Alexa
independent day 2019

কপাল পুড়ছে মোসাদ্দিকের, খোঁজা হচ্ছে বিদেশি এমডি

কপাল পুড়ছে মোসাদ্দিকের, খোঁজা হচ্ছে বিদেশি এমডি

মোসাদ্দিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইশতিয়াক হুসাইন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে মোসাদ্দিক আহমেদের মেয়াদ আর বাড়ছে না। দুই দফায় তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার সময়কালে বিমানের ব্যবস্থাপনা পর্যায়, এয়ারলাইন্স পরিচালনা ও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারাসহ আনা অনিয়মের কারণে এই পদে পুনরায় তাকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মোসাদ্দিক আহমেদের ব্যর্থতার এ কারণেই এবার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স এই পদে নতুন লোক নিতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত এমডি পদে মোসাদ্দিক আহমেদ টানা দুইবার নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে প্রথম দফায় এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ২০১৬ সালের জুনে। এই নিয়োগ ছিল দুই বছরের জন্য। পরবর্তীতে আবার এক বছরের জন্য নিয়োগ পান। এই সময়কালে এমডি পদে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু এবার তার পারফরম্যান্সের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনেকেই অখুশি। আর তাই নতুন এমডি পেতে গত ১২ মার্চ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এমডি পদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিদেশি কাউকে খুঁজছে। এর সত্যতা পাওয়া যায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমান চলাচল বা এয়ারলাইন্সের পরিচালক পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের সাবেক কোনো পরিচালক এখানে আবেদন করতে পারবেন না। কারণ কারোরই এই পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা নেই। এমডি ও সিইও প্রার্থীর বসয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ থেকে ৬০ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বলা হয়েছে। শুধু স্নাতক নয়, ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে। এছাড়া এয়ারলাইন মার্কেটিং সম্পর্কিত জ্ঞান, কোড শেয়ার, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম জানা এবং এভিয়েশন ও শ্রম আইন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।

বর্তমান এমডি ১৯৮৩ সালে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে বিমানের কর্মজীবন শুরু করেন। পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৫ সালে অবসরে যান। পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালেই বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত এমডি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবেও তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারেননি তিনি। এরপরেও পরবর্তীতে তার পূর্ণকালীন এমডি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে বিমানের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা ছিল। এমনকি পেশাগত জীবনে তিনি দক্ষ কর্মকর্তা সে খ্যাতিও ছিল না। বলা হতো, তিনি শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিদের ভালোভাবে ম্যানেজ করতে পারতেন। আর এ কারণেই তিনি দুই দফায় নিয়োগ পান। আগামী ৩১ মে মোসাদ্দিক আহমেদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

বিমানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বার্তা২৪.কমকে জানান, এবার আগেভাগেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিমান, যাতে এই পদে যোগ্য কাউকে খুঁজে পেতে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। কারণ বর্তমান এমডির ওপর খোদ বিমান মন্ত্রী ও সচিব ক্ষুদ্ধ। বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সে প্রথম পরিদর্শনেই মোসাদ্দিক আহমেদের ওপর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। শুধু তাই নয়, সব কাজে মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন। এ সময় মোসাদ্দিক আহমেদ যুক্তি দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে সচিব মহিবুল হকও তার ওপর চড়াও হন।

এর আগে এমডি পদে প্রথম বিদেশি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন কেভিন স্টিল। পরবর্তীতে নিয়োগ পান কাইল হেইউড। দুজনই ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। তবে তাদের কারো বিদায়ই ভালো হয়নি।

এমডি পদ ছাড়াও প্রথমবারের মতো ডিএমডি (ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর) পদেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বিমান নতুন অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এই পদে এবার লোক নিতে যাচ্ছে। গেল অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ সভায় নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হয়। এই পদটি ছাড়াও এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টি সাপোর্ট), পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস), পরিচালক (প্রশাসন) পদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তিনটি পদই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে।

জাতীয় এর আরও খবর