শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল খুলনার শিল্পাঞ্চল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা, বার্তা২৪.কম
শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল খুলনার শিল্পাঞ্চল। ছবি: বার্তা২৪.কম

শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল খুলনার শিল্পাঞ্চল। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ, বকেয়া মজুরি, মজুরি কমিশন প্রদান, গ্র্যাচুইটির অর্থ ও বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।

সোমবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব দাবিতে খালিশপুরের বিআইডিসি রোডে বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকরা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ওই বিক্ষোভ করে তারা।

মিছিলে অংশ নেয় শিল্পাঞ্চলের ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম ও ইস্টার্ন মিলের শ্রমিকরা। দুপুরে মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা সরদার মোতাহার উদ্দিন, শ্রমিক নেতা সেলিম আকন, কাওসার আলী মৃধা, মুরাদ হোসেন, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, অবসর শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ, মজুরি প্রদান, বেতনসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২ মার্চ ৭ দিনের আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেয় বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা।

শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন বার্তা২৪.কমকে জানান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদসহ অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, বরখাস্ত শ্রমিক, কর্মচারীদের শ্রম আদালত ও শ্রম ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নিয়োগকৃত আইনজীবী তা না চালানোর মতামত দেয়া সত্ত্বেও বিজেএমসি উচ্চতর আদালতে আপিল করার ফলে মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, মৌসুমে পাট কেনার টাকা বরাদ্দ, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের জন্য তাদের এ আন্দোলন।

তাদের এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন কর্মসূচির একটি দাবিনামা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিজেএমসি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শ্রম অধিদফতর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাদের দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তাদের ঘোষণা অনুযায়ী ৭ দিনের কর্মসূচি চলছে। আগামী ৮ মার্চ সারাদেশের পাটকলে শ্রমিক সমাবেশ, ১০ মার্চ হরতাল পালনের সমর্থনে লাল পতাকা মিছিল, ১২ মার্চ ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন, ১৯ মার্চ আবারো ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৪ মার্চ ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে তাদের দাবি না মানলে ঢাকার সমাবেশ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :