের বাইরে রাস্তা ইট বালি দিয়ে উচু করে ফেলেছে, অপর দিকে স্টলের মেঝে নিচু এতে পানি গড়িয়ে মেঝেতে চলে এসেছে, মেঝেতে যে সকল বই রেখেছিলাম সব ভিজে গেছে। ৪০-৫০ হাজার টাকার বই ভিজে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/17/1550405497895.jpg

শিখা প্রকাশনীর প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাহার বলেন, আমরা পলিথিন দিয়ে বই ঢেকে রেখেছিলাম, কিন্তু তারপরও উপর দিয়ে পানি ঢুকেছে। উপরে টিন দেওয়া আছে কিন্তু তারপরও ছাদ দিয়ে পানি চুয়ে চুয়ে পড়েছে। এখানে আমাদের কোনো ফল্ট নেই।

প্রকাশকদের অভিযোগ মানতে চাননি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মেলায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপর থেকে পানি পড়া এটা আমাদের কারণে হয়নি, ওরা যে নকশা করেছে এতে পানি টিনের উপরে জমে যায়। ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ করেছে।’

আপনার মতামত লিখুন :