Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব পাগলের প্রলাপ: ক্যাব

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব পাগলের প্রলাপ: ক্যাব
টিসিবি মিলনায়তনে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গণশুনানিতে অতিথিরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম গড়ে ১০২ শতাংশ বাড়াতে চায়। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা কেউ অবান্তর, কেউ হাস্যকর, আর কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) একে পাগলের প্রলাপ অভিহিত করে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) শুরু হয়েছে গণশুনানি। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দ্বিতীয় দিনে তিতাস গ্যাস ও সুন্দরবন গ্যাসের ভোক্তা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির গণশুনানিতে ভোক্তারা এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘যে এলএনজি পাইপ লাইনে আসেইনি, ২০১৯ সালের এপ্রিলে আসবে; তার ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব, আমি বলবো না। বিইআরসির মাথাও ঠিক নেই, না হলে এমন প্রস্তাব শুনানি করে!’

তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাব আনা যায় না। পারবেন না। এটা বেআইনি, এই প্রহসন করবেন না।’

বিইআরসির উদ্দেশ্যে শামসুল আলাম বলেন, ‘সরকারকে বলছি, বেআইনি কাজ করবেন না। দাম বাড়াতে চান, বাড়ান। কিন্তু একটি আইনি কাঠামোর মধ্যদিয়ে বাড়ান।’

ক্যাবের উপদেষ্টার কথার রেশ ধরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় না। কেন তিতাসকে ২৫ শতাংশ ডিভিডেন্ট দিতে হবে? গ্যাস থাকে না দিনের বেশিরভাগ সময়। বাতাস বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। ১৫ মাসে ২৩ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মাত্র গ্যাস সংযোগ শুরু হয়েছে। এখন দাম বাড়ানোর প্রস্তাব হাস্যকর। গণশুনানিও হাস্যকর মনে হচ্ছে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি দাম বেড়ে গেলে সংকটে পড়েন ব্যবসায়ীরা। একটা ফোরকাস্ট থাকা উচিত। তাহলে ব্যবসায়ীরা সেভাবে বিবেচনা করেই বিনিয়োগ করবে।’

‘সব সময় দাম বাড়ানোর আলোচনার জন্য ডাকা হয়, কখনও দাম কমানোর আলোচনা করতে দেখি না।’

বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগকে বলবো ইভিসি মিটারের বিষয়টি দেখার জন্য। কেন এটা দ্রুততার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। এটা দ্রুত বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এক সময় বলা হতো দেশ গ্যাসে ভাসছে। আমাদের দেশের পত্রিকার চেয়ে নিউইয়র্কের পত্রিকায় বেশি ফলাও করে ছাপা হতো। উদ্দেশ্য কী ছিলো? রফতানি করা। আবার এখন ফলাও করে বলা হচ্ছে গ্যাস সংকট, এখনও ঐ একই ধরণের উদ্দেশ্য, আমদানি করতে হবে।’

তিতাস ও সুন্দরবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলএনজি এলে গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। কোম্পানিগুলো তারল্য সংকট ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বর্ধিত মূল্য নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন।

তিতাস গ্যাসে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩ দশমিক ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৭৪ টাকা, সিএনজিতে ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দশমিক ১০ টাকা, প্রি-পেইড মিটারে ৯ দশমিক ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ দশমিক ৪১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আবাসিকে একচুলা বর্তমান দর ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৪৪০ টাকা, সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার দুই দশমিক ৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে আট দশমিক ৪৪ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯ দশমিক ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ দশমিক শূন্য ৪ টাকা, শিল্পে সাত দশমিক ৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক শূন্য পাঁচ টাকা, বাণিজ্যিকে ১৭ দশমিক শূন্য চার টাকার পরিবর্তে ২৪ দশমিক শূন্য পাঁচ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যা গড়ে ১০২ দশমিক ৮৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। কোম্পানিটি প্রথমে গড়ে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও সংশোধিত প্রস্তাবে বাড়তি দর অনুমোদনের প্রস্তাব করেছে। প্রায় অভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানিও। বরিশাল, খুলনা বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের আংশিক এলাকায় বিতরণের দায়িত্বে থাকা সুন্দরবন বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে এক টাকা ২৫ পয়সা করার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে তিতাস গ্যাস বিতরণ চার্জ বাড়ানোর জন্যও প্রস্তাবনা দিয়েছে তিতাস গ্যাস। কোম্পানিটি বর্তমান বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ৫৩ পয়সা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তৃতীয় দিনে জালালাবাদ ও বাখরাবাদের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করা হবে। শেষ দিন বৃহস্পতিবার হবে পশ্চিমাঞ্চল  ও কর্ণফুলি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রস্তাবের উপর গণশুনানি।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১

খুলনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার কয়রায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে রজব আলী ঢালী (৬০) নামের একজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি। রজব আলী ঢালী কয়রা সদর ইউনিয়নের পল্লী মঙ্গল গ্রামের ফণী ঢালীর ছেলে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। আহতরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম (২৮) শামীমা (২৩) ও হাবিবুর (২৫)। আহতরা স্থানীয় জায়গীর মহল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, স্থানীয় দুলু ঢালীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের। তারই সূত্র ধরে বুধবার (২৬ জুন) দুপুর দুইটার দিকে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় রজব আলী গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেলে রজব আলীকে ভর্তি করলে সকালে তিনি মারা যান।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ৪ নম্বর কয়রা পল্লী মঙ্গল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। শুনেছি আহত রজব আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।'

বরগুনার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বরগুনার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সমসায়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে দিবালোকে এটি একটি বিষণ্ন ঘটনা, মর্মান্তিক ঘটনা। আমি সোর্সের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, গণমাধ্যমেও খবর এসেছে; তা হচ্ছে এটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং প্রেমঘটিত বিষয় ছিল। সেখান থেকে একটা ব্যক্তিগত বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটেছে খুব নগ্নভাবে। অলরেডি একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান কাদের।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়ে তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যেকোনো মূল্যে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বরগুনার ঘটনা তো রাজনৈতিক নয়। এটা রাজনীতির কারণে ঘটেনি।’

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তো কাউকে ছাড় দেয়নি। এখানে ছাত্রলীগের কর্মীদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ, বুধবার (২৬ জুন) সকালে রিফাত শরীফ তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ চার যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা। কিন্তু হামলাকারীদের থামাতে পারেননি তিনি।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাত শরীফকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র