Alexa

অর্থ সংকটে কোণঠাসা জঙ্গি সংগঠনগুলো

অর্থ সংকটে কোণঠাসা জঙ্গি সংগঠনগুলো

ছবি: সংগৃহীত

২০০৫ সালে ৬১টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব জানান দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। পরের বছরগুলোতে ছোট বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনা ছিল বড় ধরনের।

এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটানা অভিযানে সুবিধা করতে পারেনি এ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে জঙ্গিদের একাধিক সংগঠন। ফলে দেখা দিয়েছে অর্থ সংকট। আর এ অর্থ সংকট মেটাতে তারা জড়িয়ে পড়ছেন খুন, ছিনতাই, ডাকাতির মতো কর্মকাণ্ডগুলোতে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিদেশি অনুদান না পাওয়া আর নিজেদের অর্থ না থাকায় মানুষ খুন, ছিনতাই, ব্যাংক ডাকাতির মতো কাজ করে সংগঠনকে পরিচালনার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা।

সূত্র জানিয়েছে, সংগঠন পরিচালনা, জঙ্গিদের মামলার খরচ, কারাগারে থাকা জঙ্গিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খরচের ভারে নড়বড়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

সর্বশেষ ৩ মার্চ রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকা হতে ১২ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্যরা তাদের অস্ত্র ও পরিকল্পনা দিয়ে সহযোগিতা করে। যার ফলে ডাকাতি থেকে পাওয়া অর্থের ৩০ শতাংশ যায় ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের তহবিলে।

জঙ্গি নিয়ে কাজ করা একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, হলি আর্টিসানের ঘটনার পর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি জঙ্গিরা। একের পর এক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে ঘাপটি মেরে থাকা এ জঙ্গি সংগঠনগুলো গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আর তার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাতে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো কাজ বেছে নিচ্ছের তারা।

অপরদিকে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বগুড়ায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার আসামি আবু সাঈদ ওরফে শ্যামল শেখ (৩৩)। পরে তাঁর কাছে থেকে তথ্য পেয়ে জেএমবির আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেফতার করে বগুড়া ও রাজশাহী পুলিশ।

গ্রেফতারকালে রাকিব, আবু বকর ও তাদের এক সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বগুড়া পুলিশ জানতে পারে যে, রাজশাহীর দুটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জেএমবি জড়িত। তহবিল সংগ্রহের জন্য তারা ডাকাতি-ছিনতাইয়ে যুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে র‍্যাব সদরদফতরের তথ্য বলছে, হলি আর্টিসানের ঘটনার পর থেকে শুধু র‍্যাব বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্রায় ৫৫০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে ২৫ জনের বেশি। আত্মসমর্পণ করেছে ১০ জন।

এছাড়া গত ছয় মাসে ১৪০ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। যেখানে শুধু জেএমবি সদস্যই রয়েছে ১০৫ জন।

র‍্যাব বলছে, অভিযানের মুখে নির্মূলের পথে জেএমবিসহ অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলো।

জঙ্গি সংগঠনের আর্থিক সংকটে থাকা আর সংগঠনের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান আব্দুল বাতেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো অবস্থা আর নেই। তাছাড়া বার বার নেতৃত্ব পরির্বতন হওয়ায় কোনো পরিকল্পনা তারা করতে পারছে না। তবে যত টুকুই নড়াচড়া করছে, তাদের ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে।’

অর্থ সংকটের বিষয়ে এই ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে টাকা না পাওয়ায় এ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলো অর্থ সংকটে ভুগছে। যার জন্য হুজির মতো সংগঠনগুলো ডাকাতি-ছিনতাইয়ে সহায়তা করছে। ব্যাংক লুট করার পরিকল্পনা করছে। যেখান থেকে ৩০ শতাংশ টাকা তাদের দেওয়া হচ্ছে।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই সব নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর উত্থান যত দ্রুত হয় ঠিক পতনও তত দ্রুত হয়।’

আপনার মতামত লিখুন :