Alexa

সেফহোমে থাকা ভারতীয় চার নারীর দেশে ফেরার আকুতি

সেফহোমে থাকা ভারতীয় চার নারীর দেশে ফেরার আকুতি

চার নারীর দেশে ফেরার আকুতি, ছবি: বার্তা২৪

পার্বতী। বয়স ৪৪। ভারতের তামিলনাড়ুর থিরুনিলভেলি শহরের বাসিন্দা। রাজশাহীর সেফহোম এখন তার ঠিকানা। ভাষা না জানায় তার সাথে যোগাযোগও করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। ফলে ভাষার জালে বন্দি তিনি। ভাষা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারেনি ৯ বছরেও।

রাজশাহীর সেফহোমই এখন তার ঠিকানা। আশায় দিন গুনছেন পার্বতী। হয়তো একদিন তিনি নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন। শুধু পার্বতীই নয়, রাজশাহী সেফহোমে রয়েছে পার্বতীর মত আরও চারজন ভারতীয় নারী।

রাজশাহীতে মহিলা ও শিশু নিরাপদ আবাসনে (সেফহোম) এখন হেফাজতির সংখ্যা ১২৪ জন। তবে এদের মধ্যে এই চার নারী একটু আলাদা। তাদের কথা কেউ বোঝেন না। শুধু নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে কথা বলেন। আর সেফহোম কর্তৃপক্ষের কাছে ইশারায় ঘরে ফিরতে চান। কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা ভারতীয় নাগরিক।

চার নারীর মধ্যে দুইজনের আসল নাম জানা গেছে। তারা হলেন, পার্বতী (৪৪) ও সাবিত্রি সিং (৫০)। অপর দুই নারীর নাম রেখেছে সেফহোম কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৩০বছরের এক নারীর নাম রাখা হয়েছে মমতা।

৬০ বছরের আরেক নারীর নাম রাখা হয়েছে অদিতি। পার্বতী ভারতের তামিলনাড়ুর থিরুনিলভেলি শহরের বাসিন্দা। আর মমতার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে।

বাকি দুইজনের বাড়ি ভারতের কোথায় তা জানে না সেফহোম কর্তৃপক্ষ। একমাত্র মমতা একটু বাংলা জানেন। কিন্তু কথা বলতে চান না। বাকিরা কোন ভাষায় কথা বলেন তা কেউ বলতে পারে না।

ফলে তাদের ঘরে ফেরাতে পারছেন না সেফহোম কর্তৃপক্ষ। তবে তারা চারজন নিজেরা নিজেদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তাই সেফহোমের বন্দি জীবনে তারা একে অপরের খুব প্রিয়।

দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় উদ্ধার হওয়া পার্বতী ২০১২ সালের ২৪ জুলাই থেকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকার এই সেফহোমে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

এছাড়া গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা থেকে উদ্ধার সাবিত্রি ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে উদ্ধার অদিতি ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর এবং রংপুরের তারাগঞ্জ থেকে উদ্ধার মমতা গত বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে সরকারি এই সেফহোমে আছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পার্বতীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে তারও সেফহোম থেকে একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। সে নাম ছিল পারুল। সেফহোমে আসার পর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন।

কিন্তু পারুলের কোনো কথা বোঝেন না তারা। ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহীতে ‘বাংলাদেশ-ভারত জেলা প্রশাসক-জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক’ ছিল। এতে যোগ দিতে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার শ্রী সি সুধাকর। তাকে পারুলের সঙ্গে দেখা করাতে সেফহোমে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি সেফহোমে গিয়ে কথা বলে পার্বতীর নাম, ঠিকানা নিশ্চিত হন। পার্বতীর বাবার নাম সিলাতুদামা। মায়ের নাম কল্যাণী। পার্বতীর স্বামী মারা গেছেন। কোনো সন্তান নেই তাঁর।

পার্বতী ভারতীয় পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রেনে উঠেছিলেন। তারপর দিনাজপুর চলে আসেন। আর কিছু মনে নেই। অস্পষ্ট বাংলায় মমতাও জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন। তারও কিছু মনে নেই। অন্য দুইজন কীভাবে এসেছেন তা জানা যায়নি। তবে তারা ঘরে ফিরতে কান্নাকাটি করেন। কিন্তু ৯ বছরেও তাদের বাড়ি ফেরা হয়নি।

সেফহোমের আনসার সদস্য জাকিয়া সুলতানা জানান, এই চার নারী শুধু কান্নাকাটি করেন। অনেক সময় বলেন ‘ঘরমে যায়েগা’। ইশারায় গেট খুলে দিতে বলেন।

সেফহোমের দেখাশোনা করা লাইজু বেগম বলেন, ‘চারজনের মধ্যে শুধু মমতা একটু বাংলা জানেন। সেটাও অস্পষ্ট। তিনি কথা বলতে চান না। শুধু কান্নাকাটি করেন। অন্য তিনজনের ভাষার নাম কি তা তিনিও জানেন না।’

 

আপনার মতামত লিখুন :