Alexa

উপজেলা নির্বাচনেও বেহাল জাপা

উপজেলা নির্বাচনেও বেহাল জাপা

জাতীয় পার্টির লোগো, ছবি: সংগৃহীত

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

সংসদের প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চায় জাতীয় পার্টি। স্বপ্ন দেখছে ভুলগুলো শুধরে আগামীতে ভালো কিছু করার। কিন্তু বক্তৃতা বিবৃতির সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল দেখছেন না জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলটির মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিগত সংসদ নির্বাচনের মতোই অনেক প্রার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে যা পারছে করছে। কেন্দ্রের মনিটরিং বা সহায়তা কোনোটাই পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। সংসদ নির্বাচনের পরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন নিয়ে জাপার যেনো কারোরই কোনো দায় নেই। শীর্ষ নেতারা হাত গুটিয়ে বসে আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আগামীতে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও উপজেলা নির্বাচনে তাদের চরম দৈন্যতা ফুঁটে উঠেছে। খোদ দপ্তর সম্পাদকও বলতে পারেননি কতটি উপজেলায় তাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আবার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, এখনও চূড়ান্ত তালিকা করা হয়নি। তবে শতাধিক হবে মনে হয়।

দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদের কাছে প্রশ্ন ছিল কতটি উপজেলায় আপনাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেছেন আমি সপ্তাহখানেক আগে শুনেছি ৭৪ জনের কথা। এরপর আরও চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতোদিন শ’খানেক পার হওয়ার কথা।

চার দফায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৪৬৫ উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। এখানে যদি ১’শ প্রার্থীও থেকে থাকে তাহলে মাত্র ২১ শতাংশ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সংসদের প্রধান বিরোধীদলের আসনে থাকা জাপা। সব উপজেলায় প্রার্থী না দেওয়া প্রসঙ্গে দপ্তর সম্পাদক বলেন, ইলেকশন হয় না, তাই প্রার্থীরা আগ্রহী হচ্ছে না। যেভাবে ভোট হচ্ছে তাতে কে আগ্রহী হবে। আবার যারাও প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে সঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনের কোনো মনিটরিং বা বিশেষ কোনো কমিটি হয়েছে কিনা জবাবে বলেন, না এমন কোনো কমিটি হয়নি। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রার্থীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া আর কিইবা করার আছে।

মাত্র ২২ আসন নিয়ে বিরোধীদলের আসনে বসা দলটির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে বিগত সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থতার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তখন বলা হতো পার্টির চেয়ারম্যান হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায়, আবার মহাসচিব বলেছিলেন তিনি নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ায় খুব গুছিয়ে কাজ করা যায়নি। এরপর জাতীয় পার্টির সবকিছু গুছিয়ে করবে।

মধ্যম সারি ও মাঠ পর্যায়ের নেতারা সেই কথায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু সদ্য সমান্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন ও চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রের ভূমিকায় চরম হতাশ। তারা বলেছেন আর মাত্র ৩ দিন পর অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ধাপের ৮৭ উপজেলায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘুম ভাঙছে না এখন। যার ফল মারাত্মক হতে পারে।

দিনাজপুর খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোনাজাত চৌধুরী। ১৮ মার্চ নির্বাচন হবে এখানে। প্রচারণার মাত্র আর অল্প কিছুদিন বাকি রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের কোনো সহায়তা বা পরামর্শ কোনোটাই পাননি তিনি। মোনাজাত চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, কেনো যে নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী করা হলো সেটাই এখন ভাবছি। কেন্দ্রীয় নেতারা এসে একটু সমাবেশ করতো তাহলে আমাদের জন্য বিশাল কাজে আসতো। শেষ সময়ে ট্যাকেল দিতে পারবো কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আছি।

কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করা বলেন, তারা এমপি মন্ত্রী হবে, আর আমাদের এভাবে মাঠে নামিয়ে দিয়ে কেনো যে বিব্রত করে বুঝতে পারি না। ২৩ বছর ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করি। তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি। এখন আমার মান-ইজ্জতের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে কারণে নিজের সবকিছু উজাড় করে নির্বাচন চালিয়ে যাচ্ছি। কেন্দ্র যদি পাশে দাঁড়াতো তাহলে আমাদের বুকটা ভরে যেতো। আমাদের ফলও ভালো হতে পারতো।

বিগত সংসদ নির্বাচনের সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এরশাদ। তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎ করেই মহাসচিব রদবদল করেন। এরপর আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন ছোট ভাই জিএম কাদেরকে। এরশাদ কিছুটা সুস্থ হলেও এখন পার্টির কোনো কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। অফিসিয়াল সব চিঠি পত্র এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানেই সই করছেন।

কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ভূমিকায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছে না। নেতাদের মধ্যে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে পার্টির পরিণতি নিয়ে। অনেকে বলছেন এরশাদ অবর্তমানে জাপার করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভূমিকায় তারা স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না।

জাতীয় এর আরও খবর