Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতি করে বিলাসিতার জন্যে’

‘সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতি করে বিলাসিতার জন্যে’
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বেতন বাড়লেও কমছে না সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি। আর এর পেছনে বিলাসিতা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়াম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ অভাবে দুর্নীতি করে না, গ্রামের মানুষও ডিজপোজেবল গ্লাসে চা খায়। আমাদের বুঝতে হবে এখন দুর্নীতি হয় লোভের কারণে, বিলাসিতার কারণে। তাই আমি বলি, লোভের জিহ্বা কেটে দিতে হবে।’

সোমবার (১১ মার্চ) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌশলপত্র-২০১৯’ শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ।

বিদেশে টাকা পাচারকারীদের তালিকা রাজস্ব বোর্ডের কাছে চাইলেও তারা গড়িমসি করছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা টাকা পাচারের সাথে জড়িত ছিল, তাদের অনেককে রাজস্ব বোর্ড জরিমানা করেছিল। সেই সূত্র ধরে রাজস্ব বোর্ডের কাছে তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠালেও তারা কোন উত্তর দেয়নি।

গত জানুয়ারি মাসের পর একাধিকবার এনবিআর-কে চিঠি দেওয়া হলেও উত্তর দেয়নি বলে নিশ্চিত করেন দুদকের যুগ্ম-সচিব আ ন ম আল ফিরোজ।

টাকা পাচার ও ব্যাংক খাতের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে দুদক চেয়াম্যান বলেন, ‘এই কাজগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক উদাসীন বলে আর্থিক খাতে এই নজিরবিহীন দুর্নীতি চলছে।’

পুলিশের দুর্নীতির বিষয়ে দুদক সচেতন আছে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের ছোট থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সবাই নজরদারির আওতায় আছে। কোনো ধরণের দুর্নীতি ছাড় দেবে না দুদক।’

দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় ২০১৬ সালে দুদক মামলা দায়ের করে ৩৫৯টি, গ্রেফতার করা হয় ৩৮৮ জনকে। আর ২০১৮ সালে দুদকের মামলা দায়ের করা হয় ২১৮টি এবং গ্রেফতার হয় মাত্র ৫৭ জন।

দুর্নীতি দমনে দুদকের সাফল্যের পরও কেন কমছে না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৮ নির্বাচনকালীন বছর ছিল, অনেক কিছু চাইলে করা যায়নি। তাই এইটা শুধুই সংখ্যাগত একটি পরিসংখ্যান, এর সাথে সফলতা নির্ণয় করতে গেলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে।’

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও মো. মোজাম্মেল হক, দুদক সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

২০২৫ সালে বিশ্বের অর্ধেক কাজেই উচ্চস্তর যোগ্যতা প্রয়োজন হবে

২০২৫ সালে বিশ্বের অর্ধেক কাজেই উচ্চস্তর যোগ্যতা প্রয়োজন হবে
রাষ্ট্রদূত রেনেসি তেরিংকের সঙ্গে ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশেসহ বিশ্বব্যাপী দক্ষ কর্মী ও সামাজিকভাবে যুক্ত মানুষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক কাজেই উচ্চস্তর যোগ্যতা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনেসি তেরিংক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ঢাকায় ২০১৯-২০ সালের জন্য ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ পাওয়া ৭৮ শিক্ষার্থীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রেনেসি তেরিংক বলেন, ‘বর্তমানে এখনো উচ্চস্তরের দক্ষতা লাভ করা মানুষের কাজের স্থান ফাঁকা রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত কাজগুলো আরও বেশি বিস্তৃত এবং জটিল হয়ে উঠছে। উদ্যোক্তা হতে যে কারো স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনশীল চিন্তা করা, কার্যকরভাবে যোগাযোগ করা এবং স্থিতিশীল হওয়ায় পূর্বের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার প্রয়োজন পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরাসমাস পাওয়া ব্যাক্তিরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন করে তাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, পরিবর্তিত বিশ্বব্যাপী পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে, নতুন সুযোগ পেতে এবং তাদের প্রতিভা প্রকাশ করার সুযোগ পায়।’

বর্তমান বিশ্বে যে সকল বৃত্তিগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হয় তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে ‘ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ'। প্রতিবছর ইউরোপিয়ান কমিশন হতে সারাবিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। এর অধীনে ইউরোপের প্রায় সবগুলো দেশে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ দেওয়ার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে সংস্কৃতির আদান-প্রদান, পড়াশোনার পাশাপাশি ভাষা, মানুষ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারা।

এছাড়া এই স্কলারশিপের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, ভ্রমণ ভাতা, স্বাস্থ্য বিমার পাশাপাশি বসবাসের জন্য মাসিক বৃত্তি পেয়ে থাকে। এই স্কলারশিপে ২০০ টিরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। এই শিক্ষাবৃত্তির অধীনে সকল কোর্সই আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় সাজানো। প্রতিটি মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি প্রোগ্রামে থাকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চুক্তি, যার ফলে শিক্ষার্থীরা তার কোর্সের সময়কালে পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নূন্যতম দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করতে হয়।

এনামুল বা‌ছি‌র ও ডিআইজি মিজানের বিরু‌দ্ধে দুদ‌কের মামলা

এনামুল বা‌ছি‌র ও ডিআইজি মিজানের বিরু‌দ্ধে দুদ‌কের মামলা
ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছির, ছবি: সংগৃহীত

৪০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম‌য়িক বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা ক‌রে‌ছে দুদক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা ঢাকার এক নম্বর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়‌টি নিশ্চিত করে‌ছেন দুদকের উপপ‌রিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

প্রণব কুমার বার্তা‌টো‌য়ে‌ন্টি‌ফোর.কম‌-কে জানান, গতকাল ডিআইজি মিজান‌কে জিজ্ঞাসাবাদ ক‌রা হ‌য়ে‌ছে। আজ ডিআইজি মিজান ও দুদক প‌রিচালক এনামুল বা‌ছি‌রের বিরু‌দ্ধে মামলাটি করা হ‌য়ে‌ছে।

এর আগে গত ১ জুলাই ডিআইজি মিজানুরের আগাম জামিনের আবেদন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ নামঞ্জুর ক‌রেন। আগাম জা‌মিন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে তাকে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস গ্রেফতারের আদেশ দেন। প‌রে গত ৪ জুলাই মিজা‌নের ভাগ্নে পু‌লি‌শের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা যায়, মিজা‌নের দুর্নী‌তির অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে তৎকালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাক ঘুষ দেওয়ার বিষয়‌টি উঠে আসে গণমাধ্য‌মে। অভিযোগ উঠার পর দুইজনই তাদের নিজেদের সংস্থা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। অভিযোগ ওঠায় গত ১২ জুন বাছিরকে সরিয়ে দুদকের আরেক পরিচালক মো. মঞ্জুর মোরশেদকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।

অনুসন্ধা‌নে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রথমে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী; পরে এই দায়িত্ব পে‌য়ে‌ছি‌লেন বরখাস্ত দুদক প‌রিচালক এনামুল বাছির। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার গত ১২ জুন তাকে সরিয়ে দুদকের আরেক পরিচালক মো. মঞ্জুর মোরশেদকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অনুসন্ধান শেষে তিনি ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক। মামলায় তিন কোটি সাত লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয় ডিআইজি মিজান, তার স্ত্রী, ভাই ও ভাগ্নের বিরুদ্ধে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র