Alexa

প্লেন ছিনতাইয়ের চেষ্টা: সংসদে প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি

প্লেন ছিনতাইয়ের চেষ্টা: সংসদে প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি

সংসদ অধিবেশন।

২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টা ১৩ ‍মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ছিনতাই এর ঘটনায় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এদিয়ে সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্পিকার ড. শিরীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অবস্থান সংসদকে অবহিত করেন।

মাহবুব আলী বলেন, গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টা ১৩ ‍মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ বিমানটি  ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করে চট্টগ্রাম যায় এবং সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে দুবাই যাত্রা করে। পূর্ব সিডিউল অনুযায়ী বিমানটি ৫ টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পূর্বে বিমানে যাত্রী বেশে একজন ব্যক্তি যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিমান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও চিৎকার করতে থাকে। তবে বিমানের কর্তব্যরত ক্যাপ্টেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সাথে দুষ্ককৃতিকারীকে কথপোকথনে ব্যস্ত রেখে কালক্ষেপণ করে, পরে প্লেনের ক্রুদের সহায়তায় সকল যাত্রীদের নিরাপদে বের করে নিযে আসা হয়।

তিনি বলেন, ঘটনা চলাকালে বিমান বাহিনীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসহ সকল সংস্থার দ্রুত ব্যবস্থার ফলে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ স্থানে নিতে সক্ষম হয়। সেনাবাহিনীর কমান্ডো ও র‌্যাবের একটি চৌকস দল বিমানবন্দরে অবস্থান করে। কমান্ডো দল বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঝটিকা আক্রমণ করে দুষ্কৃতিকারীকে নিস্ক্রয় করে। এক পর্যায়ে কমান্ডো বাহিনীর দুর্বার অভিযানে ছিনতাইকারী আহত হয়ে, পরে মৃত্যুবরণ করে। বিমানটিতে ১৪৮ জন যাত্রী ৭ জন ক্রু সকলেই নিরাপদে আছেন এবং বিমানটি অক্ষত রয়েছে। বেবিচক, পর্যটন মন্ত্রণয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মো. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, বাংলাদেশ বিমান জাতীয় সম্পদ। কিন্তু এই বিমান নিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। কখনো দেখি একটা পাখি ঢুকছে, কখনো দেখি চাকা একটা বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল এই যে ব্যক্তিটি গেলেন, যেখানে ৪টি ধাপে চেক করে তারপর ভেতরে ঢুকতে হয়। সারা পৃথিবীতে এই  নিয়ম। আমাদের দেশে তারপরেও একটা লোক সেখানে অস্ত্র নিয়ে কি করে গেল?

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি একটা ফরমাল প্রসেস, কখনো তদন্ত রিপোর্টে বের হয়, কখনো বের হয় না। এটা দিয়ে আসল তথ্য বের হবে না। ঘটনাটা কেন ঘটেছে? এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কি পালন করেছে? অস্ত্র নিয়ে কোনোভাবেই ঢুকতে পারবে না।

ফরাজী বলেন, কত মানুষ ছিল। এটা সহজভাবে নিতে পারি না। সাধারণভাবে তদন্ত করলে হবে না, যদি তদন্ত করতে হয়, সেইভাবে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হওয়া দরকার। সংসদ সদস্যদের যুক্ত করে তদন্ত করে এই  সংসদকে দ্রুত জানাতে হবে। প্রতিরক্ষাটা আজকেই করতে হবে। যেহেতু অস্ত্র নিয়ে গেছে একটা ঘটনা ঘটতে পারত, যদি চট্টগ্রামে না নামত। সচিবের নিচে কাউকে কারো দিয়ে তদন্ত কমিটি হতে পারে না। সংসদ সদস্যসহ সর্বদলীয় তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্ত করে সংসদকে জানাতে হবে। এটা প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভবিষ্যতে কখনো কোনোদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।

আপনার মতামত লিখুন :