ডিসেম্বরে পূর্বাচল নতুন শহর বাসযোগ্য করা চ্যালেঞ্জিং

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম
রাজউকের অধীনে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ চলছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম

রাজউকের অধীনে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ চলছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ডিসেম্বরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবিক অর্থেই কি বসবাসের উপযোগী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শনিবার (১৬ মার্চ) প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি সেক্টরে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও নেই পানি সরবরাহের সুব্যবস্থা। নেই সুয়্যারেজ লাইন ব্যবস্থা। এখনো গড়ে উঠেনি ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু কিছু সেক্টরের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে।

কিন্তু সরেজমিনে দেখে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এই ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

বসবাস উপযোগী শহর হতে হলে প্রথম শর্ত পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পাশাপাশি প্রয়োজন হবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও যোগাযোগের জন্য ভাল রাস্তা। এরপর বিদ্যুৎ লাইন। রাস্তা, বিদ্যুৎ লাইন সম্পন্ন হলেও নেই পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/16/1552737811734.jpg

এছাড়া পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ নিয়েও সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজউক। এ অবস্থায় আদৌ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সন্দিহান প্রকল্প এলাকার পাশের হোটেল মালিক জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘কিভাবে এ প্রকল্পে ডিসেম্বরে মানুষ বসবাস করবে? এখানে কয়েকটি সেক্টরে রাস্তা হলেও বেশিরভাগ সেক্টরের রাস্তাই নির্মিত হয়নি। তবে আগের চাইতে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

এ বিষয়ে রাজউক এর পূর্বাচল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) উজ্জ্বল মল্লিক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘মানুষ বসবাসের জন্য প্রথমত প্রয়োজন পানি। সেই জন্য একটি প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে, আশা করছি আগামী মাসে কাজ শুরু হয়ে যাবে।‘ চীনের একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি।

অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কত দিনে নিশ্চিত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবস্থা করেছি, অধিকাংশ রাস্তা সম্পন্ন করেছি।‘

এদিকে রাজউক সূত্রে জানা গেছে, পুরো প্রকল্পের সাড়ে ৮৫ শতাংশ ভূমির উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাড়ে ১৪ শতাংশের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হবে। সব মিলিয়ে ৩১৯ কিলোমিটার রাস্তা ও ড্রেনের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শেষ করেছে রাজউক। ঢাকার সঙ্গে পূর্বাচল প্রকল্পের বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে চার লেনবিশিষ্ট দুটি সড়কের কাজও শেষ হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/16/1552737844581.jpg

এছাড়া পূর্বাচল প্রকল্পের ৩০টি সেক্টরের ৬৫টি সেতুর মধ্যে ৩৬টির কাজ শেষ হয়েছে এবং ২৪টির কাজ চলমান রয়েছে। বাকি পাঁচটি সেতু ঢাকা বাইপাস সড়কের মধ্যে থাকায় আলাদা করে বানানোর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে রাজউক।

প্রকল্প এলাকায় চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টার করা হচ্ছে, সেটিও এই বছরে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা।

ছাত্তার নামের এক নির্মাণ শ্রমিক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমি তো এক বছর ধরে এখানে কাজ করছি, যেভাবে কাজ চলছে তাতে এই ডিসেম্বর তো সম্ভবই না, আগামী ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয় কি-না দেখেন?’

আপনার মতামত লিখুন :