Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, ফাঁক গলে ঢুকছে ফেনসিডিল

ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, ফাঁক গলে ঢুকছে ফেনসিডিল
ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মাদকের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। এরপর থেকেই ইয়াবা বিরোধী অভিযানে জোর দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত র‌্যাব পুলিশের হাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় ৩০০ জন মাদক কারবারি। শুধু র‌্যাবের হাতেই গত এক বছরে গ্রেফতার হয়েছে ২১ হাজার ৭৫৭ জন। ইয়াবার অবাধ প্রবেশে যখন এত কড়াকড়ি, ঠিক তখনই ফাঁক গলে ঢুকছে ফেনসিডিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ কোনো মাদকের প্রতিরোধে যখন প্রায় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তখন অন্য মাদকের ওপর নজরদারি কিছুটা কমে যাওয়ায় অনায়াসে ঢুকছে ফেনসিডিল।

র‌্যাব সদরদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে তারা উদ্ধার করেছে ৯১ হাজার ৩৫৮টি বোতল ফেনসিডিল। গত ৩ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৬২ হাজার ৪৩১টি ফেনসিডিল উদ্ধারসহ একই সময়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬১ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করে এই এলিট ফোর্স।

র‌্যাব বলছে, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ফেনসিডিল জব্দ বেড়ে গেছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সংস্থাটি ৩২ হাজার ২১৫ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৬৯৮ বোতল বিদেশি মদ, ১১৭ লিটার বাংলা মদ জব্দ করেছে। যা গত বছরের প্রথম ৩ মাসের তুলনায় অনেক বেশি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, সীমান্তবর্তী ১৮ জেলার ১২৩ পয়েন্ট দিয়ে দেশে আসছে অবৈধ এই ফেনসিডিল চালান। ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, আফিম, মদ ও ইনজেকশনসহ এমন কয়েকটি মাদক আসে ভারতের সীমান্তবর্তী ১৭ জেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ৩৬ পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসে ইয়াবা।

ইয়াবা ঠেকাতে গিয়ে ফেনসিডিল প্রবেশ বেড়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান শুধু ইয়াবা কেন্দ্রিক হয়, বিষয়টা এমন না। ইয়াবা আর ফেনসিডিলের রুট আলাদা আলাদা। দুটো দু’ভাবে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটা ঠিক যে, অনেক সময় যখন একটি মাদকের ওপর নজরদারি বেড়ে যায়। তখন অন্য মাদকের প্রবেশ পথ সহজ হয়। ঝুঁকি এড়াতে মাদক কারবারিরা তখন সহজ পথ বেছে নেয়।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (ঢাকা উত্তর) মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বলতে গেলে আমরা সবাই গত এক বছর ধরে ইয়াবার ওপর বেশি নজর দিয়েছি। এই সুযোগে ফেনসিডিলের প্রবেশ বেড়েছে। কোনো এক দিকে বিশেষ নজর দিলে অন্য মাদকের চালান বেড়ে যায়। তবে আমরা সব মাদক চালানের ওপর নজরদারি সমানভাবে রেখেছি।’

র‌্যাবের সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘র‌্যাবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে মাদক সংশ্লিষ্ট একটি। র‌্যাব শুরু থেকেই ইয়াবা বিরোধী অভিযানের ওপর জোর দেয়। গত বছরের ৩ মে থেকে এটা আরও জোরদার করা হয়। এখন যখন ইয়াবার পাশাপাশি অন্য মাদকদ্রব্য আসছে, তখন এটার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে ফেনসিডিল জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন: নিত্য নতুন রুট-মুখের ব্যবহারে ইয়াবা পাচার অব্যাহত

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
গ্রেনেড হামলায় আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর এবং মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর শিববাড়ি রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়।

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমা ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর-রহমান শান্ত'র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আ'লীগের সহ-সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু।

এতে সংগঠনের সহ-সভাপতি হোসাইন জিল্লু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই দানবীয় এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিকল্পিত সে হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে এই গ্রেনেড হামলার যে রায় হয়েছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে।'

প্রতিবাদ সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম
মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের আয়েশি ঘুম/ছবি: শাহরিয়ার তামিম

রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা চলছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন স্থানীয়, সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলায় ব্যস্ত। তবে অনুষ্ঠানের এ মঞ্চে দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলেন একজন। আর তিনি হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে তিনি দফায় দফায় ঘুম দিচ্ছেন। কখনও ঘুমে দুলুনি খাচ্ছেন, কখনও আবার হঠাৎ চমকে উঠছেন। কোনো কোনো সময় মুখ হা করে বিরাট হাই তুলছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566400999878.jpg

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় এমন আয়েশি ভঙ্গিতে ধরা পড়লেন সচিব হেলালুদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401016016.jpg

মন্ত্রীর কারণে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় আরও দেরিতে। এরপর মন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসেন সচিব হেলালুদ্দীন আর বাম পাশে বসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভার শুরুতে মেয়র কথা বলার পর বক্তব্য শুরু করেন মন্ত্রী। তার বক্তৃতার পুরো সময় সচিব কখনো হাই তুলেছেন, আবার কখনো দুই হাত বুকের ওপর রেখে ভঙ্গিতে ঘুম দিয়েছেন। মাঝে মাঝে দুই চোখ খুললেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। মন্ত্রী যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন মাঝে মাঝেই সচিব চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401037611.jpg

সম্প্রতি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন কর্মকর্তারা বেশ দৌড়ের ওপর রয়েছেন। ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনাও সইতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। এর মধ্যে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে সরকারের একজন আমলার এভাবে ঘুমানোকে বেমানান বলছেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:  রোববার থেকে চিরুনি অভিযান, লার্ভা পেলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের..

ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দুঃখ..

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র