Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অটোগ্রাফের বদলে সেলফিবাজদের ‘মধুর’ যন্ত্রণায় জাফর ইকবাল

অটোগ্রাফের বদলে সেলফিবাজদের ‘মধুর’ যন্ত্রণায় জাফর ইকবাল
ময়মনসিংহের বিভাগীয় বইমেলার মাঠে সেলফিবাজদের মধুর যন্ত্রণায় ড. জাফর ইকবাল, ছবি: বার্তা২৪
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ময়মনসিংহ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

স্মার্টফোন হাতে হাতে পৌঁছানোর পূর্বে বইমেলায় বসে বসে অটোগ্রাফ দিতেন কবি-সাহিত্যিক ও লেখকরা। ড. জাফর ইকবাল এর মতো বড় মাপের লেখকরা বই মেলায় আসা মানেই কাগজ কলম হাতে ভক্তের ছুটে যাওয়া। উদ্দেশ্য একটাই, অটোগ্রাফ।

কিন্তু হালের সময়ে সেই ধারায় ছন্দপতন ঘটেছে। ড. জাফর ইকবাল এখন অটোগ্রাফের বদলে সেলফিবাজদের শিকারে পরিণত হন। তাকে ঘিরে চলে অনবরত সেলফি তোলার হিড়িক।

এ নিয়ে অবশ্য মনে ব্যথা নেই জাফর ইকবালের। তবে সেলফি তোলার সময়ও তিনি সানন্দে লক্ষ্য রাখেন সেই তরুণ কিংবা তরুণীর হাতে বই রয়েছে কিনা। যখন হাতে বই না থাকে তখনই হাপিত্যেশ করেন বরেণ্য এই লেখক ও বুদ্ধিজীবী।

বইমেলার সেকাল-একালের এমন ব্যবচ্ছেদ ড. জাফর ইকবাল নিজেই করলেন। আর এই ব্যবচ্ছেদের মূল কারণটি ছিল, সোমবার (২৫ মার্চ) বিকেলে তিনি যখন ময়মনসিংহের টাউন হল মাঠে বিভাগীয় বইমেলায় আসেন, তখন থেকেই সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে তাকে ঘিরে। দীর্ঘ এক জটলায় তাকে সময় দিতে হয় অন্তত আধঘণ্টা। তবুও সেলফি তোলা যেন শেষ হয় না। মোবাইল ক্যামেরার ‘ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশ’ আওয়াজে মধ্যমণি হয়ে সবাইকে সেলফি তোলার সুযোগ দিয়েই যেন স্বাচ্ছন্দ্য তার।

সেলফিবাজদের পীড়াপীড়িতে এক পর্যায়ে ড. জাফর ইকবাল নিজেই বললেন, 'তোমরা শান্ত হও, তোমাদের সঙ্গে সেলফি না তুলে আমি এখান থেকে যাবো না।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/26/1553540509314.jpg

এক সময় যে জাফর ইকবাল অটোগ্রাফ দিতেন, এখন তাকে ঘিরে পড়ে যায় সেলফি তোলার ধুম। আর সেই কথাটিই বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে নিজে আওড়ে যান প্রবীণ এ শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, 'আমি বইমেলায় আগে বসে বসে অটোগ্রাফ দিতাম বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত। এখনো বসে থাকি, তবে অটোগ্রাফ দেওয়ার বদলে সেলফি তুলি। যারা আসে তারা ক্যামেরা নিয়ে ছবি তোলে। তারা বইকে ভালোবেসে আসে কিনা এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত না।'

গণিত অলিম্পিয়াডে ড. জাফর ইকবাল গেলে তিনি গণিত নিয়ে কথা বলতেন না, ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে গেলেও সেখানে সেই বিষয়ে কথা বলতেন না। জাফর ইকবাল নিজেই জানালেন এমন তথ্য। তিনি বললেন, 'বইমেলায় এসেছি তবে আজকে বই নিয়ে কিছু কথা বলতেই হবে। পৃথিবীতে সমস্ত মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একভাগ হচ্ছে যারা বই পড়ে এবং আরেক ভাগ যারা বই পড়ে না। যারা বই পড়ে তারা পৃথিবীকে চালায়। যারা বই পড়ে না তারা পেছনে পেছনে হাঁটে আর সেলফি তোলে। বই পড়া খুবই জরুরি ব্যাপার।'

তিনি বলেন, 'সব জায়গায় ছেলে মেয়েদের বলে বেড়াচ্ছি- প্লিজ তোমরা মানুষ হও। একজন মানুষ আরেকজনের দিকে তাকায়। ফেসবুকে তোমরা পোস্ট দিয়ে অপেক্ষায় থাকো, কত লাইক পড়লো? এটাকে জীবন বলে না। এই জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তোমরা কম্পিউটার হয়ে যেও না, তোমরা মানুষ হও। মানুষ হওয়ার সবচেয়ে সহজ নিয়ম বই পড়া।'

ড. জাফর ইকবালকে ঘিরে তরুণ তরুণীদের যে উন্মাদনা, সেই উন্মাদনায় মুগ্ধ হয়েছেন স্বয়ং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে অতিথিরাও। আর এ কারণেই কিনা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ড. জাফর ইকবাল হবেন আলোর মশাল। জাফর ইকবাল নেতৃত্ব দেবেন মুজিব বর্ষে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধী রোড মার্চে।

অনুষ্ঠান মঞ্চে সবার সামনেই স্বয়ং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু তাকে এই প্রস্তাব দিলেন। অবশ্য তার এ প্রস্তাবে না করার সুযোগ নেই ড. জাফর ইকবালের। কারণ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নিজের মুখেই বলেছেন, ‘স্বাধীনতার প্রতি তার (জাফর ইকবাল) রয়েছে দায়বদ্ধতা, রাষ্ট্র এবং পতাকার প্রতি তার গভীর আনুগত্য। আর তিনিই হবেন জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের মুখ্য হাতিয়ার, বিবেকের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।'

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কথা রাখলেন ড. জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নেমে ফের চলে গেলেন অপেক্ষারত সেই তরুণ-তরুণীদের কাছে। অত:পর শিকার হলেন সেলফিবাজদের ‘মধুর’ যন্ত্রণায়।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে রোলারচাপায় চালক নিহত

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে রোলারচাপায় চালক নিহত
প্রতীকী

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে চলন্ত রোলারের নিচে চাপা পড়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩) নামে রোলারচালক নিজেই মারা গেছেন। নিহত জাহাঙ্গীর চুকনগর এলজিআরডিতে মাস্টার রোলে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের চলমান খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নগরীর নাজিরঘাট এলাকার মৃত ছবেদ আলীর ছেলে।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল সরকার জানান, সন্ধ্যায় ডুমুরিয়া মিকশিমিল এলাকায় রোলারচালক জাহাঙ্গীর রোলারটি পেছনের দিকে নেওয়ার সময় হঠাৎ করে পড়ে যান। এ সময় চলন্ত রোলার তার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

এরপর তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে বাদাম চাষিদের স্বপ্ন

তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে বাদাম চাষিদের স্বপ্ন
ডুবে গেছে তিস্তা চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত। ছবি: বার্তা২৪.কম

আষাঢ়ের শুরুতেই পানি বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীতে। ভাঙতে শুরু করেছে নদীর পাড়ও। এতে রংপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বাদাম ক্ষেত। আর কদিন পর ঘরে তোলা হতো এসব ক্ষেতের ফসল।

রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাউনিয়ার ঢুষমাড়া, গদাই, বিশ্বনাথপুর, মধুপুর, ভূতছড়া, শাব্দি, ট্যাপা এবং গঙ্গাচড়ার মহিপুর, বালাপাড়া, মোহালি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় নদীর ধু-ধু বালুচরে ফলানো বাদাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষিরা।

চাষিদের দাবি, ফলন ভালো হলেও পানিতেই ভেসে গেছে তাদের স্বপ্ন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561390346277.jpg

বিশ্বনাথপুর গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'এবার অনেক আশা নিয়ে বাদাম চাষ করেছি। কিন্তু ঘরে তোলার আগেই পানিতে সর্বনাশ হলো। এখন ঋণ পরিশোধ করা কষ্টকর হবে।'

একই এলাকার মর্জিনা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'বাদাম তোলা হইলো ন্যা, সোগ (সব) পানির তলোত ডুবি গেছে। সংসার চালাইতে কষ্ট হইবে। ছাওয়াগুল্যার (সন্তান) খরচা দিতে দেরি হইবে।'

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক বার্তা২৪.কমকে জানান, রংপুরে প্রায় ৬৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। যার বেশির ভাগই নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে তিস্তায় হঠাৎ পানি বাড়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বার্তা২৪.কমকে জানান, বছরের পর বছর তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে বাদাম চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে তিস্তা নদী খনন ও নদী শাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বার্তা২৪.কমকে জানান, কিছু জায়গায় ড্রেজিং করা হয়েছে। তবে পুরো তিস্তায় ড্রেজিং করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র