Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নাটুবাবুর জমিদার বাড়ি

সম্পত্তি দখলের পায়তারা স্বাধীনতাবিরোধীদের

সম্পত্তি দখলের পায়তারা স্বাধীনতাবিরোধীদের
বরিশালের এই জমিদার বাড়িটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, ছবি: বার্তা২৪
সিদ্দিকুর রহমান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বরিশাল
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরীর (নাটুবাবু) জমিদার বাড়িটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত। তবে এই বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের পায়তারা করছে স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের সহযোগীরা।

সম্প্রতি এ ঘটনায় স্থানীয় বাকেরগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন নাটুবাবুর ছোট ছেলে লন্ডন প্রবাসী বিপ্লব বহ্নি রায় চৌধুরী। জিডি নং ২৫২/১৯। একই সাথে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, জিডিতে স্থানীয় শান্তি কমিটির সহযোগী মৃত কাঞ্চন মাস্টারের ছেলে নিজামুল কাদির ও মো. রফিক হাওলাদারের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের পায়তারা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও শামিম হাওলাদার, শাহিন হাওলাদারসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই কাজে জড়িত আছে বলে অভিযোগ এই জমিদার পরিবারের।

সূত্র জানায়, বাকেরগঞ্জের শ্যামপুর গ্রামে আনুমানিক ১৬ শতকের দিকে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রসন্ন কুমার রায় চৌধুরী। ১৯ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত এই জমিদারির ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তাদের পঞ্চম বংশধর কুমোদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/19/1552990124721.jpg

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, আজন্ম বিপ্লবী জমিদার নাটুবাবু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর তিনি শ্যামপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘটিত করেন। এজন্য শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা দেন তিনি। তাই আজও বরিশাল অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নাটুবাবুর জমিদার বাড়িটি অত্যন্ত প্রিয়।

তারা আরও জানান, দেশ স্বাধীনের মাত্র দুই বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে স্থানীয় রাজাকার হাশেম আলী ও তার সহযোগীরা নাটুবাবুকে হত্যা করে। এরপর থেকে হারিয়ে যায় এই জমিদার বাড়িটির সোনালী ইতিহাস।

নাটবাবুর স্ত্রী ছায়া রায় চৌধুরী বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘স্বামী হত্যার পর আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেছিলাম। তিনি আমার স্বামী হত্যার বিচারের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। এমনকি আমাদের ৪ সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তিনিও বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারকে হত্যা করা হয়। এরপর আবারো অন্ধকার নেমে আসে আমাদের পরিবারের ওপর।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/19/1552990142177.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে স্বাধীনতাবিরোধীরা। তারা স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্নভাবে আমাদের ওপর হয়রানি করা হয়, যা এখনও চলছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে পরিবারটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ভরসার জায়গা, সেই পরিবারটিই এখন টিকে থাকতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধে বাকেরগঞ্জে ভুলু বাহিনীর নেতা ও বর্তমানে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নাটুবাবুর বাড়িটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেন নাটুবাবু। ওই সময়ে নানা অত্যাচার সহ্য করলে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশ থেকে সরে যাননি তিনি।’

এ সময় তিনি সরকারকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটি সংরক্ষণ করার দাবি জানান।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী সালেহ মুস্তানজির বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ওই পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত কোনো স্থাপনা ও সম্পত্তি যদি কেউ দখল করার পায়তারা করে তবে তা মেনে নেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষই উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য উপজেলা প্রশাসন সজাগ আছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ অবিচারের স্বীকার হননি: গণপূর্তমন্ত্রী

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ অবিচারের স্বীকার হননি: গণপূর্তমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রিয়া সাহার অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ অবিচারের স্বীকার হননি বলে দাবি করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে তিনি সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় একজনও গুম হয়নি। হিন্দু-মুমলিম-বৌদ্ধ সবার সহাবস্থান রয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ অবিচারের স্বীকার হননি। প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তা অসত্য এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। অসৎ কোন পরিকল্পনা থেকেও এটি করতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয়া বালার যেহেতু কোনো সম্পত্তি নেই, সেহেতু তার সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া কিংবা আগুন দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন মুসলিম মৌলবাদীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে- এটি সঠিক নয়, এটা অসত্য। আমার এলাকায় মৌলবাদীর অবস্থান নেই। সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘সাম্প্রতিক আমার গ্রাম চরবানিয়ারির প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বিবাহ সূত্রে যশোরের অধিবাসী। চরবানিয়ারি গ্রামে তিনি বসবাস করেন না, এবং এই গ্রামে তার কোনো সম্পত্তি নেই। এখানে তার বাবা ও ভাইয়ের সম্পত্তি আছে। তাদের একটা পরিত্যক্ত ঘরে রাতে আগুন লাগে, সেটি কেন্দ্র করে তার ভাই জগদিস বিশ্বাসের কেয়ার টেকার অমলেস বিশ্বাস একটি অভিযযোগ দায়ের করেন। কোনো ব্যক্তির নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এজহারে কোনো মৌলবাদীর কথাও উল্লেখ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রিয়া সাহার কোনো জমি কেউ দখল করেনি, আগুনও দেয়নি। জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছেন প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা মানবন্ধন করবেন। প্রিয়া সাহার এনজিও আছে, সেটির পিরোজপুর সভাপতি বলেছেন তার পিরোজপুর ইউনিট বিলুপ্ত করেছে। প্রিয়া সাহার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে।’

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের দুই মামলা খারিজ

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের দুই মামলা খারিজ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ করছেন প্রিয়া সাহা (বামে)/ ছবি: সংগৃহীত

১৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদনকৃত দুই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২১ জুলাই) সকালে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমানের আদালতে এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে এ মামলা দায়ের করেছিলেন।

ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দিবেন বলে জানিয়েছিলেন। বিকালে আদালত মামলার দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন।

আদালত তার আদেশে বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বাদী সরকারি লোক না হওয়ায় মামলাটি খারিজ করা হলো।

গত ১৮ জুলাই হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার বিশ্বের ১৯টি দেশের ২৭ জনের সঙ্গে কথা বলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রিয়া সাহার কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

প্রিয়া সাহা, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি এবং সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এরইমধ্যে উধাও হয়ে গেছে হয়েছে। এখনও এক কোটি ৮০ লাখ আছে। যার মধ্যে ১৭ লাখ শিশু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করে। আমাদেরকে সাহায্য করুন। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, জমি হারিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমার বাড়ি-ঘর দখল করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সরকার থেকে এর কোনো বিচার পাই নাই। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। আমরা বাংলাদেশ ছাড়তে চাই না। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।’

এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসা করেন, এসব কারা ঘটাচ্ছে? জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ইসলামী মৌলবাদী শক্তি। তারা সবসময়ই রাজনৈতিক ছত্রছায়া পেয়ে আসছে।’

মামলায় প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহী উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র