Alexa

ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, ফাঁক গলে ঢুকছে ফেনসিডিল

ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, ফাঁক গলে ঢুকছে ফেনসিডিল

ছবি: সংগৃহীত

মাদকের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। এরপর থেকেই ইয়াবা বিরোধী অভিযানে জোর দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত র‌্যাব পুলিশের হাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় ৩০০ জন মাদক কারবারি। শুধু র‌্যাবের হাতেই গত এক বছরে গ্রেফতার হয়েছে ২১ হাজার ৭৫৭ জন। ইয়াবার অবাধ প্রবেশে যখন এত কড়াকড়ি, ঠিক তখনই ফাঁক গলে ঢুকছে ফেনসিডিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ কোনো মাদকের প্রতিরোধে যখন প্রায় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তখন অন্য মাদকের ওপর নজরদারি কিছুটা কমে যাওয়ায় অনায়াসে ঢুকছে ফেনসিডিল।

র‌্যাব সদরদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে তারা উদ্ধার করেছে ৯১ হাজার ৩৫৮টি বোতল ফেনসিডিল। গত ৩ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৬২ হাজার ৪৩১টি ফেনসিডিল উদ্ধারসহ একই সময়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬১ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করে এই এলিট ফোর্স।

র‌্যাব বলছে, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ফেনসিডিল জব্দ বেড়ে গেছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সংস্থাটি ৩২ হাজার ২১৫ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৬৯৮ বোতল বিদেশি মদ, ১১৭ লিটার বাংলা মদ জব্দ করেছে। যা গত বছরের প্রথম ৩ মাসের তুলনায় অনেক বেশি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, সীমান্তবর্তী ১৮ জেলার ১২৩ পয়েন্ট দিয়ে দেশে আসছে অবৈধ এই ফেনসিডিল চালান। ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, আফিম, মদ ও ইনজেকশনসহ এমন কয়েকটি মাদক আসে ভারতের সীমান্তবর্তী ১৭ জেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ৩৬ পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসে ইয়াবা।

ইয়াবা ঠেকাতে গিয়ে ফেনসিডিল প্রবেশ বেড়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান শুধু ইয়াবা কেন্দ্রিক হয়, বিষয়টা এমন না। ইয়াবা আর ফেনসিডিলের রুট আলাদা আলাদা। দুটো দু’ভাবে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটা ঠিক যে, অনেক সময় যখন একটি মাদকের ওপর নজরদারি বেড়ে যায়। তখন অন্য মাদকের প্রবেশ পথ সহজ হয়। ঝুঁকি এড়াতে মাদক কারবারিরা তখন সহজ পথ বেছে নেয়।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (ঢাকা উত্তর) মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বলতে গেলে আমরা সবাই গত এক বছর ধরে ইয়াবার ওপর বেশি নজর দিয়েছি। এই সুযোগে ফেনসিডিলের প্রবেশ বেড়েছে। কোনো এক দিকে বিশেষ নজর দিলে অন্য মাদকের চালান বেড়ে যায়। তবে আমরা সব মাদক চালানের ওপর নজরদারি সমানভাবে রেখেছি।’

র‌্যাবের সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘র‌্যাবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে মাদক সংশ্লিষ্ট একটি। র‌্যাব শুরু থেকেই ইয়াবা বিরোধী অভিযানের ওপর জোর দেয়। গত বছরের ৩ মে থেকে এটা আরও জোরদার করা হয়। এখন যখন ইয়াবার পাশাপাশি অন্য মাদকদ্রব্য আসছে, তখন এটার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে ফেনসিডিল জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন: নিত্য নতুন রুট-মুখের ব্যবহারে ইয়াবা পাচার অব্যাহত

আপনার মতামত লিখুন :