গানই দুলালের সাধনা

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর, বার্তা২৪.কম
গানই দুলালের সাধনা, ছবি: বার্তা২৪

গানই দুলালের সাধনা, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

পথে প্রান্তরে আমরা অনেক মানুষেরই গান শুনি। কিছু গান ও সুর পরিচিত হলেও, অজানা থেকে যায় গান প্রিয় সেই মানুষগুলোর পরিচয়। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেন সুর ও সাধনার মাঝে বেঁচে থাকতে। আর কেউবা চান সত্য ও সুন্দরের জন্য গানের সুর ছড়িয়ে দিতে। তেমনই একজন গান প্রিয় মানুষ রংপুরের দুলাল মিয়া। যাকে কেউ কেউ দুলাল সাইজি নামে ডাকেন।

রংপুরে কারমাইকেল কলেজের পুকুরপাড়ে গান প্রিয় কয়েকজন যুবক লালনের সুর তালিম নিচ্ছিলেন। এসময় বার্তা২৪.কম’র সাথে দেখা হয় দুলাল মিয়ার। কথা বলেন, গান-গল্প-আড্ডা নিয়ে।

জানা গেছে, লালনের সুর সাধনায় ডুবে থাকা দুলাল মিয়া ছোট থেকেই গানের জগতে মিশে আছেন। বাবা নাজের আলী ছিলেন গানের দলের যন্ত্রবাদক। তার দোতারা বাজানো দেখেই গানের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় দুলাল মিয়ার। নিজের সুরকে সৃষ্টিকর্তার দেয়া সেরা পুঁজি মনে করা এই শিল্পীর হাতেখড়ি বাবার কাছে। সেই থেকেই কণ্ঠে লালনের সুর ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।

আরো জানা গেছে, আধ্যাত্বিক ও দেহতত্ত্ব গানের সুরই তার বেশি প্রিয়। একারণে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি বছর ধরে এই সুর নিয়ে কাজ করছেন দুলাল মিয়া। রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তোলা লালন একাডেমিতে সময় কাটান তিনি। সুর সাধনার মাধ্যমে লালনের সত্য ও সুন্দরের বাণী ছড়িয়ে দেয়াই এই শিল্পী স্বপ্ন।

দুলাল মিয়া বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি গান গাইব। কিন্তু একটা সময় যখন গানের কথাকে বুঝতে পারলাম। বুঝলাম গান ও সুরের মধ্যে আল্লাহ্ রাসূল, ওলী-আউলিয়া ও গাউস-কুতুবের কথা সুন্দরভাবে বলা রয়েছে। এই গানগুলো গাওয়াকে আমি তখন থেকে আমার ইবাদত মনে করি। এখন গানই আমার ইবাদত।’

বিভিন্ন দরবার শরীফ ও মাজারে গান গাইতে ছুটে যান দুলাল সাইজি। বসে থাকেন কখন ডাক পড়বে তার। সুযোগ হলে গান গেয়ে আসেন। আর সুযোগ না পেলে অন্যের গানের সুর হৃদয়ে ধারণ করে নেন।

দুলাল মিয়া বলেন, ‘মানুষ বলে গান হারাম। যারা গায় তারা নাকি নাস্তিক। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না। গানের মধ্যেও ইবাদত করা যায়।’

শুধু পৃষ্টপোষকতার অভাবে সারাদেশে লালন ভক্ত, লালন সংগীত প্রিয় এবং লালনের সুর সাধকদের সংগঠনগুলো ভালো অবস্থানে নেই বলে মনে করেন দুলাল সাইজি। তবে তার মতে, যারা লালন সাইজির গান শোনেন, বোঝেন, তারা দিব্যজ্ঞানী মানুষ। যাদের জ্ঞান আছে তারা সাইজির গানগুলোর ভিতরে সত্য সুন্দরের বাণী খুঁজে পাবে। মানুষের কল্যাণে তাদের মন জেগে উঠবে।

রাজশাহী মহানগরের নওদাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকাতে দুলাল মিয়ার বসত ভিটা। সেখানেই পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন তিনি। জীবন সংসারে টিকে থাকার পাশাপাশি যুদ্ধ করছেন লালন একাডেমি গড়তে। সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যান রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, নওগাঁ, নাটোর, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায়। তার বেশির ভাগ সময়ই কাটে লালনের সুর সাধনা আর বাণী প্রচারে। দুলাল মিয়ার একমাত্র কন্যা আখি আক্তার রুনা এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। দাদা আর বাবার মতো সেও লালনের সুরকে কণ্ঠে আগলে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন :