Alexa

জোড়া ইলিশ ৮ হাজার!

জোড়া ইলিশ ৮ হাজার!

ইলিশ কিনতে বাজারে ঘুরছেন ক্রেতারা, ছবি: বার্তা২৪.কম

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। পুরাতনকে ঘিরে নতুনত্বের জয়গানে হাজারো ছন্দ-কবিতা ও প্রাণের উচ্ছ্বাসে বছর ঘুরে আসছে বাংলা নতুন বছর। বৈশাখকে ঘিরে প্রতি বছর ঘরে ঘরে নানান আয়োজন হয়। মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর এসব আয়োজনের একটি বিশেষ আয়োজন হলো পান্তা-ইলিশ। বর্তমানে বৈশাখ মানেই মাটির সানকিতে পান্তা-ইলিশ খাওয়া। তাইতো বৈশাখের এ সময়টায় ইলিশের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ইলিশের আকাশচুম্বি দাম হাঁকেন। বাজার ভরা ইলিশ থাকলেও খুলনায়ও এই ঘটনার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২ কেজি ওজনের ১ জোড়া ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ হাজার টাকা।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে সরেজমিনে নগরীর কেসিসি সান্ধ্য বাজার ঘুরে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে এখানে। একইসাথে বাজারে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ইলিশের দাম। তবে, মৌসুম না হওয়ায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হিমায়িত ইলিশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/13/1555097716094.jpg

ইলিশের ব্যবসায়ী বারেক সরদার বার্তা২৪.কম কে বলেন, '২ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ জোড়ার দাম সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, ২ কেজির একটু কম ওজনের জোড়া প্রতি ৩ হাজার, দেড় কেজির জোড়া প্রতি ২হাজার ৫শ, ১ কেজির জোড়া প্রতি ২ হাজার, ১ কেজির নিচের ইলিশ বিভিন্ন দামে বিক্রি করছি। এবার বাজারে মাছ আছে কিন্তু ক্রেতা নেই। গত বছর আমরা কয়েকমাস আগে থেকে ইলিশ মাছ সংরক্ষণ করেছিলাম, কিন্তু শেষ মূহুর্তে বাজারে বিক্রি কম হওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। তাই এবার আগে থেকে বেশী মাছ রাখিনি। এ বছর যে মাছ ২ হাজার টাকা বিক্রি করছি, সেই মাছই আগেরবার সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলাম'।

কেসিসি সান্ধ্য বাজারের সভাপতি মোজাফফর হোসেন বার্তা২৪.কম কে বলেন, 'বৈশাখের এ সময়টা ইলিশের একটু দাম বাড়ে। কিন্তু তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকে। ইলিশের মৌসুম না থাকায় এখন ইলিশ সংরক্ষণ করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। যে কারণে মাছের একটু দাম না বাড়ালে আমাদের ব্যবসায়ীদের লাভ থাকবেনা'।

একইভাবে নগরীর রূপসা পাইকারী মৎস্য আড়ত, রূপসা সান্ধ্য বাজার, নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার, ৫ নম্বর ঘাট এলাকার মোকাম, টুটপাড়া জোড়াকল বাজারসহ সব বাজারেই ইলিশের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/13/1555097699343.jpg

এদিকে বাজার ঘুরে হতাশ হয়ে অনেকে ক্রেতাকেই ইলিশ মাছের পরিবর্তে অন্য মাছ কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। ক্রেতাদের দাবি, পহেলা বৈশাখের এ সময়টায় ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেট করে মাছের দাম বৃদ্ধি করে।

খালিশপুর থেকে ইলিশ কিনতে আসা মিলন খান অনুযোগের সুরে বলেন, 'সন্ধ্যা থেকে ৩টা বাজারে ঘুরলাম। সব বাজারেই ইলিশের দাম খুব বেশী। নিম্নবিত্ত তো দূরের কথা, মধ্যবিত্তরাও এখন বৈশাখের ইলিশ খেতে পারবেনা। বৈশাখ যে শুধু ধনীদের, তা বাজারে আসলে বোঝা যায়'।

ইলিশের আরেকজন ক্রেতা দীপিকা রানী রায় বলেন, 'বাঙলা নববর্ষ আসবে আর ইলিশ-পান্তা খাবোনা তা তো হয়না। তাই অনেক ঘুরে ২ হাজার টাকায় মিডিয়াম সাইজের দু’টো মাছ কিনলাম। কিন্তু ইলিশের বাজার বেসামাল। ইলিশ কিনতে এসে আমরাও বেসামাল হয়ে যাচ্ছি'।

মাছে-ভাতে বাঙালির ইলিশ-প্রীতি যেনো বৈশাখের একটি অনন্য উপাদান। এখন পান্তা-ইলিশ ছাড়া বৈশাখ আমেজ জমে না। শহুরে পরিবেশে পান্তা-ইলিশ এখন অনেকটা শখের ব্যাপার। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরাও বাড়তি কিছু আয় করে নেয়।

আপনার মতামত লিখুন :