‘সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতি করে বিলাসিতার জন্যে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বেতন বাড়লেও কমছে না সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি। আর এর পেছনে বিলাসিতা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়াম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ অভাবে দুর্নীতি করে না, গ্রামের মানুষও ডিজপোজেবল গ্লাসে চা খায়। আমাদের বুঝতে হবে এখন দুর্নীতি হয় লোভের কারণে, বিলাসিতার কারণে। তাই আমি বলি, লোভের জিহ্বা কেটে দিতে হবে।’

সোমবার (১১ মার্চ) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌশলপত্র-২০১৯’ শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ।

বিদেশে টাকা পাচারকারীদের তালিকা রাজস্ব বোর্ডের কাছে চাইলেও তারা গড়িমসি করছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা টাকা পাচারের সাথে জড়িত ছিল, তাদের অনেককে রাজস্ব বোর্ড জরিমানা করেছিল। সেই সূত্র ধরে রাজস্ব বোর্ডের কাছে তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠালেও তারা কোন উত্তর দেয়নি।

গত জানুয়ারি মাসের পর একাধিকবার এনবিআর-কে চিঠি দেওয়া হলেও উত্তর দেয়নি বলে নিশ্চিত করেন দুদকের যুগ্ম-সচিব আ ন ম আল ফিরোজ।

টাকা পাচার ও ব্যাংক খাতের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে দুদক চেয়াম্যান বলেন, ‘এই কাজগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক উদাসীন বলে আর্থিক খাতে এই নজিরবিহীন দুর্নীতি চলছে।’

পুলিশের দুর্নীতির বিষয়ে দুদক সচেতন আছে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের ছোট থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সবাই নজরদারির আওতায় আছে। কোনো ধরণের দুর্নীতি ছাড় দেবে না দুদক।’

দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় ২০১৬ সালে দুদক মামলা দায়ের করে ৩৫৯টি, গ্রেফতার করা হয় ৩৮৮ জনকে। আর ২০১৮ সালে দুদকের মামলা দায়ের করা হয় ২১৮টি এবং গ্রেফতার হয় মাত্র ৫৭ জন।

দুর্নীতি দমনে দুদকের সাফল্যের পরও কেন কমছে না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৮ নির্বাচনকালীন বছর ছিল, অনেক কিছু চাইলে করা যায়নি। তাই এইটা শুধুই সংখ্যাগত একটি পরিসংখ্যান, এর সাথে সফলতা নির্ণয় করতে গেলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে।’

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও মো. মোজাম্মেল হক, দুদক সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :