আলুর বস্তায় কারচুপি, চাষিদের লোকসান শত কোটি টাকা

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর, বার্তা২৪.কম
আলুর বস্তা ভর্তি করছে শ্রমিকরা / ছবি: বার্তা২৪

আলুর বস্তা ভর্তি করছে শ্রমিকরা / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে অভিনব কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন রংপুরের আলু চাষিরা। উচ্চ আদলতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে চাষিদের ঠকাচ্ছেন তারা। হিমাগারে ৫০ কেজি ধারণ ক্ষমতার বস্তা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয় না। ফলে কৃষকদের প্রতি বস্তায় ৫-৭ কেজি আলু বেশি দিতে হচ্ছে। আর এতে প্রতি মৌসুমে চাষিদের লোকসান হচ্ছে প্রায় শত কোটি টাকা।

তবে হিমাগার মালিকদের, দাবি বস্তা সংকটের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/31/1554031893100.jpg

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুরের ৫১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদিত আলুর প্রায় ৭৫ ভাগ বা ৮ লাখ ৭ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন হিমাগারে রাখার কথা। আর এ জন্য এক কোটি ৬১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০টি বস্তার প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাপের চেয়ে বড় বস্তা ব্যবহার করায় প্রতি বস্তায় ৫-৭ কেজি আলু বেশি দিতে হয়। এতে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন আলু গচ্ছা যায় চাষিদের। যার বাজার দর (১২ টাকা কেজি) প্রায় একশ কোটি টাকা।

রংপুরের শাহ আমানত স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের শ্রমিক কাওসার আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আলু ভর্তি করতে আমরা বস্তা প্রতি পাই ৫ টাকা। কিন্তু ৫০ কেজির বেশি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বস্তাতে আলু সংরক্ষণ করায় আমাদের লোকসান হচ্ছে।’

মাহিগঞ্জের আলু চাষি সোহেল খন্দকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আলুর দাম কম থাকলে এমনিতেই বস্তাপ্রতি ১/২ কেজি আলু বেশি দিতে হয়। কিন্তু বস্তার আকার বড় হলে চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/31/1554031924133.jpg

এ বিষয়ে হিমাগার মালিক ও রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বস্তা সংকটের কারণে পুরাতন বস্তা কেটে আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় হয়তো বস্তার ধারণক্ষমতা ৫০ কেজির পরিবর্তে ৫৫-৬০ কেজি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ হিমাগারে আদালতের নির্দেশনা মেনেই আলু সংরক্ষণ ও ক্রয় করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, রংপুর অঞ্চলে এখনো প্রকৃত ওজনের পরিবর্তে বস্তা হিসেবে আলু বিক্রি হয়। প্রতিটি ভর্তি বস্তার ওজন ধরা হয় ৫০ কেজি। কিন্তু হিমাগার মালিকরা পাটকলে অর্ডার দিয়ে বড় বস্তা তৈরি করেন। ফলে প্রতি বস্তায় ৫৫-৬০ কেজি আলু ভর্তি করা হলেও ধরা হয় ৫০ কেজি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চাষিরা ঠকে আসছেন।

আপনার মতামত লিখুন :