Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাকশালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

বাকশালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/ ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, দেশের উন্নয়নে সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে কাজে লাগানোর জন্য স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর কন্যা অওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১২ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাকশাল গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন মহলের চক্রান্তের মাঝে জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নেন, যে করেই হোক আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে, উন্নয়ন বাড়াতে হবে ও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাকশাল গঠন করেছিলেন। তখন সেটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য মহকুমাগুলোকে তিনি জেলায় রুপান্তরিত করেন। আমাদের মাত্র ১৯টি জেলা ছিল, তিনি ৬০টি জেলা করেন। সেখানে তিনি জেলা গভর্নর নিযুক্ত করেন। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা- এটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।’

পঁচাত্তরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘স্বাধনীতাবিরোধী ও তাদের আন্তর্জাতিক দোসররা যখন দেখল বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে, দমিয়ে রাখা যাবে না, ঠিক তখনি তারা তাদের চক্রান্ত শুরু হল।’

‘তারা যখন দেখল গণহত্যা করে বাঙালিকে ঠেকানো যায়নি, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে; এখন অর্থনৈতিকভাবেও বিজয় অর্জন করছে। তখনই পঁচাত্তরের আঘাত আসল। জাতির পিতার  বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অপপ্রচার চালানো শুরু হয়েছিল। তখন তিনি নির্বাচনে সকল দলকে একটি প্লাটফরমে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেছিলেন।’

বাকশালের শাসনামলে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ ছিল না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন তিনি (বঙ্গবন্ধু) যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন, সেখানে যার যার নির্বাচন সে সে করতে হবে। নির্বাচনের সমস্ত খরচ প্রত্যেকটা প্রার্থীর জন্য রাষ্ট্র থেকে দিয়ে দেওয়া হবে।’

‘একটি সিটে যারা যারা প্রার্থী হবে, তাদের সকলের নাম একটি পোস্টারে দেওয়া হবে। এই পোস্টার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছাপানো হবে। জনগণের সাথে প্রার্থীরা যোগাযোগ করবেন। এই যোগাযোগের মাধ্য দিয়ে জনগণ যাকে পছন্দ করবে তাকে ভোট দেবে। অর্থাৎ ভোটের অধিকার মানুষের কাছে যাতে পৌঁছায় এবং তারা যেন স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে সেই সুযোগটা তিনি সৃষ্টি করে দিতে চেয়েছিলেন।‘

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীতে ১৯টি ক্যু হয়েছিল। যেখানে হাজার হাজার সৈনিক-অফিসার হত্যা করা হয়েছিল। এরকমর পরিবেশ পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পরই শুরু হয়। কিন্তু জাতির পিতা যে পদ্ধতিটা নিয়েছিলেন, এটা যদি কর্যকর করা যেত, বাংলাদেশে কখনো আর কেউ জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে খেলতে পারত না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি মর্যাদার স্থান করে নিয়েছে। যা আমরা করেছিলাম মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে, তখন বাঙালি জাতি বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছিল।’

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে স্বাধীনতার পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হতে পারত বলে দাবি করেন সরকারপ্রধান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি পদকে ভূষিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাদের অবদান বর্ণনা করেন।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপনার মতামত লিখুন :

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে বেড়েছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে বেড়েছে পাসের হার ও জিপিএ-৫
প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে উঠেছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭২৯ জন শিক্ষার্থী।

গত বছর পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থী। ফলে চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই-ই বেড়েছে এই শিক্ষাবোর্ডে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আনারুল হক প্রামাণিক।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৮১ দশমিক ২১ শতাংশ। আর ছাত্রদের পাসের হার ৭২ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। ৩ হাজার ৫৪১ জন ছাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আর ছাত্রীরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১৮৮ জন।

সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আনারুল আরও জানান, রাজশাহী বোর্ডের অধীনে এবার ৭৫৮টি কলেজ থেকে ১ লাখ ৫১ হাজার ১৩৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫০ জন। ৭টি কলেজে পাসের হার শূন্য। ৩৪টি কলেজে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অকৃতকার্যদের মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছে ২৬ হাজার ৮২৮ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ১৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী- রাজশাহী বোর্ডের অধীনস্থ জেলাগুলোর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩৫ জন। নাটোর জেলায় পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৪ জন। নওগাঁ জেলায় পাসের হার ৬৯ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫২ জন।

পাবনা জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ২২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪২ জন। সিরাজগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪৬ জন। বগুড়া জেলায় পাসের হার ৮১ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ জন। জয়পুরহাট জেলায় পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৯ জন।

এদিকে, ফল ঘোষণার পর রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে উঠেছে। তারা ব্যান্ড বাজিয়ে উল্লাস করছে। অভিভাবকরা মিষ্টি হাতে কলেজে এসেছে। কৃতি শিক্ষার্থী ও কলেজের শিক্ষকদের মিষ্টি মুখ করাচ্ছে অভিভাবকরা।

সিলেটে বেড়েছে পাসের হার, জিপিএ-৫

সিলেটে বেড়েছে পাসের হার, জিপিএ-৫
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তুলে ধরছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ড/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই এবার ভালো ফল করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসে হার ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গত বছর পাসের ছিল ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ।

একই সঙ্গে গত বছরের থেকে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। সিলেট বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক হাজার ৯৪ জন। গত বছর  জিপিএ-৫  পেয়েছিলেন ৮৭৩ জন বলে জানান সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমদ।

এ বছর সিলেট ৭৬ হাজার ২৫১ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে মেয়ে ৪১ হাজার ৬০২ জন এবং ছেলে ৩৪ হাজার ৬৪৯ জন ।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ১২৪ জন। এদের মধ্যে ছেলে ২২ হাজার ৪৯০ জন এবং মেয়ে ২৮ হাজার ৬৩৪ জন।

এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৪৪ জন, মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র